ইচ্ছে ছিলো
সাবেকুন নাহার মুক্তা
ইচ্ছে ছিলো সমানুভবী কবি হবো,
প্রেম, প্রণয়, জরা, জীর্ণতা অবলীলায় লিখে যাবো
ঢেউ দোলা পানসি নায় সুজন মাঝি বৈঠা বায়,
আঁচলা উড়ে বায় নায়রী যায় কোন সে গায়।
প্রমত্ত প্রবাহিনী সঙ্গতিহীন নিষ্কম্প ঊর্মিমালা,
যৌবনের নেই তেজ নেই এঁকেবেঁকে চলা।
লিখতে পারিনি অভিমানী সরসীনির মর্ম ব্যথা,
মনের কুঠুরে রয়ে গেল না বলা কত কথা।
বিস্তীর্ণ অনিরুদ্ধ দৃষ্টিনন্দন উর্বর ভূমে ,
স্বগর্বে সুরভি ছড়ায় পাকা ফসলের ধুমে।
মাটির মলিন রূপ ভূমিদস্যুর চাতুরির দমে,
হাস্য উজ্জ্বল সুরুৎ রাশভারি থমথমে।
হয়নি লেখা নিপীড়িত নির্যাতিত ভূতল ব্যথা,
অশ্রুভেজা নয়ন নীরে ভাসে তার কথা।
তুমি কে
সাজ্জাদুল হাসান
তুমি কে?
অমিতের লাবণ্য
দেবদাসের পার্বতী
অপুর দুর্গা
না জীবনানন্দের বনলতা?
কখনো তুমি রহস্যে ঘেরা,
যেন ভিঞ্চির মোনালিসা।
কখনো মনে হয়
তুমি এক প্রহেলিকা।
কখনো ভাবি
তুমি সেই মরীচিকা,
তোমার পেছনে আমার
অবিরাম ছুটে চলা।
কখনো মনে হয়,
তুমি নও মানবী
যেন এক দেবী!
আফ্রোদিতি বা ভেনাস
কিংবা রামের সীতা।
তোমাকে যায় না
কোনো ফ্রেমে বাঁধা।
তুমি কে! কে তুমি?
ফেব্রুয়ারি
শাহনাজ শিউলী
ঐ যে দেখ রক্তপলাশ
করল বুকে আলিঙ্গন,
বাবার বুকের ব্যথার ডালি
রাঙিয়ে দিল শিমুল বন।
ভাই হারানো শোকের কাঁদন
পিষল বোনের কলজে তল,
রক্ত বরফ মায়ের বুকে
মরম ব্যথায় গলছে জল।
মাতৃভাষা বাংলা আমার
আসলো আবার ঘর ফিরে,
কনকলতা ফুটল বনে
বুকের ব্যথার চর ঘিরে।
লাল সবুজের মুক্তি নিশান
উড়ছে দেখো নীল আকাশে,
রক্তে কেনা মায়ের ভাষা
সুবাস ছড়ায় হৃদয় শ্বাসে।
নগ্ন পায়ে প্রভাত ফেরির
আসছে মিছিল সারি সারি,
হৃদয় হরিৎ উপত্যকায়
ঢেউ খেলছে ফেব্রুয়ারি।
ডায়েরি থেকে
মজনু মিয়া
অনেক কথা বুকের ভেতর
রেখে দিয়েছি জমা,
বলতে যদি না পারি তা
করে দিও গো ক্ষমা।
কত দিবস কেটে গেলো
তোমায় ভেবে ভেবে,
মনের ভেতর রেখেছি সব
স্বপ্ন বুকে চেঁপে।
অনেক কথাই লেখা আছে
ডায়েরির পাতা জুড়ে,
যে দিন আমি থাকব না তা
দেখবে নেড়েচেড়ে।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ইউনূস–মোদির বৈঠক আশার আলো দেখাচ্ছে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই প্রথম প্রতিবেশী দুই দেশের নেতাদের বৈঠক হলো।
এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করলে জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের কথা। আমরা মনে করি, ভূরাজনীতিতে এবং বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশ ও ভারতের যে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সে প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটা আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করছে।’
এ বৈঠকের ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে একটা “বিটারনেস” (তিক্ততা) তৈরি হয়েছে, সেটা যেন আর বেশি সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, সে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘আমি যত দূর দেখেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে দুজনেই (অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি) যথেষ্ট আন্তরিক এবং এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষ ও ভারতের মানুষ, উভয় দেশের মানুষের উপকার করবে।’
এর আগে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে ঈদ–পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, রফিকুল ইসলাম বাবু, শরিফুল আলম, সাব্বির, রাহুল, আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, সৈয়দ বুরহানুল, হোসেন, নকিব, ডন, রিয়াল, ফাহিম সিনহা, মাহবুব আনাম, ইব্রাহিম খলিল, কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, সেলিম শাহেদ ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম।