‘একটা ছেলে এসেছিল দেখা করতে; বাঁকা দাঁত, মিষ্টি হাসি। এক শুটিং হাউসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়েছিল। মাত্র ১৫ মিনিট আমরা কথা বলি, এরপর সে চলে যায়; যাওয়ার সময় মনে হলো, আমার হৃদয়ের একটা অংশ যেন চলে গেল।’ গতকাল দুপুরে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে এভাবেই ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। জানিয়েছেন ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল আদনান আল রাজীবের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। তখন কি জানতেন, ১৩ বছর পর রাজীবের সঙ্গেই চিরস্থায়ী বন্ধনে বাধা পড়বেন।

গতকাল দুপুরে দেওয়া পোস্টে মেহজাবীন জানিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে প্রযোজক–পরিচালক আদনান আল রাজীবকে বিয়ে করেছেন তিনি। গতকাল রাজধানী অদূরে একটি রিসোর্টে ছিল ‘বিবাহ অনুষ্ঠান’।

মেহজাবীন লিখলেন বাঁকা দাঁত, মিষ্টি হাসির সেই ছেলের সঙ্গে প্রেমের গল্প

বিয়ের ১০ দিন পর ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন। আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৩ বছর পর, আমরা এখানে পৌঁছেছি। আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি, সব সাফল্য একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেছি, দুঃসময় পেরিয়ে এসেছি। সাত বছরের বন্ধুত্ব নাকি আজীবন স্থায়ী হয়; আমরা প্রায় দ্বিগুণ সময় পার করেছি। ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের বন্ধন চিরস্থায়ী হয়েছে, শপথ করেছি হাত হাত রেখে চলব। আদনান আল রাজীব, জীবনের সেরা বন্ধু হিসেবে তোমাকে পছন্দ করেছি।’

জীবনের এই নতুন পথচলায় ভক্ত, অনুসারীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন মেহজাবীন। পোস্টের সঙ্গে হ্যাশট্যাগে ৪৬৯৪ দিন লিখেছেন অভিনেত্রী। এটা দিয়ে তিনি হয়তো আদনানের সঙ্গে সম্পর্কের মোট দিনকে বুঝিয়েছেন।

বিয়ের পাঁচটি ছবি প্রকাশ করে মেহজাবীনের দেওয়া পোস্টে শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁর ভক্ত, অনুসারী থেকে তারকারা। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় মেহজাবীনের পোস্টের প্রতিক্রিয়া এসেছে ২ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি, মন্তব্য এসেছে ২২ হাজারের বেশি, শেয়ার হয়েছে প্রায় ৯ হাজার। ছবিতে কফি রঙের প্লেইন শেরওয়ানি পরেছিলেন আদনান আল রাজীব, মেহজাবীনকে দেখা গেছে চাপা সাদা লেহেঙ্গায়।

অবশেষে বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন

মেহজাবীন ফেসবুকে বিয়ের ছবি প্রকাশ করার পর বিভিন্ন সূত্রে গতকালের রিসোর্টে হওয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। যেখানে মালাবদলের পর মেহজাবীন ও আদনানকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। এক পর্যায়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন মেহজাবীন। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে এদিন হাজির হয়েছিলেন গীতিকার কবির বকুল, নির্মাতা আশফাক নিপুন, মোস্তফা কামাল রাজ, নুহাশ হুমায়ুন, সংগীতশিল্পী এলিটা, অভিনয় শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম, তাসনিয়া ফারিণ, তানজিন তিশা, সাবিলা নূরসহ অনেকে।

একই জায়গায় গত রোববার মেহজাবীন ও আদনানের গায়েহলুদ ও মেহেদি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ছবি তোলায় বিধিনিষেধ ছিল। তবে এত কড়াকড়িতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঠিকই ফাঁস হয়েছে মেহজাবীন চৌধুরীর গায়েহলুদের একাধিক স্থিরচিত্র।

আদনান আল রাজীব ও মেহজাবীন চৌধুরী। ফেসবুক থেকে.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ন ম হজ ব ন অন ষ ঠ ন ফ সব ক গতক ল

এছাড়াও পড়ুন:

মধ্যযুগের স্থাপনার অনন্য নিদর্শন নারায়ণগঞ্জের বন্দর শাহি মসজিদ

শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবস্থিত বন্দর শাহি মসজিদ। মধ্যযুগের স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ। কালো ব্যাসেল্ট পাথরের মসজিদের গায়ে লাগানো শিলালিপিতে মসজিদের নির্মাতা ও নির্মাণকাল সম্পর্কে জানা যায়, ১৪৮১-৮৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের রাজত্বকালে মালিক আল মুয়াজ্জেম বাবা সালেহ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

১৯২০ সালের ২৬ নভেম্বর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রাচীন এই মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেছেন। মসজিদটিতে স্থানসংকুলান না হওয়ায় পূর্ব দিকে স্থানীয় উদ্যোগে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য বারান্দা নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঝুঁকির কারণে ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ পাশে নতুন তিনতলা মসজিদ নির্মাণ করা হলে প্রাচীন মসজিদটিতে নামাজ পড়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৫৫০ বছর আগে নির্মিত মসজিদটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ আসেন।

চুন-সুরকি দিয়ে ইটের তৈরি বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ এটি। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতি বুরুজ এবং তার ওপর ছত্রী আছে। চার কাতারে প্রাচীন মসজিদটিতে একসঙ্গে ৬০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে নতুন মসজিদে একসঙ্গে ৫০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

৩৪ বছর ধরে বন্দর শাহি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মনিরুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নিখুঁত হাতে বন্দর শাহি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মুসল্লিরা প্রাচীন এই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে শীতের সময় গরম এবং গরমের সময় ঠান্ডা অনুভব হতো। পুরোনো হওয়ায় ঝুঁকি বিবেচনায় এবং মেঝে নিচু হওয়ার কারণে বর্ষায় পানি ওঠায় ১৯৯৭ সালে প্রাচীন মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় ৫৫০ বছর আগে নির্মিত মসজিদটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ আসেন

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ড. ইউনূস ও বাংলাদেশের জনগণকে ট্রাম্পের শুভেচ্ছা
  • আমি আর জিৎ ৬ বছর একসঙ্গে ছিলাম: স্বস্তিকা
  • চার বছর পর একসঙ্গে আফজাল ও মৌ
  • হামলায় পিঠাপিঠি তিন বোন একসঙ্গে নিহত, এক কবরে দাফন
  • একসঙ্গে গলায় ফাঁস নিলেন স্বামী-স্ত্রী 
  • মধ্যযুগের স্থাপনার অনন্য নিদর্শন নারায়ণগঞ্জের বন্দর শাহি মসজিদ
  • তিন শহীদ বোনের স্মৃতি নিয়ে শুরু শিল্প প্রদর্শনী
  • ‘দেশ যেদিন স্বাধীন হলো, সেদিনই ছিল সত্যিকার ঈদের মতো’
  • নাজমুল–লিটনদের কোচ থাকছেন সিমন্সই
  • সেকালের হাট এবং ঈদের ব্যস্ততা নিয়ে কিছু কথা