Prothomalo:
2025-04-10@11:37:57 GMT

পতন থেমেছে, স্বস্তি ফেরেনি

Published: 8th, February 2025 GMT

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অর্থনীতি গভীর খাদে পড়ে যাচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে সেই পতন ঠেকানো গেছে। কিছু ক্ষেত্রে উন্নতিও আছে। তবে অর্থনীতিতে পুরো স্বস্তি এখনো ফেরেনি। বিনিয়োগ পরিবেশ ও কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়, এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

ছয় মাসেও নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যায়নি। বেড়েছে প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ রয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার শতাধিক পণ্যে শুল্ক-কর বাড়ানোয় এ চাপ কিছুটা বেড়েছে।

সরকারের আয় ও ব্যয়েও সংকটজনক অবস্থা। বাজেটের চাহিদা অনুসারে সরকার আয় করতে পারছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ে ঘাটতি বেড়েছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ে লাগাম টানতে হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, দেশি–বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়েই চলছে। তাই সংশোধিত বাজেটে বড় কাটছাঁটের পথেই হাঁটতে হচ্ছে সরকারকে।

অর্থনীতি খারাপ হতে শুরু করেছিল মূলত ২০১৯ সাল থেকে। মাঝখানে দেখা দেয় কোভিড–১৯ মহামারি। এরপর ২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপদে পড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। তবে দেশে সংকট বেশি প্রকট হয়েছে আগের সরকারের একের পর এক ভুল ও খামখেয়ালি নীতির কারণে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই তখন নিম্নমুখী ছিল। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই অর্থনীতিতে সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে এর সুফল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশায়ও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ছয় মাসে অর্থনীতির উত্তরণ ঘটবে, এমন আশা করা যায় না। অর্থনীতি উত্তরণের পথে হাঁটছে কি না, সেটা দেখার বিষয়। দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে ভারসাম্যহীনতা ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের পথে গেছে। গত ছয় মাসের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়প্রবাহ বেড়েছে। রিজার্ভের পতন ঠেকেছে। ব্যাংক খাতে উত্তরণের পথে হাঁটার প্রস্তুতির কাজ চলছে।

জাহিদ হোসেনের মতে, তিনটি খাত উত্তরণের পথে হাঁটছে না—এক.

মূল্যস্ফীতি; দুই. কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ও তিন. বিনিয়োগ পরিস্থিতি।

দেশে সংকট বেশি প্রকট হয়েছে আগের সরকারের একের পর এক ভুল ও খামখেয়ালি নীতির কারণে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই তখন নিম্নমুখী ছিল। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই অর্থনীতিতে সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে এর সুফল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।যেখানে সুখবর

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের (রিজার্ভ) পতন ঠেকাতে পারা। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম) অনুসারে এই রিজার্ভ ছয় মাস ধরে দুই হাজার কোটি ডলারের আশপাশেই আছে। ডলারের দামও মোটামুটি স্থিতিশীল। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি হিসাবের পাশাপাশি আর্থিক হিসাবের ভারসাম্যও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। আর্থিক খাতেও একধরনের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

আগের সরকার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আমদানি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। এখন আর আমদানি ব্যয় কমিয়ে রিজার্ভ ধরে রাখা হচ্ছে না। গত ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঋণপত্র নিষ্পত্তি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ছয় মাসে অর্থনীতির উত্তরণ ঘটবে, এমন আশা করা যায় না। অর্থনীতি উত্তরণের পথে হাঁটছে কি না, সেটা দেখার বিষয়।অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনকমেনি মূল্যস্ফীতির চাপ

২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে টানা ১০ মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে। এর মধ্য গত জুলাই মাসে এই হার উঠেছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে গত সাত মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি মাস ছাড়া প্রতি মাসেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে ছিল। ২০২৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উভয়েই বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে অপেক্ষা করা ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য আপাতত তেমন কোনো আশার বাণী নেই।

রাজস্ব–ঘাটতি বিপুল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের পরও রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আয়ে এনবিআরের ঘাটতি ৫৭ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। এমনকি আগের অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও এখন গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপির মাত্র ৫০ হাজার ২ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা কম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।বিনিয়োগ স্থবির

বিগত জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ। মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি কমেছে ১৪ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও খুব বেশি বাড়েনি। এসব বিনিয়োগ স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিগত সরকারের আমলের প্রভাবশালী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সব মহলের সমর্থন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ওইসব ব্যবসায়ীর কারখানা বন্ধ হয়েছে, কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকেরা।

অর্থনীতির সংস্কারে সরকার একাধিক কমিটি করেছে। ইতিমধ্যে অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র তৈরি করা হয়েছে। অর্থনীতির কৌশল পুনর্নির্ধারণে টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দিয়েছে। রাজস্ব খাত সংস্কারে পরামর্শক কমিটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ কম।

জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের এখনো যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির সমস্যাগুলোর পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না। ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছিল, সেখান থেকে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো ঘাটতি আছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দিকে সরকারকে আরও নজর দিতে হবে।

তপন চৌধুরী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা দরকার। সে জন্য তাদের সামনে সম্ভাবনাময় ও একটি উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশ দিতে হবে। বর্তমানে এ ধরনের পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের এখনো যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির সমস্যাগুলোর পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না।স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: পর স থ ত সরক র র পতন ঠ ক র র এক ছয় ম স পর ব শ বছর র প রথম ব যবস আমদ ন আগস ট

এছাড়াও পড়ুন:

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা বাড়াচ্ছে শপআপ, বড় বিনিয়োগ

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী স্টার্টআপ কোম্পানি শপআপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী কোম্পানি ‘সারি’-এর সঙ্গে একীভূত হয়ে নতুন কোম্পানি গঠন করেছে। নতুন সেই কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে ‘সিল্ক’ গ্রুপ। নতুন গ্রুপ গঠনের পরপরই ১১ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডলারের বর্তমান বিনিময় হার ১২২ টাকা হিসাবে দেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মূলত সৌদিভিত্তিক কোম্পানি সারির সঙ্গে শপআপ শেয়ার সোয়াপ বা অদলবদলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে একীভূত হয়ে নতুন কোম্পানি গঠন করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ–সংক্রান্ত চুক্তিও হয়ে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সে ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। চার দিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ বুধবার শপআপের একীভূত হওয়া ও বড় বিনিয়োগের ঘোষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারের কথা রয়েছে।

সৌদি আরবে ৩০ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এসব প্রবাসী বাংলাদেশি যাতে সহজে বাংলাদেশের পণ্য পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সারির সঙ্গে শপআপকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আফিফ জামান, সহপ্রতিষ্ঠাতা, শপআপ

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের শপআপ ও সৌদি আরবের সারি একে অপরের সঙ্গে একীভূত হলেও কোম্পানি দুটি স্ব স্ব নামে নিজ নিজ ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্যবসা চালিয়ে যাবে। তবে এই দুই কোম্পানির মালিকানায় থাকবে নতুন কোম্পানি সিল্ক গ্রুপ। বাংলাদেশি শপআপ ও সৌদি সারির মিলে গঠিত সিল্ক গ্রুপ বড় ধরনের বিনিয়োগও পেয়ে গেছে এরই মধ্যে। সৌদি সরকারের বিনিয়োগ তহবিল পিআইএফের সানাবিল ইনভেস্টমেন্ট, পেপ্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েলের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল, ই-বের প্রতিষ্ঠাতা পিয়ের ওমিডিয়ার, কুয়েত সরকারের ওয়াফ্রা, কাতার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তহবিল থেকে এ বিনিয়োগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে শপআপের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে শপআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফিফ জামান প্রথম আলোকে বলেন, সৌদি আরবে ৩০ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি। এসব প্রবাসী বাংলাদেশি যাতে সৌদি আরবে বসে যেন সহজে বাংলাদেশের পণ্য পেতে পারেন, লক্ষ্যে সৌদি প্রতিষ্ঠান সারির সঙ্গে শপআপকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হলেও তা পরিমাণে খুবই কম ও হাতে না কয়েকটি কোম্পানির। আমরা রপ্তানির এ পরিসর বড় করতে চাই। দেশের ছোট উদ্যোক্তারাও যাতে দেশটিতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির সুযোগ পান, সেই পথ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ।’

সারি ও শপআপ একে অপরের সঙ্গে একীভূত হয়ে সিল্ক নামে যে কোম্পানি গঠন করেছে, সেটির কার্যক্রম সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কিছু দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আফিফ জামান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু শপআপ একটি হোলসেল মার্কেট প্ল্যাটফর্ম। এটি দেশের শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে সেই পণ্য গুদামজাত, পরিবেশক ও ছোট ছোট মুদির দোকানে সরবরাহ করে থাকে। এ জন্য দেশজুড়ে রয়েছে তাদের নেটওয়ার্ক। প্রতিষ্ঠানটি নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামো ও আর্থিক সেবাও দিয়ে থাকে। বর্তমানে দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শপআপের ২০০টির বেশি পরিবেশক কেন্দ্র বা হাব রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে শপআপ দেশের প্রায় পাঁচ লাখ মুদির দোকানে পণ্য সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন।

অন্যদিকে সৌদি প্রতিষ্ঠান সারিও একটি প্রযুক্তিনির্ভর হোলসেল মার্কেট প্ল্যাটফর্ম বা বিটুবি মার্কেট প্ল্যাটফর্ম। যাদের কাজ হচ্ছে উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে দ্রুত তা ভোক্তার দোরগোরায় পৌঁছে দিতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তারা। কোম্পানিটি ৩০ হাজারের বেশি পণ্য সরবরাহ করে তাদের গ্রাহকদের কাছে।

শপআপের কর্মকর্তারা জানান, ১১ কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগসহ ৩১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ধাপে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোম্পানিটি নানা ধরনের বিনিয়োগ পেয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পিটার থিয়েল ভালার ভেঞ্চার, ই-বে প্রতিষ্ঠাতার ফ্লারিশ ভেঞ্চারস, টেনসেন্টের বিনিয়োগকারী প্রসুস, অস্ট্রিয়ার স্পিডইনভেস্ট, সেকোইয়া ক্যাপিটাল ও নিউইয়র্কের টাইগার গ্লোবাল।

বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফাস্ট কোম্পানি ২০২৩ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেরা উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশের শপআপ। ‘দ্য ১০ মোস্ট ইনোভেটিভ এশিয়া-প্যাসিফিক কোম্পানিজ অব ২০২৩’ শিরোনামের এ তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানশপআপ। তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরি করা চীনা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ও ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান ভিডিও।

শপআপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির রাজস্ব আয় বা রেভিনিউ ছিল ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক অর্থবছরে কোম্পানিটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত অর্থবছরে তাদের ব্যবসা আগের অর্থবছরের চেয়ে আড়াই গুণ বেড়েছে। খাদ্য, নিত্যপণ্য ও ডিজিটাল পণ্য বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশের বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে শপআপ। কোম্পানির মূল ব্যবসা এখন লাভজনক বলে জানিয়েছে তারা।

সারি ও শপআপের যৌথ উদ্যোগে গঠিত সিল্ক গ্রুপ নতুন যে বিনিয়োগ পেয়েছে, তা কোথায় ব্যবহার করা হবে—জানতে চাইলে শপআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা আফিফ জামান বলেন, এ বিনিয়োগের মধ্যে একটি অংশ মূলধনি বা ইক্যুইটি বিনিয়োগ। আর একটি অংশ সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালের জন্য অর্থায়ন সুবিধা হিসেবে কাজে লাগানো হবে। এ বিনিয়োগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি পেল ১৩৩ প্রতিষ্ঠান, মানতে হবে ৯ শর্ত
  • প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৩.৯% থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি
  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশ হবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি
  • প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৯%, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের প্রভাব: এডিবি
  • চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৯ শতাংশ
  • মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা বাড়াচ্ছে শপআপ, বড় বিনিয়োগ
  • তিন মাস পর কিছুটা বাড়ল মূল্যস্ফীতি
  • অর্থনীতিতে গতি বেড়েছে, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ
  • দেশের পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায়, মার্চে প্রবৃদ্ধি ১১.৪৪%: ইপিবির তথ্য
  • রপ্তানি বেড়েছে ১১ শতাংশ