নাটোরের সিংড়ায় জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের বন্দুকের ছোড়া ছররা গুলিতে ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কদমকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কদমকুড়ি গ্রামে জমিতে পানি সেচ দেওয়া এবং মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। তিন দিন আগে কদমকুড়ি গ্রামের প্রয়াত চান্দু ফকিরের ছেলে ওয়াদুদ ফকিরের জমিতে পানি সেচ বন্ধ করে দেন প্রতিপক্ষ রতন আলী ও তার ভাই বিএনপি নেতা মানিক হোসেন। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা। 
শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় প্রতিপক্ষ রতন আলী ও তার ভাই মানিক হোসেনের নেতৃত্বে অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায় ১৫ থেকে ২০ জন। এতে তাদের বন্দুকের ছোড়া ছররা গুলিতে একপক্ষেরই ১২ জন গুলিবিদ্ধ আহত হন। বন্দুকের গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে রাতেই আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

ছররা গুলিতে আহতরা হল- ইব্রাহিম মন্ডল (৩২), এলাহী মন্ডল (২৮), হনুফা বেগম (৫২), আল আমিন মন্ডল (১৬), নাসিম আলী (২৫), সুজন আলী (১৭), শাকিল (১৮), রফিকুল ইসলাম (৪৮), ফরিদ আলী (৩৮), সুয়েল আলী (২৪), আব্দুল আজিজ (৪৯), মান্নান হোসেন (৫৮), শাহাদত আলী (৩৯) ও মাসুদ রানা (৩২)।

গুলিবিদ্ধ অন্তত চারজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধে পানি সেচ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। সেখান থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। পরে মসজিদের হিসেব নিয়েও চলে উত্তেজনা। আর এই দুই বিষয় নিয়েই মানিক, রতনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন বন্দুক নিয়ে আচমকা গুলি করেন। 

আহতের স্বজন মামুন হোসেন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে কদমকুড়ি জামে মসজিদ কমিটি দখল করে রয়েছেন রতন আলী, আবুল হোসেন ও এছার উদ্দিন। দীর্ঘ সময়ে মসজিদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। রতনের কাছ থেকে বন্ধক রাখা জমিতে পানি দিতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতে এসে রতন, মানিক দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে বন্দুক দিয়ে গুলি চালিয়েছে।  

এ বিষয়ে কদমকুড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি রতন আলী ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দেওয়ায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

অভিযুক্ত আরেক ভাই ডাহিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘এখানে মসজিদের হিসাব-নিকাশের কোনো ঘটনা নেই। জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। আমি সিংড়ায় থাকি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি শুনেছি, কে বা কারা রাতে বন্দুক দিয়ে গুলি করেছে।’

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসমাউল হক বলেন, জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত আছে। বন্দুকের ছোড়া গুলিতে ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। চার জন নাটোর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছে। বন্দুক উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: বন দ ক র মসজ দ র

এছাড়াও পড়ুন:

জুলাই গনঅভ্যুত্থানে আহতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

জুলাই গনঅভ্যুত্থানে আহত এ এবং বি ক্যাটাগরি জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আর্থিক অনুদানের ১ম পর্বের চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

মোট ৩৫ জন তালিকার মধ্য থেকে এ ক্যাটাগরিতে ৬ জন ও বি ক্যাটাগরিতে ২২ জন মোট ২৮ জন উপস্থিত যোদ্ধাহাতদের মাঝে অনুদানের এ চেক হস্তান্তর করা হয়।

‎‎বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ)  দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

‎চেক বিতরণ কালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তিনি বক্তব্যে বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছিল। সে সংগ্রামে আমাদের অনেক ভাইয়েরা আত্মহুতি দিয়েছেন।

প্রথম শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ সহ আরো অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। যারা আহত হয়েছেন এর জন্য সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন এবং করবেন। যে অবদান আপনারা রেখেছেন এই আর্থিক অনুদান আপনাদের জন্য কিছুই না।

আপনাদের পাশে থাকতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাশে আছি ভবিষ্যতেও পাশে থাকব। আপনারা সমাজ সংস্কারে যেই ভূমিকা পালন করেছেন নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে, আমরা চির কৃতজ্ঞ। যারা এখনো আহত অবস্থায় আছেন আমরা আপনাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং এই ঈদকে সুন্দর ভাবে পালন করতে পারেন এই দোয়া করি।

যে আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এই আর্থিক অনুদান এর তুলনায় কিছুই না খুবই সামান্য। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন এই দোয়া করি।

‎‎নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র সভাপতিত্বে চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, ‎অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন, ‎অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্হাপনা) মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট রাশেদ খান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • মিয়ানমারের হাসপাতালে বাড়ছে আহতদের ভিড়, সেবা দিতে হিমশিম
  • বনানীতে বাস উল্টে ৪২ পোশাক শ্রমিক আহত
  • জুলাই গনঅভ্যুত্থানে আহতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ
  • জুলাই বিপ্লব পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল
  • গণ–অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবদুল হাফিজ