অনেক শিবির নেতা আগে ছাত্রলীগের পদধারী ছিল: রিজভী
Published: 24th, February 2025 GMT
সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির অভিযোগ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভেতর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। কিন্তু মানুষ এটিও জানে ছাত্রশিবিরের বর্তমান অনেক নেতা পূর্বে ছাত্রলীগের পদধারী ছিল।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দল আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সব দলেরই রাজনৈতিক ইতিহাস জাতি জানে। তাই সুষ্ঠু রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত।
এ সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক রেষারেষি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বিদায় হলেও দেশের দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিরসনে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
আগামীতে সংস্কৃতিচর্চায় কোনো বাধা আসবে না জানিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের যত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি রয়েছে, সবই পালিত হবে। কোনোটাই বন্ধ হবে না। পরিকল্পিতভাবে আমাদের সংস্কৃতি বন্ধ করা যাবে না।
যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান সরকার, তাদের জন্য এই সরকার উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু করছে না বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করেন বিএনপির এই সিনিয়য় নেতা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ
.উৎস: SunBD 24
কীওয়ার্ড: ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারী পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে জিলা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়। কর্মসূচিতে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও উপস্থিত ছিলেন।
আধা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রায় সবার হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লেখা ফেস্টুন। তাঁরা আবরারের হত্যাকারীদের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। আগে থেকেই পলাতক (জিসান, তানিম, রাফিদ) ও সদ্য পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বলা হয়, এ রকম স্পর্শকাতর একটি মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন, যা খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা।’
মানববন্ধনে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আমি চাই না আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। আর কোনো বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ উঠুক। দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করে দেশের মানুষকে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল করে তুলতে হবে।’
জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর জেলাতে মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের ইন্ধনে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এর পেছনে ছিলেন। যাঁরা আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিতে ফিরতে হবে এবং ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মানববন্ধনে অংশ নেওয়াদের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আবরারের প্রশ্নে তাঁরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আবরারের হত্যাকারী ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি যেমন নিষিদ্ধ হয়েছে, তাদের পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগকেও সেভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তা না হলে আবরারের আত্মার শান্তি মিলবে না।
মানববন্ধনে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে আছে পলাতক সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে; সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিনিধিদল কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন।