নোয়াখালী সদর উপজেলায় বসতঘরে ঢুকে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত নারীর নাম তাসলিমা বেগম (৫৪)। আজ সোমবার রাত আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কে বা কারা ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরিবারের দাবি, হয়তো ডাকাতি করতে এসে ডাকাতেরা তাঁকে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত নারীর ছোট ভাই আহসান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ির একটি ঘরে তাঁর বোন তাসলিমা বেগম একাই থাকতেন। আজ রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নয়টার দিকে তিনি এশার নামাজের জন্য অজু করে ঘরে ফেরেন। এরই মধ্যে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান আশপাশের ঘরের বাসিন্দারা। তাৎক্ষণিক তাঁরা ছুটে এসে দেখেন ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বোন পড়ে আছেন। একই সময় ঘরে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র (ধামা) পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আহসান উল্লাহ জানান, প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর বোনকে উদ্ধার করে জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের কোনো শত্রু নেই। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। হয়তো কেউ ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তাঁর বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ‌ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বাড়ির কেউ দেখেনি। তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছেন। ‌এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ভূমিকম্পে মসজিদ ধসে মিয়ানমারে নিহত ৩

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। পরে সেখানে আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। দ্বিতীয় ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। এতে দেশটির একটি মসজিদ ধসে অন্তত তিন মুসল্লি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।

আজ স্থানীয় সময় শুক্রবার আঘাত হানা এই জোড়া ভূমিকম্পে মিয়ানমারে বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বাগোর তুয়াঙ্গো শহরে মসজিদ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, যখন কম্পন শুরু হয় তখন আমরা প্রার্থনা করছিলাম। মসজিদ ধসে তিনজন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন।

মিয়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানেও কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। মিয়ানমারের এই ভূমিকম্প ব্যাংককে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং কম্পনের তীব্রতায় নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটি খাড়াভাবে ধসে পড়ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ভবনটিতে ৫০ জন কাজ করছিলেন। যার মধ্যে সাতজন বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু আটকে পড়েন ৪৩ জন। যাদের উদ্ধারে এখন ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ