পুলিশ কোনো দলের তল্পিবাহক হয়ে বেআইনি কাজ করবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Published: 23rd, February 2025 GMT
সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
পুলিশ কোনো দলের তল্পিবাহক হয়ে বেআইনি কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহীতে ৪০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সব নাগরিকের, কোনো দলের নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো সম্প্রদায়ের নয়। বাংলাদেশ পুলিশ প্রজাতন্ত্রের স্বাধীন কর্মচারী, যারা সুনির্দিষ্ট আইন মেনে চলেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করবে। তারা কোনো দলের তল্পিবাহক হয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা তাদের অন্যায্য ও অন্যায় নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে অপেশাদার আচরণ ও বেআইনি কাজ করবে না। আজকের এই সমাপনী অনুষ্ঠানে আপনারা এই শপথে বলীয়ান হবেন।
এর আগে ৪০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন তিনি। এই ব্যাচের মোট ৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন যাদের অন্তত চার মাস আগে সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। নানা জটিলতায় সেটি আটকে যায়। অবশেষে বিভিন্ন অভিযোগে এ ব্যাচের ৬ শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অব্যাহতি পান। আজকের কুচকাওয়াজে বাকি ৫৭ জন এবং ৩৮তম বিসিএসে পুলিশের ৩ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশ নেন।
কুচকাওয়াজের শোভা বর্ধনের জন্য তাদের সঙ্গে একাডেমির অন্য প্রশিক্ষণার্থীরা মোট ১০টি কনটেইনজেন্টে বিভক্ত হয়ে সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগ দেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে.
এসময় অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ, আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ
উৎস: SunBD 24
কীওয়ার্ড: ক জ করব
এছাড়াও পড়ুন:
মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ
অষ্টম হিজরির রমাদান মাসে মুসলিমগণ বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন এক নারী রাসুলের (সা.) কাছে এসে প্রবল উৎসাহে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি অত্যন্ত দরদের সঙ্গে জানান, ‘আল্লাহর রাসুল, আমার স্বামী প্রাণের ভয়ে ইয়েমেনের দিকে পলায়ন করেছে। আমি আপনার কাছে তাঁর নিরাপত্তা ভিক্ষা চাইছি। যদি নিশ্চিত করেন তবে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারি।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘যাও, তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হলো।’ এই নারী হলেন উম্মু হাকিম বিনতে হারিস (রা.)। তার মা ফাতিমা বিনতে ওয়ালিদ হলেন খ্যাতিমান বীর সাহাবি খালিদ ইবনে ওয়ালিদের (রা.) বোন। (ইমাম ইবনুল আসির, উসদুল গাবা: ৭/৩০৯)
উম্মু হাকিম জন্মগ্রহণ করেন এমন এক পরিবারে যা ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিষাক্ত দুর্গ। তার পিতা হারিস ইবনে হিশাম ইসলামের কঠোর শত্রু এবং চাচা কুখ্যাত আবু জাহেল। অবশ্য পিতা হারিসও মক্কা বিজয়ের দিন মুসলমান হন।
আরও পড়ুনরমজানে মহানবীর (সা.) কোরআন অনুশীলন১৮ মার্চ ২০২৫উম্মু হাকিম বিয়ে করেন তাঁর চাচাতো ভাই আবু জাহেলের পুত্র ইকরিমাকে। উম্মু হাকিম তার জন্যই নিরাপত্তা চান রাসুলের (সা.) কাছে।
স্বামীর প্রতি উম্মু হাকিমের ছিল সীমাহীন ভালোবাসা। তিনি জানতেন যে তাঁর স্বামীর অপরাধ অমার্জনীয়। শ্বশুর আবু জাহেলের মৃত্যুর পর তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইকরিমা মুশরিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। উহুদ যুদ্ধেও কাফেরদের প্রথমসারির সেনাপতি ছিলেন। এমনকি মক্কা বিজয়ের দিন মামা খালিদ বিন ওয়ালিদের (রা.) নেতৃত্বে যে দল মক্কায় প্রবেশ করেছিল তাদেরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি কুরাইশ যুবকদের নিয়ে।
মক্কা বিজয় সম্পন্ন হলে ইকরিমা প্রাণ নিয়ে ইয়েমেনের দিকে পালিয়ে যান। রাসুল (সা.) ইকরিমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে উম্মু হাকিম তাঁর এক দাসকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। ইকরিমা ততক্ষণে লোহিত সাগরে ইয়ামেনগামী নৌকায় চেপে বসেন। কিন্তু প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ে পড়ে প্রার্থনা করেন, ‘আল্লাহ, ওয়াদা করছি, যদি আমাকে এ বিপদ থেকে মুক্তি দেন তবে নিজেকে মুহাম্মদের (সা.) সামনে পেশ করব। তিনি বড় দয়ালু ও ক্ষমাশীল।’
আরও পড়ুনমহানবীর (সা.) ইতিকাফ২০ মার্চ ২০২৫ঝড় থেমে গেলে নৌকা কূলে এসে ভেড়ে এবং উম্মু হাকিম তাকে দেখে জানান রাসুলের (সা.) নিরাপত্তার কথা। ইকরিমা স্ত্রীর সঙ্গে রওনা হয়ে রাসুলের সামনে উপস্থিত হন। রাসুল (সা.) তাঁকে দেখে উষ্ণতা মাখানো সম্বোধনে বললেন, ‘স্বাগতম, হে ভিনদেশগামী আরোহী।’
ইকরিমা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসুল (সা.)-কে অনুরোধ করেন তাঁর পূর্বের অপরাধগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে। রাসুল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেন। এর পর তাঁর জীবনে এক মহাবিপ্লব সাধিত হয়। যত তীব্রতার সঙ্গে তিনি ইসলামের বিরোধিতা করেছিলেন, তার চেয়েও বেশি উদ্দীপনার সঙ্গে তিনি ইসলামের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে মুসলমানরা সিরিয়া আক্রমণ করলে ইকরিমা (রা.) উম্মে হাকিম (রা.)-কে নিয়ে সিরিয়ার অভিযানে গমনকারী মুজাহিদ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান এবং আজনাদাইনের যুদ্ধে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
উম্মে হাকিম (রা.) বিদেশ বিভুঁইয়ে বিধবা হয়ে যান। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর প্রথম যুগে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবি খালিদ ইবনু সাঈদের (রা.) সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় চারশ দিনার মোহরের বিনিময়ে মারজুস সফর নামক স্থানে। স্থানটি দামেস্কের নিকট অবস্থিত। সে সময় মুসলিম বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। একটি পুলের নিকট (বর্তমানে যাকে উম্মে হাকিমের পুল বলা হয়) অলিমার আয়োজন করা হলো। লোকজন খাওয়া শেষ করেনি, এমন সময় রোমকরা হামলা করে বসে। খালিদ বিন সাঈদ (রা.) বেরিয়ে যান এবং লড়াই করে শহিদ হন।
উম্মে হাকিম (রা.) স্বামীর শাহাদাতের দৃশ্য দেখছিলেন, যার সঙ্গে কেবল বিয়ে হলো। তিনি নিজেও তারপর হাতের কাছে পাওয়া তাঁবুর খুঁটি উঠিয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং রোমকদেরকে সাড়াশির মতো আক্রমণ চালান। এমনকি যুদ্ধে তিনি সাতজন রোমক সৈন্যকে হত্যা করলেন। (ইমাম ইবনুল আসির, উসদুল গাবা: ৭/৩০৯)
এরপর ওমর (রা.) তাঁকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির একটি একটি কন্যা সন্তান হয় ফাতিমা বিনতে উমর। উম্মু হাকিম (রা.) চতুর্দশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
আরও পড়ুনরমজানে মহানবীর (সা.) দানশীলতা২১ মার্চ ২০২৫