জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতিদের মতবিনিময় নতুন নয়। তবে অধিনায়কদের মতামত জানতে চেয়ে একসঙ্গে বসার ঘটনা নতুন। দেশের ক্রিকেটের বড় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মতবিনিময় করেন সভাপতি ফারুক আহমেদ। মতবিনিময় সভা হলেও অলিখিত মিটিংও বলছেন কেউ কেউ। কারণ বিসিবি সভাপতি অধিনায়কদের কাছে বিপিএল, জাতীয় লিগ, ঢাকা লিগ, স্কুল ক্রিকেটের মানোন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ চেয়েছেন। অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে অধিনায়করাও নিজেদের মতামত দিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগের চাওয়া টি২০ ক্রিকেট দিয়ে মৌসুম শুরু করা। আইএল টি২০ ও এসএ২০ লিগের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে বেশির ভাগের পরামর্শ বিপিএলের স্লট এগিয়ে আনার পক্ষে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে বিপিএলের স্লট দেওয়া আছে ডিসেম্বর-জানুয়ারি। এই স্লট ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানান বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস। তাই বিপিএল স্লট নভেম্বর-ডিসেম্বরে আনতে হলে নতুন করে আইসিসির অনুমোদন নেওয়ার ব্যাপার আছে। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার জানান, বিসিবি সভাপতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে স্লট নিয়ে কথা বলতে চান।
তিনি বলেন, ‘ফারুক ভাই নিজেও একজন অধিনায়ক। তিনি আমাদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কীভাবে বিপিএলকে ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটের অগ্রগতিতে পরামর্শ চেয়েছেন। আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি। ফারুক ভাই নোট নিয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, অধিনায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিপিএল ফোকাসে থাকার কারণ হলো– টুর্নামেন্টের মানোন্নয়ন করতে হলে স্লট এগোতে হবে। ভালোমানের বিদেশি ক্রিকেটার পেতে চাইলে আইএল টি২০ বা এসএ২০ লিগের স্লট এড়াতে হবে। কারণ, এ দুটি লিগে আইপিএলের তিন-চারটি দল খেলে। ওখানে টাকা বেশি, আইপিএলে খেলা বিদেশিদের একটা বাধ্যবাধকতা থাকে। এ ক্ষেত্রে বিপিএল ডিসেম্বরে করা গেলে ভালো। বিসিবি সভাপতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গিয়ে অন্য বোর্ড সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। আশা করি, একটি সুন্দর সমাধান হবে।’
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন জানান, একাদশ বিপিএলের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেটা টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এনসিএল টি২০ লিগ করার চিন্তা, অক্টোবরের ১৫ তারিখ থেকে জাতীয় লিগের খেলা। চার রাউন্ড হবে। বাকি তিন রাউন্ড হবে বিপিএল শেষে। এতে করে টেস্ট ক্রিকেটারদের লম্বা সময় বিরতি দিতে হবে না।’ বিপিএলকে আকর্ষণীয় করতে ছয়টি দল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। অধিনায়কদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ মেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুমিনুল হক ও লিটন কুমার দাস সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। খালেদ মাসুদ পাইলট, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান জুমে যুক্ত হয়েছিলেন।
আশরাফুল নিজের মতামতে বলেছেন, ‘ফারুক ভাই জানতে চেয়েছিলেন, ঘরোয়া ক্যালেন্ডার কেমন হওয়ায় উচিত। আমাদের মৌসুম শুরু হয় চার দিনের ক্রিকেট দিয়ে। আমি মনে করি, মৌসুম শুরু হওয়া উচিত টি২০ দিয়ে। কারণ অক্টোবরে বৃষ্টির প্রভাব থাকে। চার দিনের ছয়টি ম্যাচের দুটি অন্তত খেলা হয় না। টি২০ দিয়ে শুরু হলে বৃষ্টি বন্ধ হলে খেলতে পারবে। এনসিএল টি২০ দিয়ে শুরু হলে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও খেলোয়াড় নির্বাচন করতে পারবে মাঠের পারফরম্যান্স দেখে। এ ছাড়া বলেছি, বিপিএল চলাকালে এক থেকে দেড়শ খেলোয়াড় ঘরে বসে থাকে। মুমিনুলের মতো খেলোয়াড় প্রায় ৪৫ দিন ঘরে বসে ছিল। অনেক কোচ আছে, যারা বিপিএলে দল পায় না। তাদের দিয়ে রাজশাহী বা বগুড়াতে বিসিবির তত্ত্বাবধানে আরেকটি টুর্নামেন্ট হতে পারে।’
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ব প এল দ র মত মত ট ২০ দ য় প এল র ব প এল
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়ে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে তেহরান। ওমানের মাধ্যমে এই জবাব দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্পের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের জবাব ‘ওমানের মাধ্যমে যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে’।
আরাগচি বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে থাকা অবস্থায় সরাসরি আলোচনায় যুক্ত না হওয়ার আমাদের নীতি এখনো বহাল আছে। তবে অতীতের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলতে পারে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জবাবের মধ্যে একটি চিঠি রয়েছে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের চিঠির বিষয়ে আমাদের অভিমত বিস্তারিত তুলে ধরেছি।’
আরও পড়ুনইরানের নেতাকে ট্রাম্পের চিঠি০৭ মার্চ ২০২৫‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা সরে আসেন এবং দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিল ইরান।
৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তিনি চিঠি লিখেছেন। তেহরান আলোচনায় বসতে রাজি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে আলোচনায় বসার জন্য ইরান দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।