ট্রলার থামাতে বলায় নাফ নদে ঝাঁপ, মাদক কারবারির মৃত্যু
Published: 1st, February 2025 GMT
কোস্টগার্ডের হাত থেকে বাঁচতে নাফ নদে ঝাঁপ দিয়ে এক মাদক কারবারির মৃত্যু হয়েছে। অভিযানের সময় ট্রলারে এক লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন আটক হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুস শফি (৪৫)। তিনি শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গরপাড়ার বাসিন্দা। আর আটক তুহিন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তবে শফির পরিবারের দাবি, মারধরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কোস্টগার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, আজ সকালে নাফ নদে ট্রলারে করে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় চালান পাচারের খবরে অভিযান চালানো হয়। নাফ নদের জলসীমার শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা একটি ট্রলার দৃশ্যমান হয়। কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারটিকে থামানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করে মাদক কারবারিরা ট্রলারটি নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ট্রলারে থাকা এক ব্যক্তি নদে ঝাঁপ দেন। তাঁকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ট্রলার মালিক হেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, শফির পরিবারের দাবি অসত্য। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ট্রলার মালিক হেলাল একজন মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নওশাদ আলম কানন বলেন, পানিতে ডুবে শফির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে। শফির ভাই আবদুল করিম তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, শফির পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
ঘটনাটি দুই বছর আগের। আফরান নিশোর অভিষিক্ত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’মুক্তি পাওয়ার সময়। সে সময় সিনেমার প্রচারণায় বিভিন্ন সময়ে শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন আফরান নিশো। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে একেবারে চুপচাপ থেকেছেন সাকিব খান। যা বলার ভক্তরাই যেনো বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিশো সম্ভবত মানসিক অশান্তিতেই ছিলেন বিষয়টি নিয়ে। তাই দুই বছর হলেও বিষয়টি ক্লিয়ার করলেন। কৌশলী হয়ে এক প্রকার ভুলও স্বীকার কলে নিলেন!
সম্প্রতি এক স্বাক্ষাৎকারে সে সময়ের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন আফরান নিশো। অভিনেতা বলেন ‘সে সময়ে যেটা ঘটেছিল, এটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। এইটা খুবই অনাঙ্খিত। আমি শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না’
এটা কোনো ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছি না, আমি খুব স্পষ্ট এবং দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই এইটা ভুল বোঝাবুঝি। কোনো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে কটূক্তি করা কখনোই ইনটেনশন ছিল না। সেটা এখনও নেই, সামনেও থাকবে না। অনেক সময় প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই কথাতে চলে আসে। সেই কথার রেশ ধরে কেউ হয়তো চাইল যে ঝগড়াটা একটু বাড়িয়ে দিই বা একটু কমিয়ে দিই। আমার জায়গা থেকে কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। কখনও আমি দেখাইও না।’
এরপর শাকিব খানের কথা টেনে আফরান নিশো বলেন, “যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে সে আমার অগ্রজ। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সিনিয়র। তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি।
আমার যখন ‘সুড়ঙ্গ’ রিলিজ হয় তখনো তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে অনেক কথা বলেছি। একজন মানুষ যার এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার, এত কিছু দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে, বিনিময়ে সে সম্মানটুকু ডিজার্ভ করেন।
নিশো আরও করেন, এর বিনিময়ে তিনি সম্মান ছাড়া আর কিছু চান না। আমার তরফ থেকে তিনি সম্মানের তুঙ্গেই থাকবেন সব সময়। তার পরও যদি এই বিষয়টা তিনি (শাকিব খান) মনে নিয়ে থাকেন তাহলে বলব, আপনি এটা একদমই মনে রাখবেন না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা একদমই ভুল-বোঝাবুঝি।
সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষে এসে প্রশ্ন করা হয় শাকিব খান এবং আফরান নিশো দুই অভিনেতা একসঙ্গে সিনেমাতে পাওয়া যাবে কি না? উত্তেরে নিশো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। এ রকম কিছু এলে আমি বরং খুশিই হবো।’