অনেক গণমাধ্যম স্বৈরাচারের হাতকে শক্তিশালী করেছে: প্রেস সচিব
Published: 16th, February 2025 GMT
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অনেক সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন আবার অনেকে ট্রমাটাইজ। সব চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে অনেক গণমাধ্যম ভালো সাংবাদিকতা করেছেন। এর বাইরে অনেক গণমাধ্যম দালালি করেছে। শুধু এক মাস নয়, এর আগে আওয়ামী লীগের পুরোটা সময় ক্ষমতাসীনদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছে অনেক গণমাধ্যম। স্বৈরাচারের হাতকে শক্তিশালী করেছে।’
আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী বয়ান: ফিরে দেখা ১ থেকে ৩৬ জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমে স্বৈরাচারের পক্ষে যত বয়ান তৈরি হয়েছে, তার সবকিছু নথিভুক্ত করা হবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘১-৩৬ জুলাই গণমাধ্যমের ভূমিকা নথিভুক্ত করা হবে। অনেক গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এরমধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যার বৈধতা দিয়েছে। ভয়াবহ সাংবাদিকতা হয়েছে। পূর্বাচলের প্লট পাওয়ার জন্য অনেক সাংবাদিক এমন ভূমিকা রেখেছে।’
নতুন বাংলাদেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা তৈরি করতে হবে। যেসব সংবাদ ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করতে পারে।’ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এলে সব পক্ষের সঙ্গেই বসা হবে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সরকার তদন্ত করবে না। করলে অনেকে বলবে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর বয়ান ডকুমেন্ট করা হবে। তাদের ভূমিকা নিয়েও গবেষণা করা হবে। কারো কণ্ঠ যেন রোধ না হয়, এমন বাংলাদেশ তৈরি করতে চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরাকর। এমন সাংবাদিকতা তৈরি হবে, যেখানে সব সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ব দ কত
এছাড়াও পড়ুন:
বিবিসির সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠাল তুরস্ক
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) সাংবাদিক মার্ক লোয়েনকে গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠিয়েছে তুরস্ক। তিনি দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করছিলেন। লোয়েনকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে বিবিসি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।
বিবিসি বলেছে, লোয়েনকে বুধবার ইস্তাম্বুলে গ্রেপ্তার করা হয়। চলমান বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে কয়েক দিন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পর এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এক বিবৃতিতে বিবিসি বলেছে, ‘আজ (বুধবার) সকালে বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক মার্ক লোয়েনকে ইস্তাম্বুল থেকে ফেরত পাঠিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। যে হোটেলে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে আগের দিন তুলে এনে তাঁকে ১৭ ঘণ্টা আটক রাখা হয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে মার্ক লোয়েন তুরস্কে অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হওয়ায় তাঁকে তুরস্ক ছাড়তে বলা হয়।’
দেশজুড়ে চলা সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ১ হাজার ৮৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তুরস্কের ১১ জন সাংবাদিকও রয়েছেন।
আরও পড়ুনতুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী কে এই একরেম ইমামোগলু২৬ মার্চ ২০২৫রোববার রাতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ব্যাপকতা বাড়ে। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এর আগে ২০ মার্চ বিক্ষোভ দমনে পিপার স্প্রে ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
ইমামোগলুকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। তাঁকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর ইমামোগলুকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)।