Samakal:
2025-04-03@15:24:59 GMT

‘একাগ্রতাই নিয়ে আসে সফলতা’

Published: 1st, February 2025 GMT

‘একাগ্রতাই নিয়ে আসে সফলতা’

সিলভিয়া প্লাথ। পুলিৎসারজয়ী আমেরিকান ঔপন্যাসিক, কবি ও গল্পকার। কিংবদন্তি এই সাহিত্যিকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন জসিম উদ্দিন আকাশ 

৯ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জীবনটা আমার কাছে নির্মল আনন্দের ছিল; ছিল অবাধ। তখন আমি জাদু বিশ্বাস করতাম। সেটি ব্যাপক প্রভাবিত করেছিল আমাকে। এরপর, ৯ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর আমার যেন স্বপ্নভঙ্গ ঘটল। রূপকথার জগতের ওপর থেকে বিশ্বাস কমে যেতে থাকল আমার। হয়ে ওঠতে থাকলাম বাস্তববাদী এবং অনেকটা বিষণ্নও। আমার ধারণা, ষোলো-সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত এ রকম একটি রূপান্তরের ভেতর দিয়ে গিয়েছিলাম আমি। কৈশোরটা আমার মোটেও আনন্দের ছিল না। সম্ভবত এ কারণে ডায়েরি, গল্প এবং আরও নানাবিধ বিষয়ে লেখালেখি করতে থাকি। বলাবাহুল্য, জীবনের প্রথম পর্যায়ে খুব অন্তর্মুখী মানুষ ছিলাম আমি।
ট্যাবুর আলো.

..
আস্তে আস্তে দেখলাম, আমেরিকান বিষয়বস্তু আমাকে টানে। নতুন নতুন ব্রেকথ্রু আমাকে দুর্দান্ত রোমাঞ্চিত করে। যেমন ধরুন, রবার্ট লয়েলের ‘লাইফ স্টাডিজ’। এই সিরিয়াস,  ব্যক্তিগত, আবেগাত্মক অভিজ্ঞতা– যা কিনা আমার কাছে খানিকটা ট্যাবু বলে মনে হয়। সেটি একটি ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে কবিতায়। এই উদ্ভট, একান্ত ও ট্যাবু বিষয়বস্তুগুলো সমকালীন আমেরিকান কবিতায় আলো ছড়িয়েছে বলে বিশ্বাস করি আমি।
লেখককে এগিয়ে নেয় ভাষা 
আমার লেখার ভাষা, আমার মুখের ভাষা আমেরিকান। আমি মনে করি, ভাষাই এগিয়ে নিয়ে যায় লেখককে। এ ক্ষেত্রে নিজেকে একজন সেকেলে আমেরিকান বলে বিশ্বাস করি আমি। এর একটি বড় কারণ সম্ভবত আমার ইংল্যান্ডে বসবাস করা। যদি অতীতে, পঞ্চাশ বছর পেছনে তাকাই, টের পাই, আমাকে উদ্বেলিত করা কবির অধিকাংশই আমেরিকান। অন্যদিকে খুব অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ কবি আমাকে দোলা দেয়। এ যেন খানিকটা স্ট্রেট-জ্যাকেটের মতো ব্যাপার। ব্রিটিশ সমালোচক অ্যালভারেজ, ইংল্যান্ডের ভদ্রতার বিপদ সম্পর্কে তাঁর বিতর্ককে আমি সত্য বলে মনে করি। নিশ্চিত করে বলতে চাই, খুব একটা ‘সুশীল’ আমি নই। অনুভব করি, ‘ভদ্রতার’ একটি ভয়ংকর অবদমন রয়েছে। মনে পড়ে, একবার কেমব্রিজে এক তরুণী এসে আমাকে বলেন, ‘লেখালেখি করার, কবিতা ছাপানোর সাহস কী করে পান আপনি; যেখানে একটি লেখা ছাপা হওয়ার পর মুখোমুখি হতে হয় হাজারো ভয়ংকর সমালোচনার?’ 
ইতিহাসের পাঠ 
আমি ইতিহাসবেত্তা নই। তবুও ইতিহাস আমাকে প্রবলভাবে টানে। ফলে প্রতিনিয়ত, যতটুকু সম্ভব, ইতিহাসের পাঠ নিই। নেপোলিয়নের ব্যাপারে আমার আগ্রহ খুব। লড়াই, সংগ্রাম, যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ–ইত্যাদি বিষয় আমাকে কৌতূহলী করে তোলে। অথচ জীবনের প্রথম বিশ বছরে এসব বিষয় সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানা ছিল না। নিজের সংবেদনশীল ও আবেগাত্মক অভিজ্ঞতা থেকেই আমার কবিতার আবির্ভাব ঘটে। আমি বলতে চাই, কোনো সুই কিংবা ছুরি কিংবা এ রকমই হন্তারক কিছু ছাড়া ক্রন্দনমাখা হৃদয়ের আর কোনো বিষয়ের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই আমার। আমি বিশ্বাস করি, সবারই উচিত নিজের অভিজ্ঞতাকে নিয়ন্ত্রণ ও সুনিপুণভাবে ব্যবহার করা। 
একাগ্রতাই নিয়ে আসে সফলতা
নার্সারিতে পড়ার সময় ছড়া খুব ভালো লাগত আমার। তখনই মনে হতো, আমিও এমন লিখতে পারি। এভাবেই প্রথম কবিতা লেখা। আমার লেখা প্রথম কবিতা যখন প্রকাশিত হয়, তখন আমার সাড়ে আট বছর বয়স। ‘দ্য বুস্টন ট্রাভেলার’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল সেটি। তারপর মনে হলো, আমি বোধহয় খানিকটা পেশাদার কবি হয়ে গেছি! শুরুর দিকে প্রকৃতি নিয়ে লিখতাম। এই যেমন পাখি, মৌমাছি, বসন্ত, হেমন্ত– জীবনের গভীরতর অভিজ্ঞতার সঙ্গে তখনও আলাপ না ঘটা ব্যক্তিমানুষের কাছে প্রকৃতি থেকে আসা এসব নিখাদ উপহারই হয়ে উঠেছিল আমার বিষয়বস্তু। আমার ধারণা, বসন্তের আগমনী, মাথার ওপরে নক্ষত্রপুঞ্জ, প্রথম দেখা তুষারপাত আর এ রকম নানা প্রাকৃতিক বিষয়ই একজন শিশুর জন্য, একজন অল্পবয়সী কবির জন্য অনন্য উপহার। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব শ ব স কর বছর বয়স প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

আমার অ্যালার্জির সমস্যা আছে, কী করি?

প্রশ্ন: আমি একজন পুরুষ। আমার অ্যালার্জির সমস্যা আছে। যে কারণে চর্মরোগের ডাক্তার দেখিয়েছি। তবে ডাক্তার দেখানোর পর কিছুদিন ভালো থাকি, আবার সমস্যা দেখা দেয়। অ্যালার্জি হলে ছোট ছোট আকারের ফুসকুড়ি দেখা দেয় ত্বকে। যেগুলো গেলে দিলে আবার বাদামের গুঁড়ার মতো লাগে। চর্মরোগের ডাক্তার আমাকে কিছু ক্রিম, ট্যাবলেট ও সাবান সাজেস্ট করেছেন আর সেসব তিন মাস ব্যবহার করতে বলেছেন। এখন আমি কী করব। অনুগ্রহ করে বলবেন।

বিপ্লব।

পরামর্শ: আপনার অ্যালার্জিজনিত সমস্যা শরীরের কোথায় হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ছবি না থাকায় ধারণা করছি আপনার ফুসকুড়িগুলো মূলত ব্রণ বা অ্যাকনি। সাধারণত ব্রণের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভেতর থেকে এমন সাদা শালের মতো পদার্থ বের হয়, যা মুখ, পিঠ, ঘাড়, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে। ব্রণ সাধারণত হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত তেল ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব এসব কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্রণ হতে পারে। অনেক সময় থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও ব্রণ হয়। এ ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই আবার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ব্রণ হওয়ার সঠিক কারণ জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসাব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

যদি হরমোনজনিত সমস্যা থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট পরীক্ষা করিয়ে সঠিক ওষুধ সেবন করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের একটি কোর্স শেষ করতে হতে পারে। অপর দিকে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলে অ্যালার্জি প্যানেল টেস্ট করিয়ে সঠিক ওষুধ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। এ নিয়মগুলো মেনে চললে আশা করা যায়, আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

আরও পড়ুনমাংসে যখন অ্যালার্জি১৮ জুলাই ২০২২

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঈদ আসলেই মনে পড়ে ঈদ কার্ডের কথা
  • শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
  • শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
  • চট্টগ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
  • তীব্র আপত্তির মুখেই লোকসভায় ওয়াক্‌ফ বিল পাস, রাজ্যসভায় উঠছে আজই
  • ইটভাটায় শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতন, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী 
  • আশাশুনিতে মদপানে তিন যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ৯  
  • চলন্ত ট্রেনের ছাদে ‘টিকটক ভিডিও’ করছিলেন ৪ তরুণ, পড়ে দুজনের মৃত্যু
  • আমার অ্যালার্জির সমস্যা আছে, কী করি?
  • চীন সফর নিঃসন্দেহে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সফলতা: মির্জা ফখরুল