অত্যধিক শক্তিশালী রোবট তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা
Published: 16th, February 2025 GMT
রোবট নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ অনেক বছর ধরে। আধুনিক সময়ে রোবটের বহুমাত্রিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। একদল বিজ্ঞানী নতুন ধরনের রোবট নিয়ে কাজ করছেন, যেগুলো নাকি ধোঁয়ার মধ্যেও দেখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন রোবট নিয়ে কাজ চলছে। সেখানে বিজ্ঞানীরা রোবটের রেডিও-ভিত্তিক সেন্সিং–ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। পরীক্ষার সময় দেখা যায়, বেতারতরঙ্গ রোবট বা স্বায়ত্তশাসিত যানবাহনকে ঘন ধোঁয়া, তীব্র বৃষ্টি বা বিভিন্ন কোনায় দেখার সক্ষমতা দেয়। এ ধরনের তরঙ্গ লুকানো অস্ত্রও শনাক্ত করতে পারে।
বেতারতরঙ্গের ওপর ভিত্তি করে ভিজ্যুয়াল চিত্র অনুকরণ করা রোবট ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহনের জন্য বেশ অস্বাভাবিক ও অপ্রচলিত পদ্ধতি। সাধারণভাবে অপটিক্যাল ক্যামেরা, লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (লাইডার) প্রযুক্তি ও অন্যান্য সেন্সর রোবটদের দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদিও বেতারতরঙ্গ ব্যবহার করে রাডার, বিমান, জাহাজ ও আবহাওয়ার তথ্য জানার কাজ চলছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিংমিন ঝাও ও তাঁর গবেষক দল সেই বেতারতরঙ্গ ব্যবহার করে রোবটদের দেখার জন্য একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী উপায় তৈরি করেছেন। নতুন পদ্ধতিতে দেখা যায়, একটি অন-বোর্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা বেতারের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে চারপাশের পরিবেশের একটি ত্রিমাত্রিক চিত্র তৈরি করে। বিজ্ঞানী ঝাও বলেন, ‘আমরা মূলত রোবটদের অতিমানবীয় দৃষ্টি দিতে সাহায্য করছি। যেসব পরিস্থিতিতে মানুষের চোখ বা ভিজ্যুয়াল সেন্সর পারে না, তা রোবটরা পারবে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী রোবটকে আগুন লাগা ভবন থেকে মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।’
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বর্ণালির অংশ বেতারতরঙ্গ আসলে আলোর একটি রূপ। এই বর্ণালির মধ্যে এক্স-রে ও গামা রশ্মিও রয়েছে। বর্ণালির একটি ছোট অংশ দৃশ্যমান আলো হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। আলোকশক্তি বলে বেতারতরঙ্গ পৃষ্ঠ ও পদার্থ থেকে দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। অধ্যাপক ঝাও ও তাঁর দল রোবটকে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন, যেন তা বেতারতরঙ্গের প্রতিফলন অনুভব করতে পারে। বেতারতরঙ্গ দৃশ্যমান আলোকতরঙ্গের চেয়ে অনেক দীর্ঘ। অর্থাৎ ক্ষুদ্র ধোঁয়ার কণা দ্বারা অবরুদ্ধ হয় না। এই বিষয়কে মাথায় নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এই তরঙ্গের মাধ্যমে রোবটরা আশপাশের সব কোনায় দেখতে পারে।
মার্কিন সংস্থা ওয়াভসেনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফ্যাবিও দা সিলভা বলেন, ‘আমরা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেছি, যা আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে ও ক্রমাগতভাবে পুরো স্থানটি সম্পর্কে ধারণা দেয়। কোনো অ্যানটেনা না ঘুরিয়েই এই কাজ করা যায়।’
পুরো বিষয়টি আসলে বাদুড় যেভাবে তরঙ্গের মাধ্যমে ইকোলোকেশন ঠিক করে, তেমনই। এর আগে কিছু গবেষক বিভিন্ন অস্ত্র শনাক্ত করতে বেতারতরঙ্গ ব্যবহার করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
৩০০ বছরের পুরোনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘উলচাপাড়া শাহী জামে মসজিদ’
বিশাল চওড়া ফটক। ফটকের ওপর কারুকাজে নির্মিত দুটি মিনার। সুউচ্চ ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলে ছয়টি ছোট–বড় মিনার ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন মসজিদ চোখে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উলচাপাড়া এলাকার এই মসজিদের নাম উলচাপাড়া মসজিদ। এলাকাবাসীর কাছে এটি ‘উলচাপাড়া শাহী জামে মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।
মসজিদটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এটি বর্তমানে দেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।
চার ফুট উচ্চতার মজবুত প্ল্যাটফর্মের ওপর চুন–সুরকি, ইট আর কালো পাথরের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে মসজিদের অবকাঠামো। মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপকাটা মৌলিক টেরাকোটার অলংকরণ। মসজিদটি প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। পশ্চিমাংশে নামাজের কক্ষ আর নামাজের কক্ষের পূর্ব পাশে বারান্দা। মসজিদের ওপর বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট নামাজের কক্ষ এবং পূর্ব ভাগে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বারান্দা আছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্থানের তালিকায় উলচাপাড়া মসজিদের নাম উল্লেখ আছে। সেখানে উলচাপাড়া মসজিদের বিষয়ে উল্লেখ আছে, মসজিদের নির্মাণ কৌশল ও মসজিদে ব্যবহৃত ইট দেখে মনে হয় যে এটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত। মসজিদে পাওয়া শিলালিপি পাঠ থেকে জানা যায়, ১৭২৭–২৮ সালে কোনো বণিক কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।
এই মসজিদে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা উবায়দুল্লাহ। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে আসতে পারেন না। বর্তমানে মসজিদ তত্ত্বাবধান করছেন মাওলানা আখতারুজ্জামান। কথা হলে তাঁরা দুজন প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদটি ৩০০ বছরের পুরোনো। অনেক মানুষ এই মসজিদ দেখতে এলাকায় আসেন। তবে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে তাঁরা বেশি কিছু জানেন না বলে জানালেন।
মসজিদে কথা হয় ইতিকাফে বসা উলচাপাড়ার গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের (৬৫) সঙ্গে। তাঁর বাবা এনায়েত আলী এই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১০৫ বছর বয়সে এনায়েত আলী মারা যান। হাবিবুর রহমানের দাদা মোহাম্মদ তোরাব আলী মৃধাসহ পরদাদারা এই মসজিদে নামাজ পড়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। এর পর থেকে মসজিদের কোনো সংস্কারকাজ এলাকাবাসী চাইলেও করতে পারছেন না। মসজিদটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। প্রতিদিন অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে এই গ্রামে আসেন।