অনিয়ম ও নির্যাতন বন্ধে শহরে ইউরোটেক্স শ্রমিকদের মানববন্ধন
Published: 15th, February 2025 GMT
নানা অনিয়ম ও নির্যাতন বন্ধে শহরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে ফতুল্লার কুতুবপুরস্থ নয়ামাটির ইউরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের নেতা রায়হান শরীফের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের নেতা, সালাউদ্দিন প্রিন্স, সাদিয়া, লীজা, সুমন, হামিদুর রহমান ও ফিরোজ হাওলাদার প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউরোটেক্স নিঃ লিমিটেড গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দিতে বিলম্ব করায় শ্রমিকরা তাদের বেতনের কথা জানতে চাইলে শ্রমিকদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক।
এলাকার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের এই হয়রানি বন্ধ না করলে আগামীতে কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
শ্রমিকদের বেতন খুব দ্রুত পরিশোধ করুন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন এবং গুন্ডা বাহিনী দিয়ে যদি হয়রানি বন্ধ না করেন তাহলে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ হয়র ন
এছাড়াও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারী পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে জিলা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়। কর্মসূচিতে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও উপস্থিত ছিলেন।
আধা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রায় সবার হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লেখা ফেস্টুন। তাঁরা আবরারের হত্যাকারীদের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। আগে থেকেই পলাতক (জিসান, তানিম, রাফিদ) ও সদ্য পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বলা হয়, এ রকম স্পর্শকাতর একটি মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন, যা খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা।’
মানববন্ধনে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আমি চাই না আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। আর কোনো বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ উঠুক। দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করে দেশের মানুষকে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল করে তুলতে হবে।’
জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর জেলাতে মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের ইন্ধনে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এর পেছনে ছিলেন। যাঁরা আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিতে ফিরতে হবে এবং ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মানববন্ধনে অংশ নেওয়াদের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আবরারের প্রশ্নে তাঁরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আবরারের হত্যাকারী ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি যেমন নিষিদ্ধ হয়েছে, তাদের পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগকেও সেভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তা না হলে আবরারের আত্মার শান্তি মিলবে না।
মানববন্ধনে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে আছে পলাতক সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে; সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিনিধিদল কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন।