গাজীপুরে চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
Published: 15th, February 2025 GMT
গাজীপুরের শ্রীপুরে দক্ষিণ বারতোপা জোড়াদিঘী এলাকায় আটো চালক ফালানকে (২৭) হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতাসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো.
গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তারা।
তারা জানান, অটোরিকশা ছিনতাই করার জন্যই চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে তিন জন হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং একজন ছিনতাই করা অটোরিকশাটি কিনে নেন।
নিহত অটো চালক ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার চাইর বাড়ীয়া গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলার চন্নাপাড়া মক্কা-মদিনায় স্ত্রীসহ বাদলের বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় জনৈক সুমনের মালিকানাধীন ৫ ব্যাটারি বিশিষ্ট অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ময়মনসিংহের ভালুকার মো. সাগর (২২), একই জেলার কোতয়ালী থানার মো. শুক্কুর আলী (৪৪), আরিফ হোসেন (১৮) এবং টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের মো. শাহিন (২০)। তারা গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে নানা অপরাধে যুক্ত ছিল।
তাদের মধ্যে সাগর, শাহিন ও শুক্কুরকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ বউবাজার এলাকা থেকে এবং আরিফকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শ্রীপুরের দারগারচালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ফালান মিয়া অটোরিকশা চালক ছিল। ঘটনার দিন মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামিরা শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে বারতোপা জোড়াদিঘী সাকিনস্থ গজারি বনের পাশে নিচু জায়গায় নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে সাগর, শাহীন, আরিফ এবং পলাতক আসামি নাইমের সহযোগিতায় ফালানকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গজারি বনের ভিতরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আসামিরা অটোর ব্যাটারি ছিনতাই করে নিয়ে ভাঙ্গাড়ির দোকানদার শুকুর আলীর নিকট বিক্রি করে দেয়।”
তিনি আরো বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এছাড়া পলাতক আসামি নাইমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
ঢাকা/রফিক/এস
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
নেত্রকোনায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, শ্যামগঞ্জ-জারিয়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি যাত্রীবাহী চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ করে আগুন ধরে। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেলপথের জারিয়া আনসার ক্যাম্প বালুঘাটা সেতুর কাছে বলাকা ডাউন ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা একটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পূর্বধলা স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেলপথে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন আসা যাওয়া করে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে একটি বলাকা ডাউন ট্রেন রয়েছে। অন্য চারটি লোকাল ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে ওই পথে চলাচল করে। আজ বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বলাকা ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে পূর্বধলার জারিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি পূর্বধলা স্টেশনে পৌঁছে। এর তিন মিনিট পর ওই স্টেশন থেকে পরের স্টেশন জারিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জারিয়া আনসার ক্যাম্প বালুঘাটা সেতুর কাছে পৌঁছালেই ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আগুন নেভাতে চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ট্রেনে থাকা যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ট্রেনে করে ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া যাচ্ছিলাম। পূর্বধলা স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পরই ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখতে পাই। আতঙ্কে যাত্রীরাও হইহুল্লোড় শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনে থাকা লোকোমাস্টার ট্রেন থামাতে বলেন। এরপর স্থানীয় লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে ইঞ্জিনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ট্রেনে থাকা যাত্রী বা অন্য কোনো বগির ক্ষতি হয়নি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জারিয়া এলাকার বাসিন্দা তরিকুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি ইঞ্জিনে আগুন ধরা একটি যাত্রীবাহী ট্রেন বালুঘাটা সেতু এলাকায় এসে থেমেছে। আগুন দেখে স্থানীয় নারী-পুরুষ সবাই গামলা, কলসি, বালতিতে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কাছে পানি থাকায় আমরা সবাই মিলে প্রায় ৯০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছায়।’
এ বিষয়ে পূর্বধলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আবুল মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইঞ্জিনের একটি যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জেনেছি। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে চালক সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন। আগুনে ইঞ্জিনটির ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুরো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা যাবে। আর আগুন লাগা ইঞ্জিনটি বেশ পুরোনো ছিল। ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধারকারী ট্রেনের ইঞ্জিন রওনা হয়েছে। ট্রেনটি শ্যামগঞ্জ জংশনে নিয়ে যাওয়া হবে। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।’