অনৈতিক সম্পর্ক ফাঁসের ভয়ে কলেজছাত্র রনজুকে হত্যা: পুলিশ
Published: 19th, February 2025 GMT
ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে এক ব্যক্তির অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কলেজছাত্র মাসুদ হাসান রনজুকে খুন করা হয়। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক হুমায়ুন কবীর।
মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা। তিনি জানান, এক গৃহবধূর সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ওই গৃহবধূর মেয়েকে পড়াতেন কলেজছাত্র রনজু। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ হুমায়ুনকে জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি রনজু জেনে গেছে। ওকে মেরে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রনজুকে হত্যা করতে পারলেই তার সঙ্গে কথা বলবে– হুমায়ুনকে এমন শর্ত দেনে রনজুর ছাত্রীর মা। ওই গৃহবধূর কথা মতো গত রোববার সকালে রনজুকে ভুট্টা খেতে সেচ দেওয়ার কথা বলে মাঠে ডেকে নেন হুমায়ুন। পরে রনজুকে একা পেয়ে পেছন থেকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করেন রনজুর বাবা আজিজুল মীর।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সোমবার বিকেলে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ ওই ভুট্টা খেতে সেচ দেওয়ার শ্যালো মেশিনের মালিক হুমায়ুনকে আটক করে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রনজুকে হত্যার কথা স্বীকার করের হুমায়ুন। একই দিন সন্ধ্যায় হুমায়ুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে ওই গৃহবধূকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার রাত ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বদনপুর গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে রনজুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: রনজ ক
এছাড়াও পড়ুন:
সিলেটে স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা, প্রতিবাদের পর ফটক খুলল পুলিশ
মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন দুটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ একপর্যায়ে তাঁদের পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সুযোগ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেটের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কিছু লোকজন। তবে তাঁরা সেখানে গিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশের ফটক বন্ধ দেখতে পান। ফটকের সামনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের নিরাপত্তাবলয় ছিল।
ছাত্রসংগঠন দুটির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে তাঁরা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শহীদ মিনারে গেলে সেখানে থাকা পুলিশ তাঁদের জানায়, রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা রয়েছে সূর্যোদয়ের আগে কেউ ফুল দিতে পারবেন না। এ সময় তাঁরা এ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা দেখতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
পুলিশ সদস্যদের এমন বাধার মুখে সংগঠন দুটির নেতা-কর্মী এবং উপস্থিত জনতা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। শহীদ মিনারের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাঁরা ‘এই রাষ্ট্রের মালিক কারা, কৃষক শ্রমিক সর্বহারা’, ‘এই শহীদ মিনারের মালিক কারা, কৃষক শ্রমিক সর্বহারা’, ‘এই পুলিশের মালিক কারা, কৃষক শ্রমিক সর্বহারা’, ‘জবাব চাই জবাব দে, নইলে তালা খুলে দে’-সহ নানা স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে পুলিশ ফটকের তালা খুলে দেয়। এরপর উপস্থিত ছাত্র-জনতাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ছাত্রসংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা নগরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল থেকে তাঁরা স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার তালাবদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদ জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাতে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি মনীষা ওয়াহিদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘শহীদ মিনারে আমলাতান্ত্রিক সেন্সরশিপ’ উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘উপস্থিত ছাত্র-জনতা শহীদ মিনারে এই ঘৃণ্য আমলাতান্ত্রিক সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে পুলিশ প্রশাসন একপর্যায়ে তালা খুলে দিতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতা দিবসে যে পোশাক ফুল দিতে বাধা দেয়, সেই পোশাককে জনগণের মুখোমুখি হতেই হবে।’
এ বিষয়ে জানতে আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই বলব, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণের রাষ্ট্রীয় যে রীতি আছে, সবাই যেন সেটা শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুসরণ করেন।’