সৌদি প্রো লিগের পক্ষ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে প্রস্তাব দিয়ে আসছে। ওই প্রস্তাব পূর্বে নাকোচ করেছেন ভিনি। তবে সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন রিয়ালের নাম্বার সেভেন। এরপর তার দলবদল নিয়ে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই প্রভাবশালী স্প্যানিশ আউটলেট মার্কা দিয়েছে বিস্ফোরক তথ্য। সংবাদ মাধ্যমটির দাবি, সৌদি প্রো লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন ভিনিসিয়াস। সেখানে তাকে ৫ বছরের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ৫ বছরের জন্য ১ বিলিয়ন ইউরো বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনির ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে এই খবর। সৌদি আরব ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। তাকে বিশ্বকাপের শুভেচ্ছাদূত করার পরিকল্পনা সৌদির। মেগা টুর্নামেন্টের আগে সৌদি ফুটবলের পরিকল্পনা নিয়েও নাকি ভিনি আলোচনা করেছেন এবং খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

এর আগে সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে, রিয়াল মাদ্রিদের চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব ভিনিসিয়াস প্রত্যাখ্যান করলেও ব্লাঙ্কোস শিবিরেই থাকতে চান তিনি। তাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ওই অর্থে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়নি পেরেজের বোর্ড। যে কারণে তিনি নাকি চুক্তি বৃদ্ধির প্রস্তাবে সাড়া দেননি।

ম্যানসিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে অফের প্রথম রাউন্ডে ম্যাচ সেরা হন ভিনিসিয়াস। ওই ম্যাচের পরে চুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভিনি জানান, রিয়ালে লম্বা সময় থেকে যাওয়াই তার পরিকল্পনা। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, দ্রুতই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত  আসবে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ফ টবল দলবদল

এছাড়াও পড়ুন:

মিয়ানমারে ভূমিকম্প: বৃষ্টি-গরমে বেড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বৃষ্টিপাত ও গরম আবহাওয়া। গতকাল শনিবার ও আজ রোববার দেশটিতে বৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হয়েছে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সরবরাহ। এরই মধ্যে দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭১।

২৮ মার্চ মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পাশাপাশি এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৬৭১ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ ২১৪ জন। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৫ হাজার ২২৩টি ভবন, ১ হাজার ৮২৪টি মন্দির ও প্যাগোডা, ১৬৭টি হাসপাতাল, ১৬৯টি সেতু, ১৯৮টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর মান্দালয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট বৃষ্টি হয়। শহরটিতে এখনো মানুষ ভয়ে ঘরে ফেরেননি। খোলা আকাশের নিচে তাঁদের অনেক তাঁবু বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভেঙে গেছে। পর্যাপ্ত ত্রিপলের অভাবে অনেক মানুষকে তাঁদের জিনিসপত্রসহ বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে।

এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহগুলো বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। এমন শঙ্কার মধ্যে আজ সকালে আবারও মান্দালয়ে বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠবে এবং আরও বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইউএনডিপির কর্মকর্তা টান টান বলেন, আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করেছে।

বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড গরমের কারণে খোলা আকাশের নিচে গড়ে তোলা সাময়িক আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টন ফ্লেচার বলেছেন, উপদ্রুত এলাকাগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা মেরামত করা দরকার। অনেক মানুষ এখনো থাকার মতো কোনো আশ্রয় পাননি। তাঁদের জন্য তাঁবু প্রয়োজন।

২৮ মার্চের ভূমিকম্পে মিয়ানমারের পরেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই নিহত হয়েছেন রাজধানী ব্যাংককে ৩৩ তলা একটি ভবন ধসে। ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৭৭ জন আটকা রয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে জান্তা

আগে থেকেই মিয়ানমারের অবস্থা বেহাল। ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। তখন থেকে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর লড়াই চলছে। চার বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে ভূমিকম্প উপদ্রুত এলাকার ৫ কোটির বেশি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো জটিল হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ২ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে জান্তা সরকার। তবে নিজেদের দেওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে এখন পর্যন্ত বিদ্রোহীদের ওপর অন্তত ১৬টি হামলা চালিয়েছে তারা। এরই মধ্যে শনিবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা টম ফ্লেচার। মিয়ানমারে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ‘জোরদার, সমন্বিত ও সামষ্টিক’ পদক্ষেপ নিতে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ