ডিম দেখে অবশ্য বোঝার উপায় নেই, কুসুমের রং কী হবে। তবে কোথা থেকে ডিম নেওয়া হলে সেটির কুসুমের রং কেমন হয়, কেনাকাটা করতে করতেই এ সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে যেতে পারে আপনার। তাহলে কোথা থেকে কেনা ডিম সবচেয়ে ভালো হবে, তা আপনি নিজেই বুঝে নিতে পারবেন, যদি কুসুমের রঙের গুরুত্ব আপনার জানা থাকে। এ বিষয়ে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান

কেন হয় রঙের তারতম্য

মুরগি বা হাঁসের খাবারের ওপর নির্ভর করে ডিমের কুসুমের রং। খাবার যদি হয় গম, তাহলে ডিমের রং হয় হালকা হলুদ। ভুট্টা বা সয়াজাতীয় খাবার খাওয়ানো হলে ডিম হয় হলুদ রঙের। বাণিজ্যিকভাবে খামারগুলোতে এ–জাতীয় খাবার দেওয়া হয়। তবে যেসব মুরগি ও হাঁস বাড়ির কাছে চড়ে বেড়ায়, বাগান কিংবা রান্নাঘরের বহুবিধ উচ্ছিষ্ট খায়, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। নানান ধরনের বীজ, ঘাস, আগাছা ও খুদে পোকামাকড় খাওয়ার কারণে তারা খাবার থেকে ক্যারোটিনজাতীয় উপাদান বেশি পায়। আর এই ক্যারোটিনের জন্য কুসুমের রং হয় উজ্জ্বল সোনালি, কমলা বা লালচে।

আরও পড়ুনভাজা ডিম নাকি সেদ্ধ, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? ২৩ আগস্ট ২০২৪পুষ্টিগুণে সেরা কুসুম কোনটি

নানান ধরনের খাবার থেকে পাওয়া ক্যারোটিন যে কেবল ডিমের কুসুমের রংই দেয়, তা কিন্তু নয়। বিটা ক্যারোটিন হলো ভিটামিন ‘এ’। তার মানে উজ্জ্বল সোনালি, কমলা বা লালচে রঙের ডিমে আপনি কিছুটা বেশি ভিটামিন ‘এ’ পেতে পারেন। নানা ধরনের খাবার খাওয়া মুরগি বা হাঁসের ডিমে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও বেশি থাকে। তবে আকারটাও গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের আকার যদি খুবই ছোট হয়, তাহলে কিন্তু সেটির কুসুমে সব পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ আর অতটা বেশি পাবেন না। সে ক্ষেত্রে রোজকার পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দেড়টি বা দুটি ডিম খেতে হতে পারে আপনাকে। অন্যদিকে হলুদ কুসুমের একটা মোটামুটি বড়সড় ডিম থেকেই আপনি প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুনপ্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো না মন্দ০৪ নভেম্বর ২০২৪তাহলে কোন ডিম খাবেন

বাণিজ্যিকভাবে পালা হাঁস ও মুরগির ডিম আকারে বড় বলেই যে সেটি বেছে নেওয়া ভালো, ব্যাপারটা কিন্তু এমনও নয়। এসব হাঁস ও মুরগির খাবারে নানান ধরনের রাসায়নিক যুক্ত হতে পারে। দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য গ্রোথ হরমোন দেওয়া হতে পারে। নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যান্টিবায়োটিকও প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। তাই হলুদ কুসুমের ডিম খেতে হলেও এমন জায়গা থেকে নিতে চেষ্টা করুন, যেখানে বিধিমালা মেনেই হাঁস-মুরগি পালা হয়। অর্গানিক খাবার খাওয়ানো হয়, এমন কোনো জায়গাই বেছে নিতে পারেন।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাওয়া মুরগি ও হাঁসের ডিম দারুণ পুষ্টিকর। তুলনামূলক নিরাপদও বটে। তাই চেষ্টা করুন, খোলা উঠানে পোষা মুরগি বা হাঁসের ডিম কিনতে। অবশ্য আপনি চাইলেই যে সব সময় পোষা হাঁস বা মুরগির ডিম পাবেন, সেটাও তো নয়। আবার কুসুমের রং সোনালি, কমলা বা লালচে করার জন্য যে লালচে ধরনের রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার খাওয়ানো হয় না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই নির্ভরযোগ্য মানুষের কাছ থেকে পোষা হাঁস বা মুরগির ডিম কেনাই সবচেয়ে ভালো।

আরও পড়ুনডিম কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার২৩ ডিসেম্বর ২০২৪.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ধরন র

এছাড়াও পড়ুন:

‘বাঘের থাবার দাগ’ সময়ের স্মারক হয়ে আছে যে মসজিদের দেয়ালে

জায়গাটিতে তখন এত মানুষের বসতি ছিল না। ঝোপ-জঙ্গলে স্থানটি দুর্গম ছিল, অন্য রকম ছিল। বাঘসহ অন্য সব বন্য প্রাণীর বিচরণ ছিল এই স্থানটিতে। এটা অনুমান করা যায় পাঁচ শতাধিক বছর আগের তৈরি মসজিদের দেয়ালের একটি চিহ্ন থেকে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, ওই চিহ্নটি ‘বাঘের পায়ের থাবার’। সেই দাগ এখনো দেয়ালটিতে সময়ের স্মারক হয়ে আছে। মসজিদটিতে সময়ে সময়ে নানা রকম সংস্কার ও উন্নয়নকাজ হয়েছে। তবে পুরোনো আদল, ‘বাঘের থাবার চিহ্ন’, ফুলের নকশা এখনো বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

মসজিদটির নাম ‘গয়ঘর ঐতিহাসিক খোজার মসজিদ’। অবস্থান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে। প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে এখনো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় টিকে আছে। শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন মসজিদটি দেখতে, নামাজ পড়তে। মসজিদকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনিরও কমতি নেই।

গত বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলে মসজিদটিতে গিয়ে দেখা গেছে, তখন সূর্য অনেকটাই হেলে পড়েছে পশ্চিমের দিকে। আসরের নামাজের সময় হয়ে গেছে। আজান পড়তেই চারদিক থেকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে ছুটে এসেছেন। স্থানীয় লোকজন জানালেন, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজের সময় এ রকমই হয়ে থাকে। তবে শুক্রবারে জুমার নামাজে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজে শামিল হতে অনেক দূরের মানুষ এখানে ছুটে আসেন। তখন অনেক সময় মুসল্লিদের স্থান সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় মসজিদের পুরোনো ভবন অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দিকে জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ পাশেও অস্থায়ীভাবে শামিয়ানা টাঙিয়ে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরের পূর্ব দিকের দেয়ালের থামে এই দাগটি বাঘের থাবার বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বুধবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গয়ঘরে

সম্পর্কিত নিবন্ধ