সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির সময় ল্যাংড়া গাজীর অন্যতম সহযোগী সন্ত্রাসী রাব্বি গ্রেপ্তার
Published: 15th, February 2025 GMT
নারায়ণগঞ্জে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও পুলিশের নিয়মিত অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও নাসিক কাউন্সিলর মতির সহযোগী অন্যতম চাঁদাবাজ আরশাদ গাজী ওরফে ল্যংড়া গাজির অন্যতম সহযোগী রাব্বি চাঁদাবাজির সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আদমজী নতুন বাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে আদমজী নতুন বাজার এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার একডজন মামলার আসামি নাহিদের ছোট ভাই।
তার বাবা পক্কী মজিবুরও বিভিন্ন অপরাধে হাফডজন মামলার আসামি। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ কর্মী রাব্বি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম রাব্বিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রফতারকৃত চাঁদাবাজ রাব্বি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নাশকতা ও হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম হোসেন হত্যাচেষ্টা মামলাসহ নাশকতা ও মাদক মামলা রয়েছে।
এদিকে রাব্বি গ্রেপ্তারের খবরে গাঁ ডাকা দিয়েছেন মাদক ও চাঁদাবাজদের শেল্টারদাতা রেলওয়ের লোহা চোর ল্যাংড়া গাজী। তাঁকেও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
আদমজী নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, রেলওয়ের লোহাচোর আরশাদ গাজী কখনও কাউন্সিলর মতি ভাই ও কখনও সিরাজ মন্ডলের সাথে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছেন। গত ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিনের লোক বনে যান।
গিয়াস উদ্দিনকে বিএনপি থেকে সভাপতি পদ থেকে পদচ্যুত করা হলে বর্তমানে সুকৌশলে মামুন মাহমুদ শিবিরে যোগ দিয়ে বিএনপির সাইনবোর্ডে নাহিদ-রাব্বিসহ অপরাধীদের দিয়ে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন আরশাদ গাজী।
প্রতি শুক্রবার আরশাদ গাজীর নেতৃত্বে ভাসমান দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা উত্তোলন করে রাব্বি। রাব্বি ও গাজীর অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি করলে এসব অস্ত্র ও মাদকের সন্ধান মিলবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: স দ ধ রগঞ জ ন র য়ণগঞ জ আরশ দ গ জ ব যবস
এছাড়াও পড়ুন:
পোশাকশ্রমিকদের ঈদভাবনা: নেওয়ার চেয়ে পরিবারকে দিতে পারাই বেশি আনন্দের
বাবা অর্থনৈতিকভাবে খুব সচ্ছল ছিলেন না। তবু ঈদ এলে নতুন জামা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কোনো কোনো সময় তা-ও পারতেন না। এ জন্য মন খারাপ হতো। এখন বুঝতে পারেন, যতটা না তাঁদের মন খারাপ হতো, সন্তানদের নতুন জামা দিতে না পারায় মা–বাবার বেশি খারাপ লাগত। আসলে নেওয়ার চেয়ে পরিবারকে দিতে পারার মধ্যেই বেশি আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারাটাই বেশি আনন্দের।
কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি ডাইং কারখানায় সহকারী সুপারভাইজার মো. জুয়েল (৩০)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। নোয়াখালীর চর আলেকজান্ডারে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জুয়েল ফিরে যান শৈশবে। তিনি জানান, শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে যখন উপার্জন করতে শুরু করেছেন, তখনই তাঁর ঈদের উপলব্ধি বদলে গেছে। শৈশবে ঈদের উপহার না পেলে যতটা যন্ত্রণা হতো, বড় হওয়ার পর পরিবারকে পছন্দমতো দিতে না পারলে তার চেয়ে বেশি মন খারাপ হয়।
জুয়েলের ঈদভাবনার কথা শোনার সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর সহকর্মী মো. রাহীম। জুয়েলের আলাপে মাথা নাড়িয়ে সায় দিচ্ছিলেন তিনি। মা–বাবা, চাচা-ভাতিজার জন্য ঈদের উপহার নিয়ে তিনি নরসিংদীতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় উচ্চমাধ্যমিক শেষ করতে না পারা রাহীম জুয়েলের সঙ্গে ফতুল্লার মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানায় অপারেটর সহকারীর কাজ করেন।
রাহীম বলেন, তাঁর কাছে এখনো ঈদ মানে হাতে মেহেদি দেওয়া। মা–বাবাকে সালাম করে তাঁদের কাছ থেকে সালামি নেওয়া। তাই প্রতিবারই কষ্ট করে হলেও গ্রামে ঈদ করতে যান।
তৈরি পোশাক কারখানার এই দুই শ্রমিক জানান, মার্চ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের কারখানা ছুটি হয়েছে। সব মিলিয়ে আট দিনের ছুটি পেয়েছেন। সময়মতো বেতন, বোনাস ও লম্বা ছুটি এবার তাঁদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে নিজেরা বেতন-বোনাস পেলেও অনেক শ্রমিক বেতন না পাওয়ায় তাঁদের এখনো আন্দোলন করতে হচ্ছে বলে জানান। জুয়েল বলেন, ‘সারা বছর আমরা নানাভাবে কষ্ট করে দিন কাটাই। আশা থাকে ঈদ-পার্বণে পরিবার নিয়ে আনন্দ-উৎসব কাটানোর। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু যখন বেতন–বোনাস হয় না, তখন শ্রমিকদের আর ঈদ বলতে কিছু থাকে না।’
জুয়েল ও রাহীম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গাড়ির টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে নরসিংদীর টিকিটের জন্য ১০ টাকা ও নোয়াখালীর জন্য প্রতিটি টিকিটে ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে তাঁদের।
বৃহস্পতিবার বিকেলের পর সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে আসা অধিকাংশ শ্রমিকই জুয়েল, রাহীমের মতো নারায়ণগঞ্জের তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে তাঁরা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে ফিরছেন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোটাই তাঁদের ঈদের আনন্দ।