গাজীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীকে (৯) যৌন হয়রানির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে গাজীপুর নগর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই যুবকের নাম হাসান আলী। তিনি পটুয়াখালীর নৌমালা এলাকার বাসিন্দা ও গাজীপুর নগরের একটি ছবি তোলার স্টুডিওতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, মাদ্রাসার কাজের প্রয়োজনে ওই ছাত্রী গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্টুডিওটিতে ছবি তুলতে যায়। কিন্তু আধা ঘণ্টা হলেও বাড়ি না ফেরায় সেখানে শিশুটিকে খুঁজতে যান তার বাবা। সেখানে গিয়ে দেখেন, ভেতরে কক্ষের দরজা হালকা চাপানো। আর কেউ নেই। পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে হাসানকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁকে আটকে পুলিশকে খবর পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

এ ঘটনার পর ওই শিশুশিক্ষার্থীর বাবা যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বাসন থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার আহাম্মেদ।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

‘মুক্তপ্রদীপের মতো’ জ্বলে আছে বরুণের ফুল

ভোরের আলো ফুটেছে অনেক আগেই। সেই অর্থে মানুষের জেগে ওঠার সরবতা তখনো ছড়িয়ে পড়েনি। চারপাশে সুনসান স্তব্ধতা গা এলিয়ে আছে। ছিটেফোঁটা দু-চারজন করে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন, পথে হাঁটছেন। মনু নদের পাড়টি আরও নীরব, জনমানবহীন শান্ত একটুকরা নির্মল হাওয়ার ভূমি হয়ে আছে। তখন ‘সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ/ সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে, সেখানে বরুণ...।’

জীবনানন্দ দাশের নাটার রঙের মতো রাঙানো সূর্যের জেগে ওঠার এই মুহূর্তে একফালি মনু নদ কি আর গঙ্গাসাগরের মতো কোনো উপমার সঙ্গে সমান হতে পারে, চলতে পারে! তা না-ই হলো, তবু সেখানে গঙ্গাসাগরের বুকের কাছে যেমন বরুণ থাকে, তেমনই এখানেও এই মনু নদের পাড়ে চুপি চুপি, শাখায় শাখায় ফুলের বন্যা নিয়ে জেগে আছে বরুণের গাছ।

বসন্তের সকাল, মৃদু বাতাসে তখনো কিছুটা ঠান্ডার মতো ভাব আছে। সময় উড়ছে সকালের নরম রোদের পালকে। এ রকম একটা সময়ে পথ চলতে চলতে মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস সড়কের ভৈরব থলির কাছে পৌঁছেই দেখা হয়ে যায় তার সাথে, তাহাদের সাথে। ‘বাসা তোমার সাতসাগরের ঘূর্ণী হাওয়ার বুকে!/ ফুটছে ভাষা কেউটে ঢেউয়ের ফেনার ফণা ঠুকে!/ প্রায়ণ তোমার প্রবালদ্বীপে, পলার মালা গলে/ বরুণরানি ফিরছে যেথা, মুক্তপ্রদীপ জ্বলে।’ অনেকটা তা–ই, গাছের শাখায় শাখায় সবুজ পাতার ফাঁকে মুক্তপ্রদীপের মতো জ্বলে আছে সাদা, গোলাপি, সবুজের মিশ্রণে অসংখ্য বরুণ ফুল।

ফুলটির পোশাকি নাম বরুণ হলেও আরও অনেক নাম আছে। যেমন: বৈন্যা, শ্বেতপুষ্প, কুমারক, সাধুবৃক্ষ, শ্বেতদ্রুম।

বছর ঘুরে বরুণ রানির ফেরাটা এ রকমই মনে হয় রাজকীয়, এ রকমই জাঁকজমকের। গাছজুড়ে ফুটে আছে ফুল। দু-চারটা শালিক, ঘুঘু পাখি উড়ে আসছে, ফুলের ওপর বসছে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। ফোটা ফুলের পাপড়িরা বাতাসের আহ্লাদে টুকটুক করে ঝরে পড়ছে গাছের নিচে। পাপড়ির নকশিকাঁথা যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে ঘাসের ওপর। বেশ বড়সড় ঝাঁকড়া মাথার গাছ। ডালগুলোও চারদিকে ডানা মেলে আছে। পাশেই মনু নদ। হয়তো কোনো একদিন এই নদের পানিতে ভেসে এসেছিল এই বরুণগাছের ফল। সেই পাকা ফলটি চরের মতো জেগে থাকা পাড়ের মাটিতে আশ্রয় পেয়ে গাছ হয়ে মাথা তুলেছে। তারপর বসন্তের মাঝামাঝি এলেই ডালে ডালে ফুলের জলসা বসছে।

ওখানেই, বরুণগাছটির কাছে এই সাতসকালে দেখা শহরের সৈয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা সাংস্কৃতিক সংগঠক শৈলেন রায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, গাছটি বেশ অনেক বছর ধরে দেখছেন। তবে গাছে যে এত ফুল ফোটে এবং এই গাছের নাম যে বরুণ, তা আগে সেভাবে খেয়াল করেননি। গাছটির বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর বা এর আশপাশে হতে পারে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, গাছটি এখানে কেউ রোপণ করেননি, গাছটি এমনিতেই গজিয়ে উঠেছে। গাছটি কারও হাতে কাটা পড়েনি বলে এখনো ফুলে ফুলে সাজতে পারছে।

বরুণ গাছের সবচেয়ে পছন্দের আবাসই হচ্ছে জলাভূমি এলাকা

সম্পর্কিত নিবন্ধ