‘তিনটি মোটরসাইকেলে ৭ জন এসে গুলি করে, তখন দৌড়াতে থাকি’
Published: 24th, February 2025 GMT
‘বাসার গেটে মোটরসাইকেল রাখামাত্র তিনটি মোটরসাইকেলযোগে সাতজন এসে আমাকে গুলি করে। তখন আমি দৌড়াতে থাকি। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে সোনাসহ টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঢাকার বনশ্রী ডি ব্লকে ৭ নম্বর বাসায় গুলি করে স্বর্ণালংকার লুট করার ঘটনার এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন (৪৩)। গতকাল রোববার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে দোকান বন্ধ করে ডি ব্লকে বাসায় ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
আনোয়ার হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দুই ঊরুতে দুটি ও অণ্ডকোষের নিচে একটি গুলি লাগে। হা, পা ও ঊরুতেও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে আহত করে রেখে যায়। পরে স্বজনেরা রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো.
গতকাল রোববার রাতে বনশ্রী এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলছে, দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা হয়।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ গতকাল বলেন, ওই ব্যবসায়ীর দোকান বনশ্রী ডি ব্লকে। প্রতিদিন তিনি দোকান থেকে রাতে বাসায় ফেরেন। গতকাল বাসায় যাওয়ার সময় তাঁকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা সন্ত্রাসীরা ঘিরে ধরে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
ওসি আতাউর রহমান আরও বলেন, আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছোড়ে এবং ছুরিকাঘাত করে। তাঁর শরীরে গুলি ও কোপের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক বা চিহ্নিত করা যায়নি।
ওই ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাঁর কাছ থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনবনশ্রীতে বাসার সামনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি, ‘২০০ ভরি স্বর্ণালংকার’ ছিনতাই১২ ঘণ্টা আগেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স বর ণ ল ক র গতক ল ব যবস
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদ ঘিরে কাপড়ের ব্যবসায় মন্দাভাব
আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি নবীগঞ্জের কাপড়ের বাজারে। ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে থান কাপড় ব্যবসায় মন্দাভাব। মাত্র দিন দু’এক পরেই ঈদ। তাতে নবীগঞ্জের বিভিন্ন বিপণিবিতানে পোশাক ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বাড়লেও বেচাকেনা সেভাবে হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার আগে থেকে প্রস্তুতি ছিল থান কাপড় ও থ্রিপিস ব্যবসায়ীদের। এবারের ঈদে থান কাপড়ের দোকানগুলোর বেশির ভাগই ক্রেতাশূন্য। ফলে ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে কাপড়ের দোকানগুলোতে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কাপড় দেখে, দরদাম করলেও দামে মিলছে না অধিকাংশের। এতে আশানুরূপ কেনাবেচা হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নবীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ বছর ঈদকে সামনে রেখে অন্যবারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাপড় দোকানে তুলেছেন তারা। বিশেষ করে থান কাপড়ের ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই বেশি করে কাপড় কিনেছেন। কারণ, অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় থান কাপড় আগে বিক্রি হয়। কিন্তু এবার বাজারে ক্রেতা কম। ১ রমজান থেকে ২০ রমজান এই সময়টায় বেশি কাপড় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ২৭ রমজান চলে গেলেও এবার প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। সন্তোষজনক কেনাবেচা না হওয়ায় হতাশ কাপড় ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতারা জানান, ঈদের বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ এখনও বিদ্যমান। সাধারণ মানুষ অর্থসংকটে রয়েছেন। এ ছাড়া থান কাপড় কিনে পোশাক তৈরিতে সময় ও সেলাই খরচ বেশি হয়।
পশ্চিমবাজার এলাকার একটি শপিংমলের কর্মচারী আলাউর রহমান বলেন, সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ক্রেতার বাজেট তো আর বাড়েনি। এ কারণে কেনাবেচা কম হচ্ছে। বাড়তি দাম দিয়ে থান কাপড় কিনতে হয়। গত রমজান থেকে এবার দেশি কাপড়ে গজপ্রতি প্রায় ১০ টাকা ও বিদেশি কাপড়ে ৪০ টাকা বেড়েছে। সব খরচ মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের পোশাকের দাম বাড়াতে হচ্ছে।
শহরের মধ্যে থান কাপড়সহ অন্য কাপড়ের ছোট ও মাঝারি দুটি দোকান আছে কাওসার আহমদের। তিনি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছেন। এভাবে চললে চাপের মুখে রয়ে যাবেন।
নবীগঞ্জ বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ শোয়েব আহমদ চৌধুরী জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন কেনাবেচা আশানুরূপ হচ্ছে না। তারা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত কেনাবেচা ভালো হবে।