গত আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দলে জায়গা পেলেও ইনজুরির কারণে এক ম্যাচও খেলতে পারেননি আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমান। পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর কলকাতা তাকে রিটেন করেনি, আর ড্রাফটেও কোনো দল তাকে দলে নেয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে তার জাতীয় দলের সতীর্থ আল্লাহ গজনফর ছিটকে পড়ায় আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়ে গেলেন মুজিব।
আফগানিস্তান দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে পিঠের চোটে পড়েন গজনফর। সেই চোটের কারণে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাশাপাশি আইপিএল থেকেও ছিটকে গেছেন। তার বদলি হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলে নিয়েছে মুজিবকে।
বদলির এই বিনিময় বেশ মজার এক ঘটনা তৈরি করেছে। গত মৌসুমে যখন মুজিব ইনজুরির কারণে আইপিএল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন, তখন তার বদলি হিসেবে কলকাতা দলে নিয়েছিল গজনফরকে। এবার উল্টো ঘটল, গজনফর চোটে পড়ায় সুযোগ পেলেন মুজিব।
গজনফরকে ৪.
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মুজিব এখন পর্যন্ত ২৫৬টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২৩.৬৭ গড় ও ৭.৭৫ ইকোনমি রেটে ২৭৫ উইকেট শিকার করেছেন। মুম্বাইয়ের হয়ে তার নতুন আইপিএল যাত্রা শুরু হবে আগামী মাসে। ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে এবারের আইপিএল, যার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে। তবে পুরো সূচি এখনও প্রকাশ করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
‘বাইচ্চান্তরে লইয়া বড়া ও হান্দেশ খাইমু, ইলাই আমরার ঈদ’
দলা পাকানো চালের গুঁড়া চ্যাপটা করে ছোট ছোট বড়া বানানোর পর সেগুলো কড়াইয়ে দিচ্ছিলেন লাভলী বেগম (২৫)। চুলায় খড়ের আগুন কমে আসছিল বারবার। মাথা নিচু করে চুলার নিচ দিকে ফুঁ দিতে দিতে ধোঁয়ায় নাস্তানাবুদ অবস্থা। কুলায় যে পরিমাণ চালের গুঁড়া, তাতে ২০ থেকে ৩০টা বড়া হবে।
ঈদের আয়োজন বলতে কি শুধু এই কয়টি বড়া? লাভলী বলেন, ‘মাইয়ে (মা) কিছু গুড় আনছিলা। গুড়ের হান্দেশ (সন্দেশ) করছি। আর কিতা করমু। সকালে বাইচ্চান্তরে লইয়া বড়া ও হান্দেশ খাইমু। ইলাই আমরার ঈদ।’ কথা শেষের সঙ্গে সঙ্গে লাভলী বেগমের একটা দীর্ঘশ্বাস যেন হাওরের বাতাসে মিশে গেল। তাঁর পাশে তখন পাখির ছানার মতো বসা দুই সন্তান সাহানা (৫) ও আবির (৩)। তাদের চোখ কড়াইয়ে, তেলের ওপর ভাসতে থাকা বড়ার দিকে।
লাভলী বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপারের কান্দাহাটি গ্রামে। গতকাল রোববার পড়ন্ত বিকেলে ওই গ্রামে গিয়ে কথা হয় লাভলী ও তাঁর পরিবারের অন্যদের সঙ্গে। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বন্যার সময় ওই গ্রামের যাওয়ার পর প্রথম দেখা হয়েছিল। বন্যা সব শেষ করে দিয়ে গেছে তাঁদের। হাওরের ঢেউয়ে তখন ঘরটি ভেঙে পড়ে।
লাভলী তিন সন্তান নিয়ে মা সবুরা বেগমের সংসারে আছেন। বাবা নেই; নেই মানে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে চলে গেছেন বহু আগে। লাভলীরও একই অবস্থা, স্বামী আরেকটা বিয়ে করে আলাদা থাকেন। এখন সবুরার আটজনের সংসার। ছেলে জহুরুল ইসলামের (২০) স্ত্রী ও এক মেয়ে আছে। এই সংসার মূলত সবুরা বেগম ও ছেলে জহুরুল ইসলামের শ্রম-ঘামে চলে। সবুরা, জহুরুল দুজনই শ্রমিক। যখন যে কাজ পান, সেটাই করেন, কিন্তু অভাব যায় না।
ঘরের চুলায় তেলের বড়া ভাজছেন লাভলী বেগম। সুনামগঞ্জের দেখার হাওরপারের কান্দিগাঁও গ্রাম থেকে গতকাল রোববার বিকেলে