রোজার আগেই লেবুর বাজার চড়া, ৪০ টাকার কমে ১ হালি লেবু মিলছে না
Published: 24th, February 2025 GMT
রোজার আগেই লেবুর বাজার চড়া হয়ে গেছে। এখন ৪০ টাকার কমে ১ হালি লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। নানা জাতের ১ হালি লেবুর দাম এখন ৪০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে। এক পিস লেবুর দাম পড়ে সর্বনিম্ন ১০ টাকা। ফলে লেবুর ক্রেতাও কমেছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে লেবুর চড়া দামের চিত্র পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে রমজান মাস শুরু হচ্ছে। রমজান মাসে ইফতারে লেবুর শরবত অন্যতম প্রধান পানীয়। ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার কাছে ইফতারে লেবুর শরবতের চাহিদা থাকে। গত দুই সপ্তাহে লেবুর দাম হালিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
আজ সোমবার সকালে কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এখন তিন জাতের লেবু বেশি মিলছে। আকারে বড় শরবতি লেবুর ১ হালির দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ১টির দাম পড়ে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। শরবতি লেবু কলম্বো লেবু নামেও পরিচিত। এই লেবুকে সিলেটের লেবু হিসেবেও বলেন অনেক বিক্রেতা।
আরেকটু কম দামে লেবু চান। তাহলে চোখ ফেলতে হবে ছোট আকারের কাগুজি লেবুর দিকে। কারওয়ান বাজারে ১ হালি কাগুজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
আরও কম দামে চাইলে এখন টাঙ্গাইলের এলাচি লেবুই ভরসা। এলাচি লেবুর দাম হালিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ২০ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের (সবজির) ব্যবসা করেন কামাল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়, তাই দাম চড়া। আড়তে ১ পিস লেবু ৯ টাকার কমে মিলছে না। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ, রোজায় লেবুর চাহিদা ৮ থেকে ১০ গুণ বেড়ে যায়। মৌসুম নয়, এমন সময় রোজার মাস পড়েছে। তিনি জানান, আগামী চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর ভরা মৌসুম।
লেবুর মৌসুম শুরু হতে আরও এক মাসের মতো সময় লাগবে।
আজ সকালে রাজধানীর হাজিক্যাম্প এলাকার বাজার গিয়েও দেখা গেছে, লেবুর দাম বেশ চড়া। এই বাজারে এলাচি লেবুই বেশি। বিক্রেতারা ১ হালি এলাচি লেবুর দাম হাঁকছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আবার শরবতি লেবু ১০০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে না।
বিক্রেতারা জানান, বর্ষার সময় লেবুর ভরা মৌসুম। তবে বৈশাখ মাসে বৃষ্টি বাদল শুরু হলেই লেবুর মৌসুম শুরু হতে থাকে। শুকনা মৌসুমে লেবুর উৎপাদন তলানিতে থাকে।
এ বিষয়ে উত্তরার বাসিন্দা ও চাকরিজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, সামনে রোজা আসছে। রোজায় বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারে লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করেন। কিন্তু এবার লেবুর বেশি দামের কারণে ইফতার থেকে লেবুর শরবত বাদ দিতে হবে।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে ইফতারে নানা পদের সম্ভার, ভিন্ন স্বাদ নিতে ক্রেতাদের ভিড়
প্রাচ্যের ড্যান্ডি–খ্যাত শিল্প ও বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জে আগে ইফতারে খেজুর, বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, শরবত ও দেশীয় ফলের প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইফতারে নানা পদের খাবার যুক্ত হয়েছে। রোজায় অভিজাত রেস্তোরাঁসহ খাবার হোটেলগুলোতে নানা পদ ও স্বাদের ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোর সামনে শামিয়ানা টাঙিয়ে শতাধিক ধরনের ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়েছে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন বেলা দুইটার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
সারা দিন রোজা শেষে পরিবারের সঙ্গে ভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় করছেন অনেকে। তবে ইফতারসামগ্রীর দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ক্রেতা। এসব দামি খাবার কেনার আবার অনেকের সামর্থ্য নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধ্যা প্লাস, আনন্দ রেস্তোরাঁ, মনির হোটেল, সুইট নেশন, গ্র্যান্ড হোটেল, লাভিস্তা, হোয়াইট হাউজ, আলম কেবিনসহ শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোতে রোজার শুরু থেকে ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে ইফতার কেনার জন্য ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁতেই রয়েছে রেশমি জিলাপি, বোম্বাই জিলাপি, মাটন হালিম, পেশোয়ারি হালিম, আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা বুট, ডিম চপ, ভেজিটেবল রোল, টানা পরোটা, চিকেন সাসলিক, হারিয়ালি কাবাব, চিকেন বল, মাস্টার্ড চিকেন, জালি চিকেন, কিমা পরোটা, চিকেন কাটলেট, হানি চিকেন, চিকেন স্টিপস, কেশর পেস্তা শরবত, মহব্বত-ই-শরবত, বাকলাভা, গোলাপজামন বেক ইয়োগাট, লাবাং, তন্দুরী চিকেন, দই, জর্দা, ফালুদা, ফিরনিসহ শতাধিক পদের ইফতারি।
নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় সুইট নেশনের ইফতার সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের ভিড়