ববি উপাচার্যের দপ্তরে তালা এক দল শিক্ষার্থীর
Published: 13th, February 2025 GMT
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শারমিনের দপ্তরে তালা দিয়ে জিলাপি বিতরণ করেছেন এক দল শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী ভিসির দপ্তরে তালা দেন। আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা বানচাল করতে ছাত্রশিবির এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের দপ্তরে তালা লাগানোর পর প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল– আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গোপন সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ। তালা লাগানোর পর বিক্ষোভকারীরা নিজেদের মধ্যে জিলাপি বিতরণ করেন। উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগানও দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে ভিসিবিরোধী একটি আন্দোলন হয়েছিল। সেখানে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ভিসি বলেছিলেন, তিনি সেই শর্তগুলো পূরণ করবেন। পরে তিনি কথা রাখেননি। আমরা এর কোনো ব্যাখ্যা চাই না। আমাদের এক দাবি–ভিসির পদত্যাগ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী নাম ব্যবহার করে উপাচার্যের দপ্তরে তালা মেরেছে। শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় কী সিদ্ধান্ত হবে, তা আন্দোলনকারীরা এক দিন আগে কীভাবে জানল? তিনি আরও বলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। ক্যাম্পাসে বিভিন্নভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের দপ্তরে তালা দিয়েছেন। এর সঙ্গে শিবিরের সম্পর্ক নেই।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে– এমন ধারণায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তালা দিয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আমার বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই।
উপাচার্য ড. শুচিতা শারমিন বলেন, যারা পতিত স্বৈরাচারের ভাবনাকে এখনও লালন করে, তারা গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। অবুঝ শিক্ষার্থীরা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: উপ চ র য
এছাড়াও পড়ুন:
মুহাম্মদ ইউনূস ও ইলন মাস্কের মধ্যে আলোচনা, ‘আসছে’ স্টারলিংক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস স্পেসএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং টেসলা ও এক্স-এর মালিক ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে সহযোগিতার সমূহ দুয়ার খুলতে এবং বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আপাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যাপক ইউনসূ ও ইলন মাস্কের মধ্যে ভার্চুয়ালি এই আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আলোচনার বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন।
আরো পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
সহিংসতা-হানাহানি যেন না হয়, সজাগ দৃষ্টি রাখুন: প্রধান উপদেষ্টা
পোস্ট লেখা হয়েছে, ইলন মাস্কের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন রোহিঙ্গা সংকট ও অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোর জন্য বাংলাদেশের উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশের পক্ষে এসডিজির প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ। ইলন মাস্কের সঙ্গে ছিলেন স্পেস এক্স-এর পক্ষে গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজার লরেন ড্রেয়ার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড গ্রিফিথস।
ভিডিও লিংকে কথোপকথনের সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইলন মাস্ক স্টারলিংকের স্যাটেলাইট যোগাযোগের রূপান্তরমূলক প্রভাবের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের উদ্যোগী যুবক, গ্রামীণ ও দুর্বল নারী এবং প্রত্যন্ত সম্প্রদায়ের জন্য তার স্টারলিংক ইন্টারনেটের সুবিধাগুলো তুলে ধরেন ইলন মাস্ক।
তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়- উচ্চগতির অথচ কম খরচের ইন্টারনেট সংযোগ বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরে কীভাবে সমন্বয় ঘটাতে পারে, সেই বিষয়টি। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ঘটিয়ে অনুন্নত অঞ্চল এবং লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনার সময় নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোতে স্টারলিংকের সংযোগ ঘটলে লাখো মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বিশ্বব্যাপী দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সংহত করবে।
শফিকুল আলম লিখেছেন, বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে প্রযুক্তি-চালিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মাস্কের সঙ্গে কাজ করার জন্য তার উৎসাহ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্টারলিংক গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ ফোনের একটি সম্প্রসারণ হবে, যা গ্রামের নারী ও যুবকদের বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করার পথপ্রদর্শক হবে। তারা বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশু এবং বিশ্ব উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।
এই আলোচনার সময় ইলন মাস্ক গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা করেন; দারিদ্র্য বিমোচনে এর বৈশ্বিক প্রভাব স্বীকার করে অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
টেসলা মোটরসের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক বলেন, তিনি বহু বছর ধরে গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ ভিলেজ ফোনের কাজের সঙ্গে পরিচিত।
মাস্ক বলেন, “স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলো কাজে লাগান গেলে বাংলাদেশে উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরো এগিয়ে যাবে।”
জাতীয় উন্নয়নের জন্য অধ্যাপক ইউনূস স্টারলিংক পরিষেবার সম্ভাব্য যাত্রা শুরু করার জন্য ইলন মাস্ককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন তিনি।
আমন্ত্রণের জবাবে মাস্ক বলেন, “আমি এটির জন্য অপেক্ষা করছি।"
শফিকুল আলম পোস্টে লিখেছেন, এই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশে উন্নত স্যাটেলাইট সংযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং সারা দেশে উদ্ভাবনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
উভয় পক্ষই এই উদ্যোগের দ্রুত অগ্রগতি ঘটাতে সম্মত হয়েছে এবং তারা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন, লিখেছেন প্রেস সচিব।
ঢাকা/রাসেল