আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবট নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে জার্মান সিরিজ ‘ক্যাসান্দ্রা’। ৫০ বছর আগের একটি রোবট নিয়ে বানানো সিরিজটি আজকের দিনেও মাথা ঘুরিয়ে দেবে আপনার।
ইতিমধ্যে ভৌতিক সায়েন্স ফিকশন সিরিজটিকে রটেন টমাটোজে সমালোচকেরা শতভাগ ইতিবাচক রেটিং দিয়েছেন। ছয় পর্বের মিনি সিরিজটি বাংলাদেশে নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। কী আছে এই সিরিজে, যা মাতিয়ে রেখেছে দর্শকদের? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
সিরিজ: ‘ক্যাসান্দ্রা’
ধরন: সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার
পর্বসংখ্যা: ৬
পরিচালক: বেনজামিন গুটশে
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম: নেটফ্লিক্স
অভিনয়ে: মিনা টান্ডার, মাইকেল ক্ল্যামার, যোশুয়া কান্টারা, মেরি টোল্লে, লাভিনিয়া উইলসন
সামিরা ও ডেভিভ প্রিল দম্পতির রয়েছে একটি ভয়ংকর অতীত। সেখান থেকে বের হয়ে আসতে তারা নতুন জায়গায় একটি বাড়ি কেনে। দুই সন্তানসহ তারা সেখানে চলে আসে। নতুন বাড়িতে আসার পরই তারা এত সুন্দর আর গোছানো বাসা দেখে অবাক হয়। তারা আরও অবাক হয়, যখন দেখতে পায় এই বাড়িতে রয়েছে একটি পুরোনো ধাঁচের রোবট—ক্যাসান্দ্রা। ক্যাসান্দ্রা একটি পুরোনো এআই সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রোবট। যদিও সেটি ৫০ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু প্রিল দম্পত্তি বাড়িতে প্রবেশ করার পরই সিস্টেমটি নিজ থেকেই চালু হয়ে যায়।
মাথায় একটি টেলিভিশন স্ক্রিন লাগানো, লাল রঙের লম্বা ক্যাসান্দ্রা নিজেকে পারিবারিক কাজের সহায়ক হিসেবে পরিচয় দেয়। যে যাবতীয় ছোটখাটো কাজ করতে পারে—কাপড় ধোয়া, ঘাস কাটা, সকালের কফি বানানো, নাশতা বানানোয় সাহায্য করা। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে থাকে, যখন প্রকাশ পায় ক্যাসান্দ্রা কারও কমান্ড ছাড়াই কাজ করতে পারে।
‘ক্যাসান্দ্রা’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
‘আর কোনো দিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না’
‘‘যাওয়ার সময় বাবা বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোনো জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সঙ্গে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিল, তুই থাকিস আমি আসবনে।’’
বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মন্ডলের ৯ বছরের মেয়ে আনুশকা মন্ডল পরী।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করতে থাকেন। তাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশীষের শ্বশুর মিহির বিশ্বাস।
আরো পড়ুন:
চট্টগ্রামে সড়কের সেই অংশে লাল পতাকা স্থাপন
মোটরসাইকেলে এক পরিবার, যশোরে বাসের ধাক্কায় শেষ তিনজন
কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘‘গত রবিবার (৩০ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে আশীষ তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোনের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মন্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্য বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে আশীষ, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।’’ ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন মারা যায়।
তিনি বলেন, ‘‘আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আশীষের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।’’
স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মন্ডল স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন। নিহত আশীষ মন্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে।
এদিকে, ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আশীষের যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে তাকে বড় করেছি।’’
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল আশীষ। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে।
ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল