শহীদ দিবসের ফুল কুড়াতে যাওয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
Published: 21st, February 2025 GMT
মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ফুল সংগ্রহ করতে যাওয়া চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বৈরাতী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। মিঠাপুকুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দেওয়ার জন্য রুহুল আমিনের (৫৫) বাড়িতে যায় শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে। রুহুল আমিন পেশায় একজন সার্ভেয়ার। শিশুটি যখন তাদের বাড়ির ফুল বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করছিল তখন তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়িতে ফেরার পথে কয়েকজন মুসল্লি ওই বাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। শিশুটিকে প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছে।
বৈরাতী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান জানান, রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
যাদুকাটা নদীতে স্নান লাখো পুণ্যার্থীর
‘চৈত্র মাসে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে যাদুকাটায় এসে স্নান করলে সব পাপ মোচন হয়। এ জন্য এখানে এসেছি গঙ্গাস্নান করে পুণ্যলাভ করতে’– বলছিলেন সূর্য্যেরগাঁও গ্রামের অনির্বাণ দাস।
স্নানের পাশাপাশি নদীতে বাবার অস্থি বিসর্জন দিয়েছেন বলে জানিয়ে অনির্বাণ বলেন, ‘পরিবারের সবাই এক হয়ে পণাতীর্থে গঙ্গাস্নান করতে এসেছি। গঙ্গাস্নানের পাশাপাশি অনেকে এখানে আসেন মা, বাবা, আত্মীয়স্বজনের অস্থি বিসর্জন দিতে। আমিও বাবার অস্থি বিসর্জন দিতে এসেছি।’
অপর পুণ্যার্থী শ্যামল বর্মণ বলেন, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীসহ সাত পুণ্য নদীর প্রবাহ একসঙ্গে যাদুকাটায় এসে মিলিত হওয়ায় নদীর জল পবিত্র হয়ে ওঠে।
তেরীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শিতেশ পাল বলেন, কেউ যান লাঙ্গলবন্দে, কেউ ভারতের গঙ্গায় আর কেউ মনে করেন সব তীর্থের সেরা তীর্থ পণাতীর্থ।
গত বুধবার রাত ১১টা ১ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীতে দুই দিনব্যাপী এ গঙ্গাস্নান চলে। এ উপলক্ষে উপজেলার রাজারগাঁও অদ্বৈত প্রভুর জন্মধামসংলগ্ন যাদুকাটা নদীতে লাখো মানুষের ঢল নামে। এ উপলক্ষে এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। বুধবার সকাল থেকেই লাখো মানুষ অদ্বৈত প্রভুর আখড়া, গড়কাটি ইসকন মন্দির এবং নদীর তীরে অবস্থান নেন। রাজারগাঁও আখড়াবাড়ি ও যাদুকাটা নদীর উভয় তীরে বালুর চরে বসে মাটির খেলনা, খাদ্যসামগ্রীর দোকান।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, দু’দিন আগে থেকেই উৎসবে আসা পুণ্যার্থীরা এখানে অবস্থান করে গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করেছেন।