প্রয়োজন হলে জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন পুতিন: ক্রেমলিন
Published: 18th, February 2025 GMT
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন পড়লে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এ মুহূর্তে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আলোচনার টেবিলে বসেছেন মস্কো ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা। তবে ওই আলোচনায় কিয়েভকে বা ইউরোপের দেশগুলোকে যুক্ত করা হয়নি। এমনই একসময় জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে পুতিনের আগ্রহের বিষয়ে কথা বললেন পেসকভ।
সাংবাদিকদের পেসকভ বলেন, পুতিন নিজেই বলেছেন যে দরকার পড়লে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন তিনি। তবে (ইউক্রেনে) জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো সমঝোতার আইনি ভিত্তিটা আলোচনা করা দরকার।
পুতিন এর আগে বেশ কয়েকবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত বছরের মে মাসে তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের দেশে রাশিয়ার অভিযান চলছে। এ ছাড়া সামরিক শাসন জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব।
এদিকে তিন বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা চালানোর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হচ্ছে। রিয়াদে এ বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আরও পড়ুনইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া২ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ইউক র ন
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়ে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে তেহরান। ওমানের মাধ্যমে এই জবাব দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্পের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের জবাব ‘ওমানের মাধ্যমে যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে’।
আরাগচি বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে থাকা অবস্থায় সরাসরি আলোচনায় যুক্ত না হওয়ার আমাদের নীতি এখনো বহাল আছে। তবে অতীতের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলতে পারে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জবাবের মধ্যে একটি চিঠি রয়েছে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের চিঠির বিষয়ে আমাদের অভিমত বিস্তারিত তুলে ধরেছি।’
আরও পড়ুনইরানের নেতাকে ট্রাম্পের চিঠি০৭ মার্চ ২০২৫‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা সরে আসেন এবং দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিল ইরান।
৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তিনি চিঠি লিখেছেন। তেহরান আলোচনায় বসতে রাজি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে আলোচনায় বসার জন্য ইরান দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।