Prothomalo:
2025-03-29@04:08:03 GMT

লিপিকলায় দ্রোহ ও মিছিলের ভাষা

Published: 21st, February 2025 GMT

মিছিলের স্লোগানে স্লোগানে সারা শহর উত্তপ্ত। শুধু শহর বলছি কেন, গোটা দেশ থেকেই এ যেন একই স্বরে আওয়াজ উঠছে সব দিক থেকে। ঢাকার প্রতিটি রাস্তা থেকে মিছিলে মিছিলে মানুষের ঢল। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সবার এক কণ্ঠস্বর। প্রত্যেক মানুষ তাঁর অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গগনবিদারী স্লোগানে একটাই দাবি—দফা এক, দাবি এক/ স্বৈরাচারের পদত্যাগ। চারপাশে ভয়ের আবহ, তবু সেই ভয়কে উপেক্ষা করে সবাই রাস্তায় নেমেছেন।

এমন এক উত্তাল সময়ে, একজন বাংলা অক্ষরশিল্পের কারিগর হিসেবে, স্বৈরাচারের প্রতি ক্রোধ ও আক্রোশ আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করছিল। গলি থেকে ভেসে আসা প্রতিটি স্লোগান আমাকে অস্থির করে তুলেছিল।

আমার যাবতীয় কর্মযজ্ঞের ব্যস্ততা আর জীবনযাপনের ভেতর জুলাই আন্দোলনের প্রভাবে হঠাৎ কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি অবচেতনভাবে আমার চেতনাকে গ্রাস করে ফেলে।

নানান জায়গা থেকে সতর্কতামূলক সচেতনবার্তা আবার অন্যদিকে ঘোষণা দিয়ে একপ্রকার হুমকি প্রদান; আন্দোলনের অংশগ্রহণের পরিণতিতে আমার কী ক্ষয় হতে পারে, এ রকম সচেতনতার নামে হুমকি দেখিয়ে যেন মূক, অন্ধ ও বধির করে ফেলতে চাইছিল। কিন্তু প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলের সংবাদ এই সব ভয় স্পর্শ করেনি। এসব চাপ ও অস্থিরতার ভেতর দিয়েই অন্যদিকে অনবরত বেজে চলছে—

‘আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ

আমি চিনেছি আমারে

আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ।’

জুলাইয়ের ৩০ তারিখ। সারাটি দিন এই পঙ্‌ক্তি জপে চলছি মনে মনে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তেও এই পঙ্‌ক্তি আমাকে ঘুমাতে দেয় না। একদিকে একের পর এক ছাত্রদের গুলি করে যাচ্ছে খুনির দল, অন্যদিকে দ্বিগুণ হয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। কারও মনে ভয় নেই, কারও পিছু হটার সুযোগ নেই। এমনকি যারা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না, তাঁদের মনেও প্রবল উত্তেজনা। মনে হচ্ছিল, পুরো জাতি যেন ঘুমহীন হয়ে পড়েছে।

কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অনুপ্রেরণায় জুলাই আন্দোলনকে উৎসর্গ করে এই ফন্টের নামকরণ করা হয় ‘দ্রোহ’।.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

উপদেষ্টাদের বিদেশ সফর কমিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া উচিত: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ‍“উপদেষ্টারা এখন বেশি বেশি বিদেশ সফর করছেন। বিপ্লবী সরকারের উচিৎ বিদেশ সফর কমিয়ে গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে যাওয়া। মানুষের কষ্টের কথাগুলো শোনা উচিত তাদের। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা বিপ্লবী সরকার।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আশ্রয় দিচ্ছে। এটা করবেন না। এটা করলে শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে।” 

শুক্রবার (২৮ মার্চ) ঝিনাইদহে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

জাতিসংঘ শূন্য বর্জ্য দিবস
অধ্যাপক ইউনূসকে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ানের অভিনন্দন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ-উৎপাদন বাড়ানোর আশ্বাস জিনপিংয়ের

ইফতার মাহফিলে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগেফরাত কামনা করে রাশেদ খান বলেন, “৭১-এ গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তান। ২৪-এ গণহত্যা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশে আর কোনো গণহত্যা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।”

গণঅধিকার পরিষদের তিনটি দাবি তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, “গণহত্যার বিচার করতে হবে। ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কার করে ডিসেম্বরের ভেতরে নির্বাচন দিতে হবে।”

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলিম, মুহাদ্দিস রবিউল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর লাবলু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপিত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম, জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম রহমান বাবু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রাসেল উদ্দিন ও সরকারি কেসি কলেজের সাবেক প্রফেসর মহব্বত হোমেন টিপু।

ঢাকা/শাহরিয়ার/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ