‘বিতর্ক শুধু যুক্তির লড়াই নয়, মানুষের চিন্তার গভীরতা তৈরি করে’
Published: 22nd, February 2025 GMT
বিতর্ক মানুষের ভাবনাকে আরও গভীরে নিয়ে যায়। বাংলাদেশের বিতর্কচর্চা নিয়ে লেখা বই এ দেশের বিতর্কের ইতিহাসের দলিল। ‘অন্তহীন বিতর্কযাত্রা: একটি আত্মজীবনীর খসড়া’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উঠে এল এ কথাগুলো।
লন্ডনপ্রবাসী সম্প্রচার সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক বুলবুল হাসান নিজের বিতর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে বইটি লিখেছেন। আজ শনিবার সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই বই শুধু আত্মজীবনীমূলক নয়, এটি এক অর্থে বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযাত্রার দলিল, যা নতুন প্রজন্মের বিতার্কিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।’
অর্থনীতিবিদ ও লেখক সেলিম জাহান, যিনি ১৯৭০-এর দশকে টেলিভিশন বিতর্কের চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, বইটির ওপর তাঁর মূল্যায়ন দিতে গিয়ে বলেন, ‘বিতর্ক শুধুমাত্র যুক্তির লড়াই নয়, এটি মানুষের চিন্তার গভীরতা ও মানবিক বোধকে প্রসারিত করার মাধ্যম। এই বই সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরেছে।’
বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘এই বই আমাদের বিতর্ক আন্দোলনের ইতিহাসকেও ধারণ করে। এটি বিতার্কিকদের জন্য একধরনের পথনির্দেশিকা হয়ে উঠবে।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও সাবেক বিতার্কিক মাহফুজ মিশু। বইটির প্রকাশক সুবর্ণ প্রকাশনীর প্রধান শাহরিন হক বলেন, ‘বিতর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে বায়োফিকশনের এই ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা পাঠকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দেবে।’
লেখক বুলবুল হাসান এই বইয়ে বিতর্কের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যে রূপ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, এই বায়োফিকশন আগামীর কিশোর বা তরুণদের বিতর্কের মৌলিক লক্ষ্য এবং দর্শনকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: অন ষ ঠ
এছাড়াও পড়ুন:
ইইউর বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে
পাল্টা শুল্ক আরোপের নামে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি যে শুল্ক আরোপ করেছে, তা এককথায় খামখেয়ালিপূর্ণ চর্চা। এ সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে বিপাকে ফেলবে। ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ছিল বৈশ্বিক মহামন্দার অন্যতম কারণ। পরে যুক্তরাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বাংলাদেশ তার সব বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মোস্ট ফেভারড নেশন (এমএফএন) ভিত্তিতে বৈষম্যহীন শুল্ক আরোপ করে। কারও সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হলে তখন সেই দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কমায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ এমএফএন ভিত্তিতে কোনো পণ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করলে যে শুল্কহার আরোপ করে, জার্মানি থেকে আমদানি করলেও একই হার থাকে। এ কথা ঠিক, প্রস্তুতকৃত পণ্যে বাংলাদেশে ট্যারিফ বা শুল্কহার অনেক দেশের তুলনায় বেশি।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে যে পরিমাণ আয় করে, সে দেশ থেকে আমদানি বাবদ ব্যয় তার চেয়ে কম। এর মানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের পণ্যের ওপর বাংলাদেশ গড়ে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এখন এই হিসাব তারা কীভাবে করেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কোনো দেশের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি মিলিয়ে সেই দেশে তাদের পণ্যের ওপর শুল্কহার নির্ধারণ করা হলে তা অবশ্যই অযৌক্তিক। কিন্তু তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে আমি এখনও নিশ্চিত নই।
এখন আসি যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে, সেই কথায়। এটি নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যাবে। তাদের বাজার সংকুচিত হবে। বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে তৈরি পোশাক। বাড়তি শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের
দাম অনেক বাড়বে। ফলে তাদের পোশাক আমদানি কমবে। যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৯০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করে। আমার ধারণা, এটি ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাবে। বাংলাদেশ সে দেশে বছরে ছয় থেকে সাত বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়বে। এখন দেখতে হবে আমাদের প্রতিযোগীদের
ওপর কার ক্ষেত্রে নতুন শুল্কহার কতটুকু। চীনের ওপর আগেই শুল্ক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন আরোপ করেছে ৩৪ শতাংশ। বাংলাদেশের ওপর তারা শুল্ক আরোপ করেছে ৩৭ শতাংশ। আবার ভারতের ওপর আরোপ করেছে ২৬ শতাংশ, যা আমাদের চেয়ে কম। কম্বোডিয়ার ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ৪৯ শতাংশ, যা আমাদের চেয়ে বেশি। আমি মনে করি, সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এর মাত্রা বোঝা যাবে আরও পরে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। চীন এখন বিশ্বের অন্যান্য বাজার বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৈরি পোশাক বাজারের ২১ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যদি তাদের পোশাকের দাম কমিয়ে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের বাজার নয়, বিশ্বের অন্যান্য বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকে প্রভাবিত করবে। বাংলাদেশকে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
লেখক: অর্থনীতিবিদ এবং চেয়ারম্যান, র্যাপিড