সংস্কারের গল্প শুনিয়ে সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যেসব নতুন নতুন কথা শুনছি, কখনো বলে আনুপাতিক হারের নির্বাচন, কখনো বলে স্থানীয় সরকারের পরে জাতীয় নির্বাচন। তারপর তারা সংস্কার করে শেষ করে যাবে। শেখ হাসিনার বিচার শেষ করে যাবে, এ সমস্ত কথা বলার সুযোগ নেই। তাদেরকে সেই জায়গায় সেই দায়িত্ব কেউ দেয়নি। তাদের একমাত্র দায়িত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিবে।’

আজ বুধবার বিকেলে নোয়াখালীর মাইজদীর জেলা জজ আদালত সড়কে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো এবং দ্রুত নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করে নোয়াখালী জেলা বিএনপি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যদি মনে করে, নির্বাচিত সরকারের জায়গায় তারা অধিষ্ঠিত হয়েছে, এর চেয়ে বড় ভুল আর কিছু হবে না। তাঁরা নির্বাচনী সরকারের জায়গা পূরণ করার জন্য উপদেষ্টা হননি। তাঁদের দায়িত্ব হচ্ছে একটাই, নির্বাচিত সরকারের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা তুলে দিয়ে বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা। আবার বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।’

আরও পড়ুনরাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলে দয়া করে পদত্যাগ করেন: মির্জা ফখরুল১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সংস্কারের কথা সাত বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নতুন কোনো গল্প আমাদের শোনার দরকার নেই। দেড় বছর আগে তারেক রহমান সাহেব বিএনপিসহ যাদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তাদের সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত নিয়ে ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তাদের যদি সংস্কারের খুব ইচ্ছা থাকে, তাহলে তারা যে কমিশনের রিপোর্টগুলো তৈরি করেছে, সেগুলো আমরা আগামী নির্বাচিত সংসদে পেশ করতে রাজি আছি। আগামী সংসদ সেগুলো সংসদে আলোচনা করবে, বিবেচনা করবে। যেখানে সংস্কারের প্রয়োজন করবে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যাঁরা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে লাভবান হওয়ার চিন্তা করছেন, আপনারা মনে করছেন আপনারা এই সরকারের একটা অংশ হয়ে গেছেন। এই সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন আপনারা লাভবান হবেন। আপনারা সরকারের অংশ হয়ে থাকবেন, সেটা তো হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, আপনি, আপনারা যাঁরা দীর্ঘায়িত করে ক্ষমতার অংশ হিসেবে ক্ষমতা ভোগ করার প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকেছেন, তাঁদের বলছি, পরিষ্কার করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সে যাঁরাই হোক, যদি আগামী দিনের সরকারে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাড়াতাড়ি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আপনারা চলে আসুন। আমরা তো আছিই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়।’

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে কিন্তু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের কথাবার্তায়, আপনাদের উপদেষ্টাদের কথাবার্তা, তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে মনে হয়, তাঁরা কোনো একদিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন। সেই সন্দেহের উদ্রেক যদি হয়, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আপনাদের আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। আর যদি গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, তাহলে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া থেকে আমাদের সবাইকে শিক্ষ নিতে হবে।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান, মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম জাকারিয়া প্রমুখ।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আপন দ র ব এনপ র সরক র র আপন র ক ষমত

এছাড়াও পড়ুন:

আজও গোবিন্দগঞ্জে যানবাহনের ধীরগতি

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের চার রাস্তা মোড়ে শনিবার দিনভরই থেমে থেমে যানজট ও  ধীরগতি দেখা গেছে। সওজের সাসেক প্রকল্পের নির্মাণ কাজের পাশাপাশি ঢাকা-উত্তরাঞ্চলগামী দূর ও স্বল্পপাল্লার বাস থেকে যাত্রী যত্রতত্র উঠা-নামায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী, ট্র্যাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছেন। তবে পরিবহন চালকরা নিয়ম না মেনে যাত্রী উঠা-নামা করায় কৃত্রিম যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। 

গোবিন্দগঞ্জ চার রাস্তা মোড়ে পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত ইন্সপেক্টর ওসমান আলী জানান, সওজের কাজের কারণে রাস্তায় এমনিতেই সরু। তার ওপর যত্রতত্র যানবাহন থেকে যাত্রী উঠা-নামায় অল্প সময়ের জন্য যানবাহনের ধীরগতি হলেও শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো ধরনের যানজট ধীরগতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হচ্ছে না।

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়কে গত সাড়ে আট বছর থেকে সওজের সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক-২) প্রকল্পের কাজ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ মোড়ে এখনও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এতে ঈদের আগে এই দুই স্থানেই বেশি জটলা বাঁধছে। 

সওজের সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক-২) প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, সাড়ে আট বছর আগে কাজ শুরু হলেও মূলত জোরেশোরে শুরু হয় করোনা শেষে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। ভূমি অধিগ্রহণ কাজের জটিলতার জন্য গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে কাজ শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ইনশাল্লাহ পুরো কাজ হবে। আগামী বছর থেকে চার রাস্তা সম্প্রসারণ সুফল উত্তরাঞ্চলবাসীর পুরোপুরি ভোগ করতে পারবে।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, হাইওয়ের কাজ করছে সাসেক-২ প্রকল্প। তাদের কাজ এখনও চলমান। আমাদের কাছে সড়ক বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনাসহ সড়কের সার্বিক দেখভাল করবে গাইবান্ধা সড়ক বিভাগ। 

বগুড়া রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ঢাকা রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ-বগুড়া অংশে শনিবার দুপুর পর্যন্ত যানজট হয়নি। বরং ঢাকা-উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন দুই লেন দিয়েই স্বাভাবিকভাবে চলছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ