১৮০ কোটি টাকায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কিনবে সরকার
Published: 25th, February 2025 GMT
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করবে সরকার। এ বিষয়ে একটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এসব গম কিনতে ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড.
সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৫০ হাজার (+৫%) মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপত্র জমা পড়ে। চারটি প্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স অ্যাস্টন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস এ সুইজারল্যান্ড এসব গম সরবরাহ করবে।
প্রতি মেট্রিক টনের দাম ২৯৫.২১ মার্কিন ডলার হিসেবে ৫০ হাজাম মেট্রিক টন গম কিনতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৮০ কোটি ৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। প্রতি কেজি গমের দাম পড়বে ৩৬.০১৫৬ টাকা।
ঢাকা/হাসনাত/রফিক
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম ট র ক টন গম দরপত র ৫০ হ জ আমদ ন সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করার হুমকি।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বুধবার হোয়াইট হাউজ কার্যালয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সর্বশেষ শুল্ক আরোপ ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং ৩ এপ্রিল থেকে শুল্ক বাবদ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপ মে বা তার পরে শুরু হবে।
আরো পড়ুন:
সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারতকেই কালো তালিকায় ফেলার সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে
ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনলেই শুল্ক আরোপ করবেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের জন্য ‘অসাধারণ প্রবৃদ্ধি’ আনবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য গাড়ি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, দাম বৃদ্ধি পাবে এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেবে।
গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আট মিলিয়ন গাড়ি আমদানি করেছে, যা বাণিজ্যে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার এবং মোট বিক্রয়ের প্রায় অর্ধেক।
মেক্সিকো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির শীর্ষ বিদেশী সরবরাহকারী, তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা এবং জার্মানি। ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী গাড়ি বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে উল্টে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
অনেক মার্কিন গাড়ি কোম্পানি মেক্সিকো ও কানাডায়ও কাজ করে, যা এই তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে প্রতিষ্ঠিত।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই আদেশ কেবল প্রস্তুত গাড়ির ক্ষেত্রেই নয়, গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যা প্রায়শই অন্যান্য দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজনের আগে পাঠানো হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা, জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটি স্থায়ী।”
তিনি বলেন, “আপনি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার গাড়ি তৈরি করেন তবে কোনো শুল্ক নেই।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, তার সরকার শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় সব বিকল্পে গুরুত্ব দেবে।
জাপান, যা বেশ কয়েকটি প্রধান মোটর শিল্পের জায়ান্টের আবাসস্থল, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ।
টোকিওতে প্রাথমিক লেনদেনে টয়োটা, নিসান, হোন্ডা সহ জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের শেয়ারের দাম কমেছে।
ট্রাম্প আমেরিকান ব্যবসাগুলোকে রক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি ব্যাপক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো দেশীয় ব্যবসাগুলোকে রক্ষা করতে পারলেও, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোর জন্য খরচও বাড়িয়ে দেয়, যেমন গাড়ি নির্মাতাদের ক্ষেত্রে।
অ্যান্ডারসন ইকোনমিক গ্রুপের মতে, বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম হাজার হাজার ডলার বেড়ে যেতে পারে, কেবল মেক্সিকো ও কানাডা থেকে যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে গাড়ির ওপর নির্ভর করে ৪,০০০-১০,০০০ ডলার খরচ বৃদ্ধি পাবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের ঘোষণাকে তার দেশ এবং এর গাড়ি শিল্পের ওপর ‘সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের ক্ষতি করবে, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে একসাথে থাকার মাধ্যমে আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠব।”
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন বলেছেন, যে কোনো সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভোক্তাদের সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
তিনি আরো বলেন, “ইইউ তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করার সাথে সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।”
ঢাকা/ফিরোজ