যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে বলে জানান মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডি.এম. জোবাইয়ের হোসেন।

শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ করেই ভূগর্ভের পাথর তোলার স্কিপ্ট মেশিনের গিয়ার বক্সের বিয়ারিং ভেঙে যায়। ফলে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।

এমডি প্রকৌশলী ডি.

এম. জোবাইয়ের হোসেন বলেন, “ট্যাকনিকাল কারণে আজ ভোর ৫টা থেকে খনির ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি বিশেজ্ঞরা দেখছেন। আশা করছি, দ্রুতই খনিটি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হবে।”

খনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খনি থেকে পাথর ‍উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। একমাস পর আবারো পাথর উত্তোলন শুরু হয়।

ঢাকা/মোসলেম/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

মজুতদারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দরকার

বাংলাদেশের মানুষে প্রতিদিনের পুষ্টির বেশির ভাগই আসে ভাত থেকে। এর মূল কারণ, পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য বেশির ভাগ মানুষের নেই। এ কারণে চালের দাম বাড়লে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ওপর চাপ পড়ে, অনেকে আরও কম খাবার খেতে বাধ্য হন। এ বাস্তবতায় চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে যদি মজুতদারদের ভূমিকা থাকে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে, তাহলে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এটা সত্যি যে গত বছর পরপর কয়েক দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আমনের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে, কিন্তু তাই বলে চালের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে? বাংলাদেশের ধান-চাল উৎপাদনের অন্যতম বড় কেন্দ্র নওগাঁ। সারা দেশের চালের বাজাররে ওপর নওগাঁর চালের দাম প্রভাব ফেলে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে, কী কারণে নওগাঁর বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সরু ধানের সরবরাহ কমে যাওয়া, সরু চালের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকা, চালের বাজারে করপোরেট কোম্পানি ও গুটিকয় বড় মিল কোম্পানি একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অবৈধ মজুতদার গোষ্ঠী ধান-চালের ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ধান-চাল কিনে মজুত করা।

এই কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে সরবরাহের ঘাটতির ব্যাপারটি যেমন আমরা দেখতে পাই, আবার মজুতদারি ও বাজার কারসাজির ঘটনাও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের ঘাটতি এখানে সুস্পষ্ট।

মিলমালিক ও আড়তদারেরা চালের বাজার অস্বাভাবিক হওয়ার পেছনে মজুতদারদের দায়ী করেছেন। তাঁরা বলেছেন, চালকলের মালিকেরা বাজারে ওঠা ধানের এক-তৃতীয়াংশ কিনলেও বাকি অংশ এই মজুতদার গোষ্ঠী কিনে থাকেন। তাঁদের অনেকেরই খাদ্যশস্যের সংগ্রহের লাইসেন্স নেই। তাঁরা মৌসুমের সময় কম দামে ধান কেনেন, পরে বেশি দামে বিক্রি করেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, খাদ্যশস্য সংগ্রহের লাইসেন্স না থাকার পরও মজুতদারেরা কীভাবে ধান মজুত করছেন? প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাহলে কী করছে? শুধু মজুতদার নন, মিলমালিক ও আড়তদারেরাও অনেক সময় কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে চালের বাজারে কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার প্রতি মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহ করে। সেটা যে যথেষ্ট নয়, তা চালের ঊর্ধ্বমুখী দামই বলে দেয়। আবার বাজারে যাতে চালের জোগান স্থিতিশীল থাকে, তার জন্য প্রয়োজনে আমদানি করাও প্রয়োজন। সেখানেই সরকারের পদক্ষেপ খুব একটা কাজে আসেনি।

চালের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাদের কষ্টটা বাড়ে। চালের বাজার স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা ও ভূমিকা থাকা দরকার। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ