Samakal:
2025-04-04@14:34:27 GMT

নওফেলের হিসাবে শতকোটি টাকা

Published: 22nd, February 2025 GMT

নওফেলের হিসাবে শতকোটি টাকা

সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে ‘চট্টলদরদি’ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু তাঁর ছেলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ৪১টি হিসাবে ১১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা জমা এবং ৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পায় দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহারে সন্দেহজনক এ লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল মামলাটি দায়ের করেন।
যদিও নওফেল তাঁর আয়কর নথিতে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ৮১০ টাকার স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ৬১৮ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী ইমার বিরুদ্ধে ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
মেয়র রেজাউল ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ: মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এম রেজাউল করিম চৌধুরী সহজ-সরল হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু মেয়র হওয়ার পর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ফাইল থেকে ৫ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও তিনি চসিকে কোন অনিয়ম–দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে বারবার দাবি করেছেন। কিন্তু দুদক তার বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওয়াকফ সম্পত্তির খাস কালেকশনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। দুদক তার বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছে। 
অপর তিন কাউন্সিলরের মধ্যে জিয়াউল হক সুমন চট্টগ্রাম বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় টেন্ডারবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও কালোবাজারি করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বাণিজ্য, টেন্ডারবাজিসহ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া এবং কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধে সরকারি পাহাড় বিক্রি করা, চসিকের অর্থ আত্মসাতসহ না অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম। শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা জানান। 

থাইল্যান্ডের রাজধানীতে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিক্রম মিশ্রি বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ বলেন, ভবিষ্যতে ভারত এমন এক গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে নির্বাচনের একটি ভূমিকা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয়াদিল্লি সবসময় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে ‌‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়েছে। দুই প্রতিবেশীর ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত সর্বদা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে। ভারত বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। আমাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে জনগণের।

বিক্রম মিশ্রি জানান, সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধ, বিশেষ করে রাতে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকানো সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস অনুরোধ করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, শেখ হাসিনার যে বিষয়টি আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে অনুরোধ এসেছে, সে বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। আর আমাদের যে মুখপাত্র, তিনি এই বিষয়ে আপনাদের অবগত করেছেন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদন এসেছিল। তা নিয়ে আর কিছু বলা আমার এখন সমীচীন হবে না।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়মিত অন্তর্ভক্তিমূলক নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও অধ্যাপক ইউনূসকে অবগত করেছেন। জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে পাব। এ ব্যাপারে নির্বাচনের একটি ভূমিকা আছে, তা সবাই জানেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ