দুর্ঘটনার কবলে সৌরভ গাঙ্গুলির গাড়ি বহর
Published: 21st, February 2025 GMT
ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির গাড়ি বহর দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে সৌরভের গাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি।
ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়ি বহরের সামনে থাকা একটি লরি হঠাৎ ব্রেক করায় দুর্ঘটনা ঘটে।
সৌরভের গাড়ি চালক যথাসময়ে ব্রেক করায় বেঁচে যায় দুর্ঘটনা থেকে। তবে বহরে থাকা পেছনের দুটি গাড়ির মধ্যে আচমকা ব্রেকের কারণে সংঘর্ষ হয়। এতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরো পড়ুন:
সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়ির দরজা থেকে ফিরিয়ে দিলেন আমির খানকে
গাঙ্গুলির চোখে সেমিফাইনালে ফেভারিট ৫ দল
এদিন বর্ধমান ক্রীড়া সংস্থা সৌরভকে সংবর্ধনা দেয়। এ ছাড়া বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি ভাষণও দেন সৌরভ।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক বলেন, “আমি আপ্লুত। খুব ভাল লাগছে বর্ধমানে আসতে পেরে। তার থেকেও খুশি আপনারা আমাকে আমন্ত্রণ করেছেন। অনেক দিন ধরেই বর্ধমান ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে আসার জন্য বলা হচ্ছিল। আজ আসতে পেরে খুব ভাল লাগছে।”
“৫০ বছর ধরে বর্ধমান ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল) কাজ করছে। জেলা থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। আগামী দিনেও এই ভাবে জেলা থেকে খেলোয়াড় তুলতে হবে।“
ঢাকা/রিয়াদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
‘মুক্তপ্রদীপের মতো’ জ্বলে আছে বরুণের ফুল
ভোরের আলো ফুটেছে অনেক আগেই। সেই অর্থে মানুষের জেগে ওঠার সরবতা তখনো ছড়িয়ে পড়েনি। চারপাশে সুনসান স্তব্ধতা গা এলিয়ে আছে। ছিটেফোঁটা দু-চারজন করে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন, পথে হাঁটছেন। মনু নদের পাড়টি আরও নীরব, জনমানবহীন শান্ত একটুকরা নির্মল হাওয়ার ভূমি হয়ে আছে। তখন ‘সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ/ সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে, সেখানে বরুণ...।’
জীবনানন্দ দাশের নাটার রঙের মতো রাঙানো সূর্যের জেগে ওঠার এই মুহূর্তে একফালি মনু নদ কি আর গঙ্গাসাগরের মতো কোনো উপমার সঙ্গে সমান হতে পারে, চলতে পারে! তা না-ই হলো, তবু সেখানে গঙ্গাসাগরের বুকের কাছে যেমন বরুণ থাকে, তেমনই এখানেও এই মনু নদের পাড়ে চুপি চুপি, শাখায় শাখায় ফুলের বন্যা নিয়ে জেগে আছে বরুণের গাছ।
বসন্তের সকাল, মৃদু বাতাসে তখনো কিছুটা ঠান্ডার মতো ভাব আছে। সময় উড়ছে সকালের নরম রোদের পালকে। এ রকম একটা সময়ে পথ চলতে চলতে মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস সড়কের ভৈরব থলির কাছে পৌঁছেই দেখা হয়ে যায় তার সাথে, তাহাদের সাথে। ‘বাসা তোমার সাতসাগরের ঘূর্ণী হাওয়ার বুকে!/ ফুটছে ভাষা কেউটে ঢেউয়ের ফেনার ফণা ঠুকে!/ প্রায়ণ তোমার প্রবালদ্বীপে, পলার মালা গলে/ বরুণরানি ফিরছে যেথা, মুক্তপ্রদীপ জ্বলে।’ অনেকটা তা–ই, গাছের শাখায় শাখায় সবুজ পাতার ফাঁকে মুক্তপ্রদীপের মতো জ্বলে আছে সাদা, গোলাপি, সবুজের মিশ্রণে অসংখ্য বরুণ ফুল।
ফুলটির পোশাকি নাম বরুণ হলেও আরও অনেক নাম আছে। যেমন: বৈন্যা, শ্বেতপুষ্প, কুমারক, সাধুবৃক্ষ, শ্বেতদ্রুম।বছর ঘুরে বরুণ রানির ফেরাটা এ রকমই মনে হয় রাজকীয়, এ রকমই জাঁকজমকের। গাছজুড়ে ফুটে আছে ফুল। দু-চারটা শালিক, ঘুঘু পাখি উড়ে আসছে, ফুলের ওপর বসছে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। ফোটা ফুলের পাপড়িরা বাতাসের আহ্লাদে টুকটুক করে ঝরে পড়ছে গাছের নিচে। পাপড়ির নকশিকাঁথা যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে ঘাসের ওপর। বেশ বড়সড় ঝাঁকড়া মাথার গাছ। ডালগুলোও চারদিকে ডানা মেলে আছে। পাশেই মনু নদ। হয়তো কোনো একদিন এই নদের পানিতে ভেসে এসেছিল এই বরুণগাছের ফল। সেই পাকা ফলটি চরের মতো জেগে থাকা পাড়ের মাটিতে আশ্রয় পেয়ে গাছ হয়ে মাথা তুলেছে। তারপর বসন্তের মাঝামাঝি এলেই ডালে ডালে ফুলের জলসা বসছে।
ওখানেই, বরুণগাছটির কাছে এই সাতসকালে দেখা শহরের সৈয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা সাংস্কৃতিক সংগঠক শৈলেন রায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, গাছটি বেশ অনেক বছর ধরে দেখছেন। তবে গাছে যে এত ফুল ফোটে এবং এই গাছের নাম যে বরুণ, তা আগে সেভাবে খেয়াল করেননি। গাছটির বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর বা এর আশপাশে হতে পারে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, গাছটি এখানে কেউ রোপণ করেননি, গাছটি এমনিতেই গজিয়ে উঠেছে। গাছটি কারও হাতে কাটা পড়েনি বলে এখনো ফুলে ফুলে সাজতে পারছে।
বরুণ গাছের সবচেয়ে পছন্দের আবাসই হচ্ছে জলাভূমি এলাকা