সাভারে তুলার গোডাউন ও আশুলিয়ায় বিস্কুট কারখানায় আগুন
Published: 20th, February 2025 GMT
সাভারে একটি তুলার গোডাউন ও আশুলিয়ায় বিস্কুট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভার নামাবাজার বাঁশপট্টি এলাকায় তুলার গোডাউনে ও আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার নিউ অলিম্পিয়া বিস্কুট কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাভার নামাবাজার বাঁশপট্টি এলাকায় তারা মোল্লার মালিকানাধীন তুলার গোডাউনে হঠাৎ আগুন দেখতে পায় স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে দ্রুত সাভার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। এ সময় আগুনে গোডাউনের মালামালসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। তবে আগুনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় আগুনে তুলার গোডাউনটি পুরোপুরি পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত নিউ অলিম্পিয়া বিস্কুট কারখানার দোতলায় একটি টিনে শেড কক্ষ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসে জানালে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে টানা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আগুনে কারখানার ভিতরে থাকা বেশকিছু মালামাল পুড়ে গেলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার টিনশেডের বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে হঠাৎ আগুন দেখতে পায় কারখানার শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সায়েম মাসুম বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার নিউ অলিম্পিয়া বিস্কুট কারখানায় আগুন লাগার খবর পাই। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিন আলী (২৪) ও মাহির তাজয়ার তাজ (১৫) নামে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে একটি ও গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহির তাজওয়ার তাজ আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে ও ইয়াসিন আলী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান, জানান, অসাবধানতা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মাহির মারা যায়।
অন্যদিকে গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে ইয়াসিন আলী মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এসময় তার দুই পা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়িয়ে যায়। তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৬ দিনের মাথায় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়।
দুটি দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের না করায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা/মামুন/টিপু