বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়ায় বাড়ি ষাটোর্ধ্ব ফরিদ উদ্দীনের। নানা প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তাকে চার কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে আসতে হয়। 
এ জন্য দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিকল্প কোনো পথ নেই। ভাঙাচোরা এই সড়কের ক্রমাগত ঝাঁকিতে সুস্থ অবস্থায় সকালে বেরিয়ে বিকেলে ফিরতে ফিরেত অসুস্থ হয়ে পড়েন ফরিদ উদ্দীন। 
গত শুক্রবার কথা হয় ফরিদ উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তাটি ঠিক হওয়ার বদলে দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। ঠিকাদার বা সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তার যেন এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। জেলার কোথাও এমন ভয়াবহ খারাপ রাস্তা তাঁর চোখে পড়েনি। 
জেলা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণ ও সংস্কারে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে মাহাবুব ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগেও দুই দফা সময় বাড়িয়ে তারা ১০ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। যে কারণে সড়কের এখানে-ওখানে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা। পাশাপাশি হঠাৎ মোড়ের কারণে সড়কটিতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গর্ত বাঁচিয়ে নানা কসরত করে যানবাহন নিয়ে যেতে হয় চালকদের। চারদিকে যেন ধুলার রাজত্ব। যে কারণে পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ছে দিন দিন। 
শুক্রবার সকালে দশানী থেকে ডেমা এলাকা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের পুরোটি ভাঙাচোরা দেখা যায়। ছোট-বড় গর্তের সংখ্যা গণে শেষ করা কঠিন। এমন অবস্থার মধ্যেই যাত্রীবাহী রিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন চলছে। প্রায়ই এই সড়কে আটকে যায় ভারী ট্রাক, কখনও ভেঙেও পড়ে। তখন চরম যানজট দেখা দেয়। 
নিয়মিত এই সড়কে যাত্রী পরিবহন করেন ইজিবাইক চালক রাসেল শেখ। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নামলে মনে হয় আজাবের মধ্যে এসে পড়লাম। গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ঝাঁকিতে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটিকে এখন রোগী বানানোর সড়ক বলা যায়।’
মুসা মিয়া নামের আরেকজন ইজিবাইক চালক বলেন, ‘গর্তে গাড়ি পড়লেই এক সাইডে এমনভাবে বেঁকে যায়– মনে হয় যেন, উল্টে পড়ে গেলাম। রোগী থাকলে তাদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে যায়।’
এই সড়ক ধরেই বাগেরহাটের সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে যেতে হয় ডেমা এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল হাসানকে। ভাঙা সড়কের জন্য তাঁকে গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া। এ ছাড়া দ্বিগুণ সময় লাগে জানিয়ে রাকিবুল বলেন, ঝাঁকুনি ও কষ্ট যে কী পরিমাণ হয়, তা বলে বোঝানো কঠিন।
মির্জাপুর এলাকার ষাটোর্ধ্ব রিনা বেগম বলেন, ‘রাস্তায় চলাচল করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। কোমরে-পায়ে ব্যথা পাই। বেঁচে থাকতে কি এই রাস্তা নির্মাণ শেষ হবে না?’
ধুলাবালির কারণে দোকান খোলা রাখতে মুশকিলে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। এ তথ্য জানিয়ে কাড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রানা আকুঞ্জি বলেন, ‘ক্রেতারা আসতে চায় না। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগে আছি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, রাস্তার সব জায়গায় ছোট ছোট পাথর ফেলা 
হয়েছে। সড়কের পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দিন দশেক আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের 
দুই শিক্ষার্থী রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় কোনো যানবাহনের চাকা থেকে ছিটকে আসা 
পাথর ছিটকে তাদের মাথায় লাগে। পরে শিশু দুটিকে হাসপাতালে নিতে হয়।
একই এলাকার মিলু আকুঞ্জি বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাঁর কথার সত্যতা মেলে জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো.

তৈয়বের কথায়। তিনি বলেন, এই সড়কে 
যেতে এমন হয়েছে, রাস্তার ঝাঁকিতে গাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাচ্চা প্রসব হয়ে গেছে। 
অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গাড়ি চালানোই যায় না এখান দিয়ে।
সড়কের কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে মাহাবুব ব্রাদার্সের স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। যদি তারা এখনও কাজ না করে ফেলে রাখে, তাহলে চুক্তিপত্র বাতিল করবেন। পরবর্তী সময়ে অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সড়ক অবস থ সড়ক র

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদে ভার্সেটাইল মিডিয়ার তারকাবহুল আয়োজন

ঈদের আনন্দকে আরও বেশি রঙিন করতে ভার্সেটাইল মিডিয়া নিয়ে আসছে  তারকাবহুল তিন নাটক। যে নাটকগুলোতে থাকছেন এই সময়ের সেরা নাট্যকার, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণ।  এতে অভিনয় করেছেন মুশফিক ফারহান,  অর্চিতা স্পর্শিয়া, নিলয় আলমগীর, হিমি, আরশ খান ও তাসনুভা তিশা। 

তিনটি বৈচিত্র্যময় গল্পের এই নাটকের একটি ‘প্রতিদান’। ফেরারি ফরহাদের চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন শাহ মুহাম্মদ রাকিব। প্রবাসী এক তরুণের দেশে ফেরার পর তার অর্থ ও সম্পর্কের ক্রাইসিস নিয়ে এগিয়েছে এর গল্প। যে গল্পে প্রবাসী তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুশফিক ফারহান। তার বিপরীতে আছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া। এতে আরও অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, শিল্পী সরকার অপু, হিমে হাফিজ ও নিকোল কুমার মণ্ডলসহ অনেকেই। 

নাটকে এই সময়ের অন্যতম আলোচিত জুটি নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এই জুটিকে নিয়ে ভার্সেটাইল মিডিয়ার নিয়ে আসছে নাটক ‘সামার ভ্যাকেশন’। নাটকটি মূলত কিছুটা কমিডি ঘরানার। কিন্তু তাতে নেই কোনো ভাড়ামি।  শহরে বড়লোক বাবার উড়ণচণ্ডি  এক জীবনকে উপভোগ করতে গ্রামে যান। এর ঘটে নানা ঘটনা। মূলত নাটকটির গল্পে অজপাড়া গায়ে সুন্দর একটি গল্প চিত্রায়িত হয়েছে এতে। নির্মাতা মাহমুদ হাসান রানার পরিচালনায় এতে নিলয়-হিমি ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাবরিনা রনি,জুলফিকার চঞ্চল, ইমরান আজান, আশরাফুল ইসলাম বাবু, মোহিত তমালসহ অনেকেই।

তরুণ অভিনেতা আরশ খানের সঙ্গে তাসনুভা তিশাকে জুটি করে নির্মাতা সকাল আহমেদ নির্মাণ করেছেন নাটক ‘পাপজন্ম’। নির্মাতার ভাষ্যে, একটি চমকপ্রদ গল্প, দুর্দান্ত অভিনয় আর অসাধারণ নির্মাণশৈলী দেখা যাবে নাটকটিতে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে আরশ-তাসনুভা তিশা ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু,রকি খান, শম্মা নিজাম, শাখাওয়াত শোভন,মনোজ রয়সহ অনেকেই। 

চাঁদরাত থেকে নাটকগুলো ভার্সেটাইল মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হবে। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ