খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। 

তিনি বলেন, “হামলায় ঘটনায় ছাত্রশিবিরকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। মূলত একটি ছাত্রসংগঠন এ হামলায় জড়িত ছিল। যখনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল এবং সিট দখল চায়নি সেই অবস্থার প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আহ্বান, ব্লেইম গেইম রাজনীতি বন্ধ করুন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।”

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে ফুড প্যাকেজ (খাদ্য সমগ্রী) বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজহারুল ইসলামের মুক্তি দাবি জামায়াতের

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দল

ড.

মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “প্রযুক্তির যুগে মিথ্যাচার রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়। আমরা মনে করব, সবাই পজেটিভ চিন্তা ধারণায় রাজনীতি করবেন।”

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবু জাফর, চন্দ্রগঞ্জ থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হাসনাইন, চন্দ্রগঞ্জ থানা শ্রমিক কল্যাণের সেক্রেটারি আমির হোসেন, হাজিরপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান সজিব।

এর আগে, ড. রেজাউল করিমের উদ্যোগে রমজান মাস উপলক্ষে এক হাজার পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাকেজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় হাজিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০০ জনকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল- ২৫ কেজি চাল, তেল, লবন, খেজুর, ছোলা, চিনি ও পেঁয়াজ।

ঢাকা/জাহাঙ্গীর/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র জন ত

এছাড়াও পড়ুন:

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ ২৬ মার্চ, ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনার সূচনা দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনে ডাক এসেছিল দেশকে পাকিস্তানি হানাদারের কবল থেকে মুক্ত করার। আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি শোষকের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মাস বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। জাতি অর্জন করেছিল একটি দেশ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। আলাদা বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।

পুরো জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের। অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানাবে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে অসামান্য আত্মত্যাগকারী বাংলার অকুতোভয় বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মহান নেতাদের। পাশাপাশি দেশ আজ মেতে উঠবে স্বাধীনতার উৎসবের আমেজে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।  

২৬ মার্চ সকালে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। 

এছাড়া, জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। আজ সরকারি ছুটি থাকবে। 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি, হাডুডু ইত্যাদি খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রসমূহে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।

দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘরসমূহ উন্মুক্ত রাখা হবে এবং বিনা টিকিটে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ঢাকা/হাসান/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঈদযাত্রায় চাপ বেড়েছে আকাশপথেও, টিকিটের দাম দ্বিগুণ
  • ব্যাংককে অন্যান্য দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ভারতের পররাষ্ট্রসচিব
  • যমুনা নদীতে বারুণীর স্নানে পুণ্যার্থীর ঢল
  • বেরোবিতে হঠাৎ আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
  • কাজী হায়াতের সঙ্গে যে ব্যবহারটা হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক: ওমর সানী
  • কাজী হায়াতের সঙ্গে যে ব্যবহারটা করা হয়েছে, খুবই দুঃখজনক: ওমর সানী
  • সৌদি আরবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত
  • স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভা 
  • মহান স্বাধীনতা দিবসে ‘সীমান্ত গৌরবে’ বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা
  • মহান স্বাধীনতা দিবস আজ