Prothomalo:
2025-02-22@16:58:53 GMT

নবীজি (সা.)-এর হাসি

Published: 22nd, February 2025 GMT

হাসি ও আনন্দ মানুষের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে দেয়। নবীজির (সা.)হাসিখুশির ভঙ্গিও ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের খুবই জরুরি অনুষঙ্গ। এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো খণ্ডিত হলেও একেবারে অপ্রতুল নয়।

মহানবী (সা.)-এর আনন্দ তাঁর চেহারায় প্রকাশ পেতো। সাহাবিদের অনেকেই তাঁর আনন্দের টুকরো টুকরো ছবি তুলে ধরেছেন।

 আনন্দের প্রকাশ

মহানবী (সা.

)-এর আনন্দ প্রকাশের ধরন নিয়ে দুটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়।

সিরাত পাঠকমাত্রই কাব ইবনে মালেকের (রা.) ঘটনা সম্পর্কে জানেন। তাবুক যুদ্ধে শরিক না থাকায় তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। পরে যখন আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন। সে সময়ে নবীজির অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, আমি নবীজিকে সালাম দিলাম, আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করছিল। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে তোমার কেটে যাওয়া জীবনের ওপর সুসংবাদ গ্রহণ করো...। (বুখারি, হাদিস: ৪৪১৮)

কাব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আনন্দিত হলে তাঁর চেহারা এমন আলোকিত হয় মনে হয় যেন এক টুকরো দীপ্তিমান চাঁদ। দেখামাত্রই আমরা তাঁর আনন্দ বুঝতে পারতাম। (বুখারি, হাদিস: ৪১৪১)

ইফকের ঘটনার পরে আয়েশা (রা.) নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় নবীজির এমন আনন্দমুখ দেখতে পাওয়া যায়। আয়েশা (রা.) বলেছেন, কুরআন অবতীর্ণ হলে তিনি মাথা তুললেন। তাঁর চেহারায় আনন্দ উথলে উঠতে দেখলাম। তিনি হাত দিয়ে নিজের কপালের ঘাম মুছে বললেন, আয়েশা, সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ তোমার নির্দোষ হওয়ার ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ৬০৯২)

আরও পড়ুনসুরা ওয়াকিয়ায় কেয়ামত সম্পর্কে জানা যায়০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মুচকি হাসি

নবীজি (সা.)–কে আল্লাহ অসামান্য প্রভাব বিস্তার করার যে ক্ষমতা দান করেছিলেন, সেটির সঙ্গে তাঁর হাসি ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে কখনো এমনভাবে হাসতে দেখিনি যাতে তাঁর মুখের আলজিভ দেখা যায়। তিনি বরং সবসময় মুচকি হাসতেন। (মুসলিম, হাদিস: ৪১৯)

অর্থাৎ, তিনি সংযম রেখে হাসতেন। নবী-জীবনের শেষ একটি মুহূর্তের বিবরণ তুলে ধরে আনাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) তাঁর কক্ষের পর্দা সরালেন। তারপর সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তারা নামাজ পড়ছে। তার চেহারা মনে হলো যেন বইয়ের সাদা পাতার মতো। তিনি মুচকি হাসলেন। (মুসলিম, হাদিস: ২৩২২)

নবীজির(সা.) সঙ্গে সাহাবিদের মজলিসের চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, সাহাবিরা জাহেলি যুগের আলোচনা করে সশব্দে হাসতেন। কিন্তু রাসুল (সা.) কেবল মৃদু হাসতেন। (বুখারি, হাদিস: ১৯৩৬)

এই বর্ণনা থেকে জানা যায়, বিরোধী পক্ষের সমালোচনার সময়ও নবীজি (সা.) তাঁর সংযম হারাতেন না।

আরও পড়ুননফল দুই রাকাত নামাজের উৎস মৃত্যুর মুখে এক বন্দি সাহাবি০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

হাসিতে দাঁত দেখতে পাওয়া

হাসার সময় রাসুল (সা.)–এর দু পাশের দাঁত প্রকাশ পেত না বলেই জানা যায়।

একটি ঘটনায় দেখা যায়, রমজান মাসে এক ব্যক্তি স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)তাঁকে এক ঝুড়ি খেজুর দিয়ে বললেন, এগুলো সদকা করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে গরিব কাউকে দেব? খোদার কসম, মদিনায় আমার চেয়ে গরিব কোনো পরিবার নেই। শুনে রাসুল (সা.) এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তার দু পাশের দাঁত দেখা গেল। (জাদুল মায়াদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮২)

এই হাদিসে হাসির বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায়, হাসলে সাধারণত নবীজির (সা.) দু পাশের দাঁত দেখা যেত না।

হাসির বৈশিষ্ট্য

ইবনুল কাইয়িম (র.) বলেন, নবীজির (সা.)হাসি ছিলো মুচকি হাসি। তিনি সাধারণভাবেই মৃদু হাসতেন। হাসিতে দুই পাশের দাঁত দেখার ঘটনা ছিল স্বল্প। তিনি কেবল মুগ্ধ হলেই হাসতেন। নবীজির (সা.)অট্টহাসি দেওয়ার কোনো বর্ণনা কোথাও পাওয়া যায় না। (ফাতহুল বারী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৫০৪)

নবীজি (সা.)সবসময় হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও প্রশস্ত হৃদয় নিয়ে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। এমনকি এ কারণে প্রত্যেক সাহাবি ভাবতেন, তিনিই নবীজির (সা.)সবচেয়ে প্রিয়। জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর যখনই আমি তার কাছে যেতাম, তিনি আমাকে দেখলেই তিনি চেহারায় মুচকি হাসি ছড়িয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৫)

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.) বলেছেন, আমি কাউকে নবীজির (সা.)চেয়ে বেশি হাসিখুশি দেখিনি। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৮২১)

আরও পড়ুনকবর জিয়ারতে কী করব, কী করব না০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

হাসির নির্দেশনা

হাসিমুখে কথা বলা কেবল সামাজিক শিষ্টাচারই নয়, এর বিনিময়ে মুসলমানের জন্য সওয়াবও রয়েছে। আবু যর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) আমাকে বলেছেন, কোনো সৎকাজকে তুচ্ছ মনে কোরো না, যদি তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের মতো বিষয়ও হয়ে থাকে। তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার মুচকি হাসিও সদকা। (মুসলিম, হাদিস: ২৬২৬)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)বলেছেন, সকল নেক কাজ সদকা। তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও একটি নেক কাজ। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬)

মানুষ মাঝেমধ্যে কারণ ছাড়াও হাসে। নবীজি (সা.) অকারণে অধিক হাসতে নিরুৎসাহিত করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.)–র বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা বেশি হেসো না। কেননা, বেশি হাসি অন্তরকে নির্জীব করে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭০)

আরও পড়ুনধৈর্য কাকে বলে০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: স প ট ম বর র আনন দ বল ছ ন

এছাড়াও পড়ুন:

পলাতক আওয়ামী দোসরদের তালিকা প্রকাশ ছাত্রজনতার

জুলাই গণহত্যার পর পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও দোসর রাজনৈতিক দলগুলোর মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এমপিদের ফ্যাসিবাদী ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফ্যাসিবাদ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গণঅবস্থানকারী ছাত্রজনতা এ তালিকা প্রকাশ করেন। গণঅবস্থানের দশম দিন উপলক্ষে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা ঘোষণা করেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজলুর রহমান।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিলোপে আমরা এ গণঅবস্থান থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছি। এর তৃতীয় দফার আলোকে আমরা আজ ফ্যাসিবাদী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এমপিদের তালিকা প্রকাশ করছি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী রেজিমের সব মন্ত্রীসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী ঘোষণা করছি। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার ও ফ্যাসিস্ট হিসেবে ৭-১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি জানাই।”

তিনি আরো বলেন, “যারা উগ্র ফ্যাসিস্ট মন্ত্রী ছিলেন, তাদের ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিতে হবে। যারা বিতর্কিত নয় এবং তুলনামুলকভাবে কম খারাপ, তারা স্রেফ হাসিনার মন্ত্রীসভার সদস্য হওয়ায় কারণে সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এরা কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জনপরিসরে, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বক্তৃতা করতে পারবেন না।”

ফজলুর রহমান বলেন, “তালিকায় যেসব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টার নাম রয়েছে, আমরা তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাই।”

ফ্যাসিবাদীদের তালিকা প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সাংগঠনিক প্রধান মো. শফিউর রহমান, সদস্য সচিব হাসান মোহাম্মদ আরিফ, যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, সদস্য মাহমুদুল হাসান ফয়সাল, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফরহাদ আহমদ আলী প্রমুখ। 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুই নেতা মো. ওমর ফারুক ও আবু সাঈদের অনশনের মধ্য দিয়ে রাজু ভাস্কর্যের চলমান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনশনে যোগ দেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরার শহীদ রানা তালুকদারের পরিবার এ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালানোর আহ্বান জানান। তার অনুরোধে অনশন ভেঙে লাগাতার গণঅবস্থান শুরু হয়।

পরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ। দাবিগুলো হলো- ⁠গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, তাদের মিত্র ১৪ দল এবং এসব দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে; ⁠সব ফ্যাসিবাদী দল, তাদের কার্যালয় ও সব সম্পদ রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করে তা ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতিত অসহায় মজলুমদের পুনর্বাসনে ব্যবহার করতে হবে।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-⁠ ⁠২০০৯-২০২৫ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারগুলোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সব মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যকে ডেজিগনেটেড ফ্যাসিস্ট ঘোষণা করে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে;⁠ ⁠ফ্যাসিবাদ ধারণ করে গড়ে ওঠা নব্য ফ্যাসিবাদী বা একই চরিত্রের যেকোনে দল ও সংগঠনকেও নিষিদ্ধ করতে হবে;  ⁠ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলকে নিষিদ্ধ করার বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করতে হবে।

ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী

সম্পর্কিত নিবন্ধ