প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যূনতম বল প্রয়োগের কলাকৌশল শিখছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণে শেখানো হচ্ছে এসব। ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ১৫০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন এ প্রশিক্ষণে।

সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো.

সাজ্জাত আলী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের পুলিশ। তাই যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের বিভিন্ন কলাকৌশল আমাদের রপ্ত করতে হবে।’

ডিএমপি কমিশনার প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় পুলিশ সদরদপ্তর ও ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ড এমপ ড এমপ

এছাড়াও পড়ুন:

গড়াইয়ে বিএনপি নেতার দাপট

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের জিলাপিতলা-সংলগ্ন গড়াই নদীর চর থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে এক বিএনপি নেতা ও ইজারাদার কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
ইজারাদারের লোকজনের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান আলী মোল্লা ও তাঁর সমর্থকরা ইজারা নেওয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকার মাটি ও বালু কেটে নিচ্ছেন। ছয় দিন ধরে এভাবে মাটি-বালু লুট করছেন তারা। 
ইজারাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতা সাজাহান ও তাঁর সমর্থকরা। তারা বলছেন, গড়াই নদীপারে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ফসলাদি চাষ হতো। ইজারাদার মাসুদ রানা আওয়ামী লীগের সমর্থক। দীর্ঘদিন ধরে চর ইজারা নেওয়ার নাম করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি ও বালু কেটে নিয়েছেন। তবে এখন ক্ষমতা বদল হওয়ায় নিজেদের জমি চাষাবাদের উপযোগী করার জন্য নিজেরাই মাটি ও বালু অপসারণ করছেন।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর মূলগ্রাম, হিজলাকর, এনায়েতপুর ও গোবিন্দপুর মৌজার বালুমহাল এক বছরের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা। প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ঘাটের ইজারার মেয়াদ চলতি বছর ১৩ এপ্রিল শেষ হবে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জিলাপিতলা-সংলগ্ন গড়াই নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে কলা, গম, মসুরসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয়েছে। সেখান থেকে ভেকু দিয়ে বালু ও মাটি কেটে ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে একটি অস্থায়ী ঘর করে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন। নদীপারের কলা বাগানের ভেতরে তাঁবু টাঙিয়ে বসে টাকা তুলছেন বিএনপি নেতা সাজাহানের সমর্থকরা।
এ সময় ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক এনামুল হক বলেন, ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য চর ইজারা নিয়েছেন। মেয়াদ 
শেষ হবে ১৩ এপ্রিল। অথচ ছয় দিন ধরে বিএনপি নেতা সাজাহান আলীর নেতৃত্বে ইজারা নেওয়া ঘাট থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মাটি ও বালু লুট করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানান।
গড়াই নদীর কূল থেকে মাটি ও বালু কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান আলী মোল্লা। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিলাপিতলা এলাকায় তাদের কয়েক পুরুষের অন্তত ৮৫-৯০ বিঘা জমি আছে। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ইজারাদার মাসুদ তাদের জমি থেকে এতদিন মাটি ও বালু কেটে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করার লক্ষ্যে এখন মাটি ও বালু অপসারণ করে ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এখানে কোনো অন্যায় কাজ করা হচ্ছে না।
কুমারখালীর ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বিষয়টি জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ