ভারতের চেয়ে সিঙ্গাপুরে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের খরচ বেড়েছে
Published: 17th, February 2025 GMT
এক সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিরা বেশি খরচ করতো। এবার ক্রেডিট কার্ডে খরচের দিক দিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে সিঙ্গাপুরে বেশি খরচ করছে বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সেবা ও পণ্য কিনে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ৪৯১ কোটি টাকা খরচ করেছেন। যা নভেম্বর মাসের চেয়ে ৬০ কোটি টাকা বেশি। নভেম্বর মাসে ক্রেডিট কার্ডে ৪৩১ কোটি টাকা খরচ করেছিল বাংলাদেশিরা। এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুর গিয়ে বাংলাদেশিরা ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করেছে। যা বাংলাদেশিদের মোট ক্রেডিট কার্ডের খরচের ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নভেম্বরে দেশটিতে খরচের পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশীরা ক্রেডিট কার্ডে বেশি খরচ করে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত ও ইউকে। বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচের ৫০ শতাংশের বেশি এই ৫ দেশে হয়েছে। নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বর মাসে আমেরিকা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশিদের খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে ভারতে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের খরচ কমেছে। তবে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিরা খরচের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপরই থাইল্যান্ডের অবস্থান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় বাংলাদেশিরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বেশি খরচ করতো। কারণ বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতি মাসে ভারতে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য যেত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ কারণে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের খরচ ভারতে কমেছে।
বিপরীত দিকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশিদের ভ্রমণ বেড়েছে। সে হিসেবে দেশগুলোতে ক্রেডিট কার্ডে খরচও বেড়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা ৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ করেছেন, যা মোট খরচের ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। আমেরিকার খরচের এ অঙ্ক নভেম্বরে ছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা ৬৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ করেছেন, যা মোট খরচের ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।
থাইল্যান্ডে খরচের এ অঙ্ক নভেম্বরে ছিল ৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য গিয়ে খরচ করেছে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ৩৪ কোটি ৮০ লাখ এবং সৌদি আরবে ৩৪ কেটি টাকা কার্ডে খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর ১২ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারেন। এ অর্থ কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারেন, আবার বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ ডলারও সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। তবে কার্ডের মাধ্যমে ডলার পেমেন্ট করতে গেলে একবারে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ রয়েছে।
এনএফ//
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ল দ শ দ র খরচ ড স ম বর ম স খরচ করত দশম ক খরচ র
এছাড়াও পড়ুন:
৩০০ বছরের পুরোনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘উলচাপাড়া শাহী জামে মসজিদ’
বিশাল চওড়া ফটক। ফটকের ওপর কারুকাজে নির্মিত দুটি মিনার। সুউচ্চ ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলে ছয়টি ছোট–বড় মিনার ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন মসজিদ চোখে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উলচাপাড়া এলাকার এই মসজিদের নাম উলচাপাড়া মসজিদ। এলাকাবাসীর কাছে এটি ‘উলচাপাড়া শাহী জামে মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।
মসজিদটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এটি বর্তমানে দেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।
চার ফুট উচ্চতার মজবুত প্ল্যাটফর্মের ওপর চুন–সুরকি, ইট আর কালো পাথরের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে মসজিদের অবকাঠামো। মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপকাটা মৌলিক টেরাকোটার অলংকরণ। মসজিদটি প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। পশ্চিমাংশে নামাজের কক্ষ আর নামাজের কক্ষের পূর্ব পাশে বারান্দা। মসজিদের ওপর বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট নামাজের কক্ষ এবং পূর্ব ভাগে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বারান্দা আছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্থানের তালিকায় উলচাপাড়া মসজিদের নাম উল্লেখ আছে। সেখানে উলচাপাড়া মসজিদের বিষয়ে উল্লেখ আছে, মসজিদের নির্মাণ কৌশল ও মসজিদে ব্যবহৃত ইট দেখে মনে হয় যে এটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত। মসজিদে পাওয়া শিলালিপি পাঠ থেকে জানা যায়, ১৭২৭–২৮ সালে কোনো বণিক কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।
এই মসজিদে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা উবায়দুল্লাহ। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে আসতে পারেন না। বর্তমানে মসজিদ তত্ত্বাবধান করছেন মাওলানা আখতারুজ্জামান। কথা হলে তাঁরা দুজন প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদটি ৩০০ বছরের পুরোনো। অনেক মানুষ এই মসজিদ দেখতে এলাকায় আসেন। তবে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে তাঁরা বেশি কিছু জানেন না বলে জানালেন।
মসজিদে কথা হয় ইতিকাফে বসা উলচাপাড়ার গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের (৬৫) সঙ্গে। তাঁর বাবা এনায়েত আলী এই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১০৫ বছর বয়সে এনায়েত আলী মারা যান। হাবিবুর রহমানের দাদা মোহাম্মদ তোরাব আলী মৃধাসহ পরদাদারা এই মসজিদে নামাজ পড়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। এর পর থেকে মসজিদের কোনো সংস্কারকাজ এলাকাবাসী চাইলেও করতে পারছেন না। মসজিদটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। প্রতিদিন অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে এই গ্রামে আসেন।