মারা গেলে নয়, সব সময় বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করতে হবে
Published: 17th, February 2025 GMT
কোরআনে মা-বাবার জন্য সন্তানকে আল্লাহ একটা দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। দোয়াটি হলো ‘রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।’ কেউ কেউ মনে করেন, রহমতের এ দোয়াটি মৃত মা-বাবার জন্য। দোয়াটির অর্থ হচ্ছে, ‘আমার প্রতিপালক! বাবা-মায়ের ওপর দয়া করো, যেভাবে ছেলেবেলায় বাবা-মা আমাকে লালন-পালন করেছিলেন।’
মা-বাবার জীবিত থাকা অবস্থায়ও এই দোয়াটি পড়া যায়। মূলত ইসলাম মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন। তোমার জীবদ্দশায় ওঁদের একজন বা দুজনই বার্ধক্যে পৌঁছালেও তাঁদের ব্যাপারে “উহ-আহ্” বোলো না, আর ওঁদের অবজ্ঞা কোরো না, ওঁদের সঙ্গে সম্মান করে নম্রভাবে কথা বলবে। তুমি অনুকম্পার সঙ্গে, বিনয়ের ডানা নামাবে, আর বলবে, হে আমার প্রতিপালক! ওঁদের ওপর দয়া করো, যেভাবে ছেলেবেলায় ওঁরা আমাকে লালন-পালন করেছিলেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩-২৪)
সব অবস্থায় মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.
কোরআনে আছে, আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে (ভালো ব্যবহারের) নির্দেশ দিয়েছি। কষ্টের পর কষ্ট করে জননী সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে, আর তার দুধ ছাড়াতে ছাড়াতে দুই বছর লেগে যায়। তাই আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার ওপর কৃতজ্ঞ হও। আমার কাছেই তো প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৪)
মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করার হাদিস অনেক রয়েছে। একটি হাদিসে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার মিম্বরের ওপর উঠে তিনবার আমিন বলেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে জিবরাইল (আ.) এসেছিলেন। এসে তিনি বলেন, হে নবী (সা.)! ওই ব্যক্তির নাক ধুলামলিন হোক, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হয়, অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পড়ে না। বলুন, আমিন। সুতরাং আমি আমিন বললাম। আবার তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি জীবনে রমজান মাস এল এবং চলেও গেল, অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। বলুন, আমিন। আমি আমিন বললাম। আবার তিনি বললেন, ওই ব্যক্তিকেও আল্লাহ ধ্বংস করুন, যে তার বাবা-মা উভয়কে পেল অথবা কোনো একজনকে পেল, অথচ তাদের খিদমত করে জান্নাতে যেতে পারল না। আমিন বলুন। আমি তখন আমিন বললাম।’
মাতা-পিতার খেদমত ও রমজানকোরআনে আরও আছে, ‘আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছি, তবে ওরা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করে, যার সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মানবে না। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন (করতে হবে)। তারপর তোমরা ভালোমন্দ যা কিছু করেছ, আমি তা তোমাদের জানিয়ে দেব।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাতা-পিতার রাজি-খুশির মধ্যেই আল্লাহর রাজি-খুশি। মাতা-পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (সুনানে তিরমিজি)
অন্য একটি হাদিসে আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। তা হলো ক. মজলুমের দোয়া, খ. মুসাফিরের দোয়া এবং গ. সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া।’ (সুনানে তিরমিজি)
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বাবা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। এখন তোমাদের ইচ্ছা, এর হেফাজত করো অথবা একে নষ্ট করে দাও।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯০১)
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করেন, কোন আমল মহান আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়? রাসুল (সা.) বললেন, সময়মতো নামাজ আদায় করা। তিনি বললেন, তারপর কোন কাজ? তিনি বললেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। তিনি বললেন, তারপর? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (বুখারি, হাদিস: ৫,৯৭০)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘এক লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, তোমার বাবা-মা কি জীবিত? সে বলল, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি তাদের খেদমতে জিহাদ করো।’ (মুসলিম, হাদিস: ২,৫৪৯)
ইসলামে মায়ের সম্মান ও অধিকারউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আম র ক ছ ব যবহ র আল ল হ র জন য বল ছ ন বলল ন র ওপর ক রআন
এছাড়াও পড়ুন:
‘বৈষম্য দূরীকরণে আর কাউকে যেন রক্ত দিতে না হয়’
বৈষম্য দূরীকরণে আর কাউকে যেন রক্ত দিতে না হয়, আজকের দিনে এই আমাদের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের পাশে আমরা সব সময় আছি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে অর্থ সহায়তা দিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। আড়াইহাজার উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসক বলেন, তারা যে স্বপ্ন নিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন, বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়েছেন, তা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাদের স্বপ্ন লালন করে সমাজ থেকে সব বৈষম্য দূর করতে হবে। আমরা একটা সুন্দর সমাজ গড়তে চাই। এটা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। যদি তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে এটা হবে আমাদের জন্য চরম ব্যর্থতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন, ইউএইচএফপিও ডা. হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ, সাবেক ভিপি কবির হোসেন প্রমুখ।