সমুদ্র মোহনায় ভেসে বেড়ানোর মতো দারুণ অভিজ্ঞতা দিতে কক্সবাজারের পর্যটনে যোগ হলো নতুন মাত্রা! নীলজল রাশির বুকে বিলাসিতা, মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি আর নৌ-বিহারের এক অনন্য সংযোজন ‘কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন’। 

এখানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, সমুদ্র আর পাহাড়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টায় কক্সবাজারের সোনাদিয়া-মহেশখালী ও হিমছড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি এবং সমুদ্রবিহারের পর ফিরে আসবে কূলে।

ভ্রমণে পর্যটকরা উপভোগ করতে পারবেন বাঁকখালি নদীর মোহনীয় সৌন্দর্য, ম্যানগ্রোভ বন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের মোহনা, দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী, ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, সোনাদিয়ার নয়নাভিরাম উপকূল, বৃহৎ খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, শুটকি মহাল নাজিরারটেক এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় এই নৌ-বিহারের।

পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের মনোরম অনুভূতিটা এখানেই উপভোগ করতে পারেন।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন’ আগে সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলত। তবে, সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এই জাহাজ কক্সবাজারের সোনাদিয়া-মহেশখালী সাগর মোহনায় চালু হয়েছে। পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের মনোরম অনুভূতিটা এখানেই উপভোগ করতে পারেন। কক্সবাজারের এই নতুন নৌ-বিহার পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, যা সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যের স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে। সমুদ্রবিহারের সময় সূর্যাস্তের দৃশ্য স্বপ্নিল মুহূর্ত তৈরি করবে, যা পর্যটকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অভিজ্ঞতা ভাগ করে তানভীর সরওয়ার নিশি বলেন, “বড় জাহাজ নিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়া মজার ব্যাপার। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বন্ধ থাকায় সোনাদিয়া ও মহেশখালী মোহনায় এই জাহাজ নিয়ে ভ্রমণ করার অনুভূতি একেবারে আলাদা। সমুদ্র, পাহাড় এবং ম্যানগ্রোভ বনে পাখির বিচরণ দেখতে বেশ ভালো লাগছে।”

সেলিনা মনির বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ কক্সবাজারের পর্যটন খাত আরও উন্নত করবে। পরিবারসহ কম সময় এবং খরচে এখানে সমুদ্র, পাহাড় এবং প্রকৃতি উপভোগ করা সম্ভব, যা পর্যটকদের জন্য এক দারুণ সুযোগ।”

মোহাম্মদ আলম বলেন, “সেন্টমার্টিনের অনুভূতিটা এখানে পাওয়া যাচ্ছে। পানির পথে চলতে চলতে এমন সুন্দর প্রকৃতি সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে দেখা যায় না।”

এই বিশেষ ভ্রমণযাত্রায় দুপুরে রয়েছে সুস্বাদু খাবারের বিশেষ আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা.

শাহ আলম, কেয়ারী ট্যুরস এন্ড সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক শামিনা কাশেম পান্না, এসএম আবু নোমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-এর সহসভাপতি এমআর মাহবুব, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কেয়ারী ট্যুরস-এর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম, কক্সবাজার অফিস ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ছিদ্দিকী, কো-অর্ডিনেটর নুর মোহাম্মদ, টুয়াকের সহসভাপতি একেএম মনিবুর রহমান টিটু এবং ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির হিমু।

সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম জানান, এই নৌ-বিহারের বিশেষত্ব শুধু ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিয়ের অনুষ্ঠান, ইফতার পার্টি, জন্মদিন উদযাপন, কর্পোরেট মিটিং কিংবা আনন্দ ভ্রমণের জন্যও এক চমৎকার স্থান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ ভ্রমণযাত্রায় দুপুরে রয়েছে সুস্বাদু খাবারের বিশেষ আয়োজন, যা ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।

ঢাকা/এস

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র র পর ম হন য় র ম হন র পর য ভ গ কর অন ভ ত স ন দর ভ রমণ

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা, নেই কাঙ্খিত অগ্রিম বুকিং

‘সাগরকন্যা’ খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সারাবছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের আনাগোনা একটু বেশি দেখা যায়। এই ঈদেও কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে প্রতি বছরের তুলনায় অগ্রিম বুকিং কম হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে হোটেল মোটেল ও রিসোর্টগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি আবাসিক হোটেল ধোয়া-মোছা, সাজসজ্জাসহ পরিপাটি করে রাখা হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলো ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির পূর্ব প্রস্তুতি সেরেছে। একসময়ে অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ধরা হলেও পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পর্যটকে কম-বেশি ভরপুর ছিল থাকে কুয়াকাটা। তবে পুরো রমজান মাসে ৩০ কিলোমিটার সৈকতে একেবারেই ছিল পর্যটকশূন্য। মুক্ত সৈকতে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়ার দল; আবার মাঝে মাঝে দেখা যায় পরিযায়ী পাখিদের ছোটাছুটি। ট্যুর অপারেটররা বলছেন, ঈদের পর যারা কুয়াকাটা ভ্রমণ করবেন, তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ‘আসল রূপ’ দেখতে পাবে।

কুয়াকাটায় রাত্রিযাপনের জন্য ছোট-বড় ২০০টির বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার। তবে লম্বা ছুটির দিনগুলোতে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। ফলে কিছুটা সংকট হতে পারে রাত্রিযাপনের রুমগুলোতে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এই ঈদে ছুটি বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল প্রতি বছরের চেয়ে পর্যটক বেশি হবে। কিন্তু অগ্রিম বুকিং পেলেও তা গত কয়েক বছরের চেয়ে কম। প্রতিবছর এমন সময়ে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং হয়ে যায় আর এ বছর গড়ে বুকিং মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ; এমনটাই নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ।

হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের এজিএম আল-আমিন আপন সমকালকে বলেন, ‘ঈদের পর আমরা ২০ শতাংশ ছাড় দিয়ে বুকিং নিয়েছি, যাতে পর্যটকরা কুয়াকাটার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ কক্ষ আগাম ভাড়া হয়ে গেছে। আশা করছি, বাকি কক্ষ ঈদের পর বুকিং হয়ে যাবে, গত বছর এই সময়ে পরোপুরি বুকিং ছিল সেই তুলনায় কম। পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে ধোয়া-মোছাসহ নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সৈকতের আচার দোকানি রাসেল রুম্মান বলেন, ‘রমজানে পর্যটক না থাকায় বিক্রি ছিল না। প্রতি বছরই ঈদের পর খুব ভালো বিক্রি করি। তবে এ বছর আরও বেশি হবে বলে আশা রাখছি। কারণ, এখন দেশের সব জেলার সঙ্গে কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ। তাই এক মাস কোনো বিক্রি না হলেও আমরা চিন্তিত নই। কারণ, আশায় আছি, খুব ভালো পর্যটক আসবে কুয়াকাটায়।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক আসার সম্ভাবনা আছে। তবে যারা অগ্রিম বুকিং দিয়ে কুয়াকাটায় এ সময়ে আসবেন, তারা সাশ্রয়ীভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এ মোতালেব শরীফ বলেন, ঈদকে ঘিরে অগ্রিম বুকিং পাচ্ছেন। তাই সব হোটেলকে নির্দেশ দেওয়া আছে, যাতে কেউ পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা না করেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটকদের সমাগম হবে। এটাকে মাথায় রেখে তারা কাজ শুরু করছেন। বিভিন্ন স্থানে টহল, হোটেল-রেস্তোরাঁয় তদারকিসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে তারা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • পর্যটক বরণে নতুন সাজে কক্সবাজার
  • ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা, নেই কাঙ্খিত অগ্রিম বুকিং