যেভাবে বুঝবেন জীবনযুদ্ধে অন্যদের থেকে এগিয়ে আছেন
Published: 15th, February 2025 GMT
সফলতা একদিনে আসে না। এজন্য দিনে দিনে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। মানুষের কিছু অভ্যাস সফলতার পথে এগিয়ে দেয়। যে অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে সফলতার দিকে নিয়ে যায় সেগুলো নিয়েই এই আর্টিকেল। মিলিয়ে দেখুন কোন কোন অভ্যাস রপ্ত করতে পেরেছেন।
অপরাধবোধ ছাড়াই ‘না’ বলতে শেখা: সবার সব কথায় বা পরামর্শে ‘হ্যাঁ’ বলার প্রয়োজন নেই। সবার সামনে নিজেকে দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে যাওয়াটা এক ধরনের বোকামি। ধরুন আপনি এমন একটি অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন, কারণ সেখানে যাওয়া হয়তো আপনার মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারতো।–এই যে আপনি যাননি এটাই আপনার সক্ষমতা। ‘না’ বলার ক্ষমতা আপনাকে মানসিকভাবে সুস্থ ও উজ্জীবিত রাখতে সহায়তা দিতে পারে। সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা মানেই উদ্যমী ও উদার হওয়া নয়। সবার সবকিছুতে হ্যাঁ বলতে গেলে আপনি মানসিক চাপে পড়ে যেতে পারেন।
ডেইলি রুটিন তৈরি: রুটিনের বাইরেও প্রতিদিন এক বা একাধিক কাজ করা লাগতে পারে। কিন্তু কিছু কাজ করা উচিত রুটিন অনুযায়ী। রুটিন অনুযায়ী কাজ করার অভ্যাস আপনাকে স্থিতিশীলতা দিতে পারে। যেমন সকালে প্রার্থনা করা, বই পড়া, ইয়োগা করা, হাঁটাহাঁটি করা বা বিছানা গোছানো— এসব অভ্যাস সারাদিনকে সুসংগঠিত করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থিতিশীল রুটিন মানসিক চাপ কমিয়ে মনোযোগ বৃদ্ধি করে। আপনি যদি ডেইলি রুটিন মেনে চলেন তাহলে ধরে নেওয়া যায় আপনি ধারাবাহিকভাবে সফলতার দিকেই এগোচ্ছেন।
আরো পড়ুন:
আজ ‘কিস ডে’, চুমু হোক হৃদয়স্পর্শী
আজ ‘হাগ ডে’, প্রিয়জনকে নিবিড় আলিঙ্গন করার দিন
বড় কোনো ভয়কে জয় করা: এরই মধ্যে আপনি কি কোনো বড় ভয় জয় করে ফেলেছেন?— উত্তরটা যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে আপনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। যেমন—জনসম্মুখে কথা বলা, নিজের পছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া, একা ভ্রমণে বের হওয়া ইত্যাদি। বিখ্যাত লেখক মার্ক ম্যানসনের মতে, ‘আমরা যত বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করব, তত বেশি আমাদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।’ দায়িত্ব নেওয়াকে ভয় জয় করার সঙ্গে তুলনা করা হয়। যা মূলত আপনার শক্তিরই প্রমাণ করে।
ক্ষমা করতে শেখা: জীবন চলার পথে আপনার নিজের কোনো বড় ভুল থাকতে পারে, সেই ভুল নিয়ে দিনের পর দিন নিজেকে দোষারোপ করলেও কিছুই বদলাবে না। বরং নিজেকে ক্ষমা করলে নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন। একইভাবে অন্যের প্রতি কোনো রাগ, ক্ষোভ পুষে রাখলে আপনার মানসিক অস্বস্তি বাড়তে পারে। অন্যকে ক্ষমা করে দিয়ে মানসিক স্বস্তি খুঁজে পেতে পারেন-আর এই কাজটি আপনার মানসিক পরিপক্কতার প্রমাণ করে।
আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করা: আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য জরুরি। আপনি কি আপনার আর্থিক পরিকল্পনা করেছেন?—পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি যদি সঞ্চয় করতে পারেন মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। সামাজিক ও আর্থিক চাপ মোকাবিলা আপনার জন্য ক্রমে সহজ হয়ে উঠবে। আপনি ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।
অন্তত একটি দক্ষতা অর্জন: আপনার কর্মের সহযোগী কোনো দক্ষতা অর্জন আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া আলাদা কোনো সৃজনশীলতা চর্চা করতে পারেন। আপনি যদি নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টায় থাকেন তার অর্থ হলো আপনি সফলতার জন্য সুযোগ তৈরি করছেন।
চাপ সামলানোর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে পাওয়া: জীবনে চাপ আসবে। আপনি কতটা সফলভাবে সেই চাপ মোকাবিলা করতে পারছেন—তার ওপর নির্ভর করবে আপনার মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক সন্তুষ্টি। জীবনের ছোট ছোট অর্জনগুলোকে সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এতে আপনি মানসিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। এইসব বৈশিষ্ট্য যদি আপনার আচরণে প্রকাশ পায়, তাহলে আপনি ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কারণ জীবনে বড় কোনো সমস্যা আসলেও আপনি যৌক্তিকভাবে সবকিছু মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। একইভাবে সফলতাকেও আপনি উদযাপন করতে পারেন।
সূত্র: দ্য ব্লগ হেরাল্ড অবলম্বনে
ঢাকা/লিপি
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সফলত র দ ক
এছাড়াও পড়ুন:
দুবাইয়ে বিএনপির ইফতার: নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ফিরবে
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্যের সাংগঠনিক সমন্বয়ক আহমেদ আলী মুকিব বলেছেন, “বিগত ১৭টি বছর গুম-খুন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।”
“গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আংশিক সফলতা আসলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ সফলতা আসেনি। আমরা আজও বিরোধীদলে আছি। আন্দোলন পুরোপুরি সফল তখন হবে যখন দেশের জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের মাধ্যমে এই সফলতা জনগণ পাবে।”
মঙ্গলবার দুবাইয়ের একটি হোটেলে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপি সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরো পড়ুন:
ইশরাককে মেয়র ঘোষণা, যা বলছে ইসি
‘বিএনপিতে সংস্কারপস্থিদের স্থান হবে না’
আমিনুল ইসলাম এনাম চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার করিমুল হকের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির আমিরাত শাখার আহ্বায়ক জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সৌদি আরবের পশ্চিম অঞ্চল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, ইউএই বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম তালুকদার, সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সালাম খান, দুবাই বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ রফিক, শ্রমিক দলের সভাপতি মাহি আলম, প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, সাহেদ আহমদ রাসেল, শাহিনুর শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম রুপু।
শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
ঢাকা/হাসান/এসবি