Samakal:
2025-04-04@14:56:40 GMT

শ্রদ্ধায় স্মরণ ভাষা শহীদদের

Published: 21st, February 2025 GMT

শ্রদ্ধায় স্মরণ ভাষা শহীদদের

শামীম রেজা ও ফারদীন ইফতেখার। দুই বন্ধু। থাকেন ইস্কাটনে। দিনের কাজ সেরে রেখেছেন আগেই। রাতে যাবেন ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাদের সঙ্গে দেখা হলো। হাঁটতে হাঁটতে গল্প। জানালেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থা থেকেই প্রভাতফেরিতে আসা হতো। কর্মজীবনে ব্যস্ততা বাড়লেও দিনটি এলে ঘরে থাকতে ইচ্ছে করে না। বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

শামীম ও ফারদীনের মতন এমন হাজারো মানুষের দেখা মিললো শহীদ মিনারে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কারও সঙ্গে পরিবার। বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে ছোট্ট শিশুও।

আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটিতে হাজারো মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে গেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ ভোর থেকেই প্রভাতফেরি করে শ্রদ্ধার ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি পৃথকভাবে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। রাত ১২টার পর প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো.

সাহাবুদ্দিন। এরপর রাত ১২টা ১২ মিনিটের দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ দলে দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংঘ, সংগঠন, আর্থিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হল, ক্লাব, ইউনিয়নের হয়ে কিংবা ব্যক্তি ও পারিবারিকভাবে শহীদবেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তাঁদের কারও হাতে একগুচ্ছ ফুল, ফুলের তোড়া কিংবা শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁদের পোশাক ও সজ্জায় শোকের কালো রং। কণ্ঠে সেই বেদনাবিধুর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’।

বিভিন্ন দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে শত শত মানুষকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। ৮ বছর বয়সী মেয়ে সানজানাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন বেসরকারি কর্মকর্তা সোহেল রানা। মেয়ের পাঁচ বছর বয়স থেকেই মেয়েকে সঙ্গে করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসছেন বলে জানালেন তিনি।
 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: এক শ সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

ইউনূস–মোদির বৈঠক আশার আলো দেখাচ্ছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই প্রথম প্রতিবেশী দুই দেশের নেতাদের বৈঠক হলো।

এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করলে জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের কথা। আমরা মনে করি, ভূরাজনীতিতে এবং বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশ ও ভারতের যে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সে প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটা আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করছে।’

এ বৈঠকের ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে একটা “বিটারনেস” (তিক্ততা) তৈরি হয়েছে, সেটা যেন আর বেশি সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, সে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘আমি যত দূর দেখেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে দুজনেই (অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি) যথেষ্ট আন্তরিক এবং এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষ ও ভারতের মানুষ, উভয় দেশের মানুষের উপকার করবে।’

এর আগে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে ঈদ–পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, রফিকুল ইসলাম বাবু, শরিফুল আলম, সাব্বির, রাহুল, আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, সৈয়দ বুরহানুল, হোসেন, নকিব, ডন, রিয়াল, ফাহিম সিনহা, মাহবুব আনাম, ইব্রাহিম খলিল, কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, সেলিম শাহেদ ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম।

সম্পর্কিত নিবন্ধ