ওমরায় ২ এজেন্সির বিরুদ্ধে ঢাবি কর্মকর্তার হেনস্তার অভিযোগ
Published: 23rd, February 2025 GMT
বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে ওমরা পালন করতে মক্কা ও মদিনায় নিয়ে গিয়ে আবাসন, পরিবহণ ও আর্থিকসহ নানা ধরনের হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক কর্মকর্তা।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় এর বিরুদ্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে হজ্জ ও ওমরার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান জানান তিনি।
ভুক্তভোগী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রিন্সিপ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেট অফিসার সৈয়দা খাদিজা বেগম। তিনি প্রথমে ‘মুজদালিফা’ নামের একটি হজ্জ এজেন্সির মাধ্যমে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জমা দিয়ে ওমরা করার সমস্ত প্রস্তুতি নেন। তবে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পরে ওই এজেন্সি ‘মা আম্বিয়া ট্যুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে অন্য আরেকটি এজেন্সির কাছে তাদের বুঝিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ভিন্ন ভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়৷
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, “গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে আমি সৌদি এয়ারে ঢাকা ত্যাগ করি। জেদ্দায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। তখন এক মোয়াল্লেম আমাদের একটি বাসে নিয়ে উঠান। সেখান থেকে ভোগান্তির শুরু হয়। বাসে উঠা মাত্রই পাসপোর্ট নিয়ে রেখে দিয়ে বাসভাড়া দাবি করেন। পরে জোর করে বাসভাড়া নেন এবং পাসপোর্ট আটকে রাখেন।”
তিনি বলেন, “খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে টাকা বাঁচানোর চেষ্টায় একেবারে নিম্নমানের খাবার দেয় এজেন্সিগুলো। মক্কায় তুলনামূলক ভালো খাবার দিলেও মদিনায় অধিক লাভের আশায় খারাপ খাবার দেয়। এছাড়াও ওমরায় গাইড হিসেবে থাকা মুয়াল্লিম নিজের মর্জিমতো আমাদের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে নিয়ে যায়। এমনও হয়েছে, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে আমাদের বাইরে নিয়ে যান তিনি। অথচ সেখানে তুলনামূলক কম রোদের সময়ও নিতে পারতেন।
এজেন্সির সহায়তায় ওমরা করতে গিয়ে ইবাদতের পরিবর্তে অতিরিক্ত চিন্তা করতে হয় জানিয়ে ভুক্তভোগী খাদিজা বলেন, “আমাদের বলা হয় হেরেম শরীফের একদম পাশে বাসা দেবে। কিন্তু গিয়ে দেখি অনেক দূরে একটি গলির ভেতরে বাসা দেয়। এছাড়াও এমন বাসায় দেয়, যেখানে তিনজনের থাকার কথা থাকলেও আমাদের পাঁচজনকে এক রুমে রাখে। মহিলাদের ওয়াশরুম বিড়ম্বনাতেও পড়তে হয় এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হজ্জ এজেন্সিগুলোর প্রতারণার প্রতিকার দাবি জানিয়ে খাদিজা আরো বলেন, “হজ্জ এজেন্সিগুলোর ভুয়া লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এক এজেন্সির মানুষ অন্য এজেন্সি নিতে পারবে না মর্মে কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে।”
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হজ্জ এসেন্সি ‘মুজদালিফা’র পরিচালক হাবিবুর রহমানের মুঠোফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ‘মা আম্বিয়া ট্যুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর পরিচালক মো.
যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য গ কর আম দ র
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্প নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণ কী
ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাজেভাবে ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি প্রতারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
তবে তার আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের প্রায় অর্ধেক বলেও তিনি দাবি করেছেন। এটিকে তিনি তার দেশের জন্য মুক্তির দিন বলে অভিহিত করেছেন। এই দিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিল বলেও জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সেই হিসেবে (অন্যদের তুলনায়) পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের পুনর্জন্মের দিন এবং আজ আমেরিকা পুনরায় সম্পদশালী হল।
তবে ট্রাম্পের এমন পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হবে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেনে নেওয়া যাক, কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করা হলো-
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে তা উল্লেখ করে, এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করল সেই তালিকা তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি