আন্দ্রে রাসেল, টিম ডেভিড ও জেমস ভিঞ্চ বিমানবন্দর থেকে হোটেল ওয়েস্টিনে ঢুকে দেখেন তাদের দল টিম বাসে উঠছে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে। গেটের সামনে সতীর্থদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পরপরই তাদের দ্রুত চেক ইন করতে হয়। কেননা ১০ মিনিট পরই তাদের পৃথক গাড়িতে করে যেতে হবে স্টেডিয়ামে।

দুপুর দেড়টায় ম‌্যাচ। মাঠে থাকতে হবে একটার আগে! সময় মতো তারাও পৌঁছেছেন মাঠে। গা গরম করে মাঠেও নেমেছেন। কিন্তু রংপুর যে উদ্দেশ‌্যে তিন তারকা ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িয়েছে তা কাজে দেয়নি। তিনজনই সুপার ফ্লপ।

ঢাকায় ‘ঝটিকা সফর’ করতে এসে রাসেল (৪), ডেভিড (৭) ও ভিঞ্চ (১) ছিলেন নিষ্প্রাণ, বিবর্ণ। তাতে রংপুর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বাজে পারফর্ম করেছে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে খুলনার কাছে ৯ উইকেটে হেরে বিপিএল থেকে বিদায় রংপুর।

আরো পড়ুন:

খুলনার স্পিন বিষে রংপুরের পুঁজি ৮৫

রাসেল, ডেভিড, হেটমায়ারদের নিয়ে এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি খুলনা-রংপুর

টস জিতে আগে ব‌্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয় রংপুর। বিশাল ব‌্যাটিং লাইনআপ নিয়েও চরম ব‌্যাটিং ব‌্যর্থতায় ভরাডুবি তাদের। জবাবে খুলনা ১০.

২ ওভারে ম‌্যাচ জিতে নেয় অনায়েসে, অতি সহজে।

রংপুরের জন‌্য পরপর তিন আসরেই গল্পগুলো একই রকম হয়ে গেল। এর আগের দুই বছরই প্রথম কোয়ালিফায়ারের পর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যায়। এবার তাদের কষ্টটা আরেকটু বেশি। টানা আট জয়ে সবার আগে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিতের পর টানা পাঁচ হারে থেমে গেল তাদের যাত্রা।

১,০,৪,১,৮। রংপুর রাইডার্সের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের রান। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে রীতিমত বিধ্বস্ত রংপুর। দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছেন কেবল কাজী নুরুল হাসান সোহান ও আকিফ জাভেদ। সোহান ২৩ রানে আউট হওয়ার পর আকিফের ৩২ রানে রংপুরের পুঁজি কেবল ৮৫। যা এই আসরে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় রান। ব্যাটিংয়ে রংপুরের হয়ে নিয়মিত রান করছিলেন ইফতেখার আহমেদ। তাকে না খেলানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে রংপুর যে ভুল করেছে তা বুঝতে বাকি রইল না স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে।

 

রংপুরের মতো খুলনাও দলে নিয়েছে জেসন হোল্ডার ও শিমরন হেটমায়ারকে। তাদেরকে অবশ‌্য পরীক্ষা দিতে হয়নি। হোল্ডার তাও ১ ওভার হাত ঘুরিয়েছিলেন। ১১ রান দিয়েছিলেন। হেটমায়ারকে নামতে হয়নি ব‌্যাটিংয়ে। ফিল্ডিংয়ে নিয়েছিলেন ডেভিডের ক‌্যাচ।

ইনিংসের শুরুতে ভিঞ্চ ৭ বলে ১ রানে আউট হওয়ার আগে সৌম্যকে ভুল ডাকে রান আউট করান। অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড নাসুমের বলে ক্যাচ দেন সীমানায়। ৯ বলে তার রান মাত্র ৭। নিয়মিত বিপিএল খেলা রাসেল ৯ বলে ৪ রান করে নেওয়াজের বোল্ড হন।

বিদেশীরা যেখানে আড়ালে সেখানে দায়িত্ব নিতে পারেননি স্থানীয়রাও কেউ। টপ ও মিডলে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করেছে রংপুর। মাহেদী, সাইফ উদ্দিনকে উপরে তুলে এনেছিলেন। কিন্তু ১ ও ৮ রানের বেশি করতে পারেনি। সাইফ হাসান ১০ বলে ৪ রানে থেমে যান। সোহান চেষ্টা করেছিলেন। ২৫ বলে ২৩ রান করেছিলেন ২ বাউন্ডারিতে। কিন্তু বিপর্যয়ের দিনে তিনিও ভুল শট খেলতে গিয়ে ফেরেন সাজঘরে। শেষ পর্যন্ত আকিফ জাভেদ তাদের ত্রাতা হয়ে আসেন। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ১৮ বলে ৩২ রান করে যখন আউট হন তখন খুশির আমেজ খুলনা ড্রেসিংরুমে।

বোলাররা জয়ের অর্ধেক কাজ করে দেন শুরুতে। বাকি অর্ধেক নাঈম শেখ ও অ‌্যালেক্স রস পূর্ণ করেন। মিরাজ রানের খাতা খোলার আগে আউট হওয়ার পর নাঈম ও রস দলের হাল ধরেন। দুজন ৮৭ রানের জুটি গড়েন। নাঈম ৩৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৮ রান করেন। রস ২৭ বলে ৪ চারে করেন ২৯ রান। এই ইনিংস দিয়ে নাঈম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় নিজেকে শীর্ষে তুলেছেন। তানজিদ হাসানের ৪৮৫ রান ছাপিয়ে নাঈমের রান এখন ৪৯২।

খুলনার বোলিং ছিল দুর্দান্ত। উইকেট হাই স্কোরিং ছিল না। বল থেমে থেমে আসছিল। ধীর গতির। স্পিনাররা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছেন। মিরাজ ও নাসুম পেয়েছেন ৩টি করে উইকেট। মিরাজ ১০ ও নাসুম দিয়েছেন ১৬ রান। এছাড়া নাওয়াজ, হাসান ও মুশফিকের পকেটে গেছে ১টি করে উইকেট।

তিন বিদেশী এনে রংপুর নিজেদের খোলনলচে পাল্টে দিয়েছে। মাঠের ক্রিকেটে, পরিকল্পনাহীনতায় স্রেফ এলোমেলো তারা। খুলনা সেই সুযোগটি নিয়ে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে গেল। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, চিটাগং কিংস নাকি ফরচুন বরিশাল? উত্তরটা জানতে দিনের দ্বিতীয় ম‌্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদেরকে।

ঢাকা/ইয়াসিন/নাভিদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব প এল র ন কর উইক ট

এছাড়াও পড়ুন:

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশু সুমাইয়ার পর মা রুপালীর মৃত্যু

 সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশু সুমাইয়ার পর তার মা রূপালী (২০)’র মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৯ মার্চ) ভোর পৌনে ছয়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়। যার ফলে আহত আটজনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। 

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৩৪ শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মরণের লড়াই করছিলেন রূপালী। 

এরআগে, গত শনিবার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মোহাম্মদ হান্নান (৪০) এবং রূপালীর দেড় বছর বয়সী শিশু কন্যা সুমাইয়া মারা যান। হান্নানের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে  এবং সুমাইয়ার ৪৪ শতাংশ পুড়েছিলো।

টিনশেডের একটি বাড়িতে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দুটি পরিবারের চার শিশুসহ আটজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলো।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, রূপালীর স্বামী সোহাগ (২৩), হান্নানের স্ত্রী নূরজাহান আক্তার লাকী (৩০),  তাদের মেয়ে জান্নাত (৩), সামিয়া (৯) এবং ছেলে সাব্বির (১৬)। তারা সকলেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ