মালিতে সোনার খনিতে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু
Published: 1st, February 2025 GMT
দক্ষিণ-পশ্চিম মালিতে সোনার খনিতে নারী ও তিন শিশুসহ ১৩ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ গোল্ড কাউন্টারস অ্যান্ড রিফাইনারিজ (ইউসিআরওএম) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউসিআরওএম-এর মহাসচিব তাউলে কামারা রয়টার্সকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, মালির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌলিকোরো অঞ্চলের কাঙ্গাবা সার্কেলের ডাঙ্গা গ্রামের কাছে একটি খোলা সোনার খনিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
খনির সুড়ঙ্গে নারী ও শিশুরা মাটি খুঁড়ে অবশিষ্ট সোনার কণা খুঁজছিল। ওই সময় একটি জলাধারের স্লুইস গেট ভেঙে সুড়ঙ্গে পড়ে যায়।
তাউলে কামারা বলেছেন, “এটা গুরুতর। অনেক নারী ছিলেন। গতকাল থেকে আমরা সারাদিন পানি অপসারণ করে মৃতদেহগুলো খুঁজতে শুরু করেছি।”
পশ্চিম আফ্রিকার বেশিরভাগ অংশে খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা সাধারণ বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধাতুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ক্রমবর্ধমান দামের কারণে এটি আরো লাভজনক হয়ে উঠেছে। খনি শ্রমিকরা প্রায়ই অনিয়ন্ত্রিত খনন পদ্ধতি ব্যবহার করায় মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ঢাকা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ঢাকার ছাদ রেস্তোরাঁয় তাপপ্রবাহের বিপদ
পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা কিংবা নিরিবিলি সময় কাটাতে কয়েক বছর ধরে খোলামেলা পরিবেশে ছাদ রেস্তোরাঁকে বেছে নিচ্ছেন নগরের বাসিন্দারা। বদ্ধ রাজধানীতে বিনোদন ও মনোরঞ্জনে এ ধরনের রেস্তোরাঁকে অনন্য বলছেন অনেকেই।
তবে ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দুই শর মতো ছাদ রেস্তোরাঁর কোনোটিরই অনুমোদন নেই। এসব রেস্তোরাঁ নিয়ে চিন্তিত পরিবেশবাদীরা, এমনকি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (রাজউক)। ছাদে উচ্চ তাপে রান্না এবং প্লাস্টিক–জাতীয় দাহ্যবস্তু ব্যবহার করে সাজানোর কারণে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এর আশপাশের ভবনে আগুন লাগা এবং তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ঝুঁকি ও অবৈধতার প্রশ্নে কয়েকটি ছাদ রেস্তোরাঁ ভেঙেও দিয়েছে রাজউক। তারপরও নিয়মনীতি ও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন এ ধরনের রেস্তোরাঁর সংখ্যা বাড়ছে। বাদ যায়নি সরকারি ভবনের ছাদও।
বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঢাকা শহরে যে তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়, তা কমাতে ঢাকার বহুতল ভবনের ওপর ছাদবাগান হতে পারে অন্যতম বিকল্প। কিন্তু ছাদবাগানের পরিবর্তে ভবনের ছাদগুলো হয়ে উঠছে একেকটি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। ফলে যে ছাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতিরিক্ত তাপমাত্রা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারত, তা–ই বাড়িয়ে তুলছে তাপপ্রবাহ।
রাজউক বলছে, এসব রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গিয়ে চাপের মুখে পড়েছে সংস্থাটি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভাষ্য, মেগা সিটি ঢাকায় বহুতল ভবনের ছাদে রেস্তোরাঁ এখন গোদের ওপর বিষফোড়া।
ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দুই শর মতো ছাদ রেস্তোরাঁর কোনোটিরই অনুমোদন নেই। এসব রেস্তোরাঁ নিয়ে চিন্তিত পরিবেশবাদীরা, এমনকি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (রাজউক)।অনুমোদন দেয়নি রাজউক
গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজে আগুন লাগে। এ ঘটনার পর ৫ মার্চ রাজউকের একটি মতবিনিময় সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে রাজউকের আওতাধীন ৮টি জোনের ২৪টি সাবজোনের কর্মকর্তাদের ২১ মার্চের মধ্যে অনুমোদিত নকশা অনুসারে ও নকশার ব্যত৵য় করে পরিচালিত রেস্তোরাঁর তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রাজউকের তালিকা ধরে গুগল ম্যাপ এবং রেস্টুরেন্ট লোকেটর ব্যবহার করে ঢাকা শহরে ২০০টির বেশি ছাদ রেস্তোরাঁর খোঁজ পাওয়া গেছে।নির্দেশনা অনুসারে গত বছরের মে পর্যন্ত রাজউকের মোট ২৪টির মধ্যে ১২টি সাবজোনের কর্মকর্তারা রাজউকের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ–১–এর পরিচালকের কাছে রেস্তোরাঁর তালিকা পাঠান। সেই তালিকা প্রথম আলোর কাছে এসেছে। তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৮১৯টি রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করতে পেরেছেন কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে ছাদ রেস্তোরাঁ আছে ২৫টি। সব কটিই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদে স্থাপিত রেস্তোরাঁর ৯৯ শতাংশই অননুমোদিত, রাজউকের পক্ষ থেকে এগুলোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।আশরাফুল ইসলাম, রাজউকের প্রধান নগর–পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব)রাজউকের তালিকা ধরে গুগল ম্যাপ এবং রেস্টুরেন্ট লোকেটর ব্যবহার করে ঢাকা শহরে ২০০টির বেশি ছাদ রেস্তোরাঁর খোঁজ পাওয়া গেছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি, আগারগাঁও, গুলশান ও সাভার এলাকার অন্তত ১৫টি ছাদ রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বহুতল ভবনের ছাদগুলোকে রেস্তোরাঁ স্থাপনের জন্য বেছে নিয়েছেন মালিকেরা। ছাদগুলোর একাংশে রান্নার সরঞ্জাম বসিয়ে দিনের ১১–১২ ঘণ্টা উচ্চ তাপে বাংলা, থাই এবং চায়নিজ খাবার রান্না করা হচ্ছে। কোনো কোনো রেস্তোরাঁর এক পাশে টিন বা কৃত্রিম উপকরণ দিয়ে ছাউনি এবং কাচ দিয়ে ঘেরা ছোট কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কয়েকজনের বসার ব্যবস্থা আছে। বাদবাকি ছাদে প্লাস্টিকের সরঞ্জাম, কাঠ ও বাঁশের উপকরণ এবং টবে গাছ লাগিয়ে সাজানো হয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনের রান্না হয়। ছুটির দিনগুলোতে রান্নার পরিমাণ বাড়ে দেড় থেকে তিন গুণ।
রাজউকের প্রধান নগর–পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদে স্থাপিত রেস্তোরাঁর ৯৯ শতাংশই অননুমোদিত, রাজউকের পক্ষ থেকে এগুলোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের মতো করে তৈরি করা হয়েছে এবং সেভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা বেশ কয়েকটি রুফটপ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছি, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে বাকিগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অবৈধ এসব রেস্তোরাঁর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে গেলে নানামুখী চাপের মধ্যে পড়তে হয় উল্লেখ করে আশরাফুল ইসলাম বলেন, এসব রেস্তোরাঁ পরিচালিত হওয়ার পেছনে রেস্তোরাঁ ও ভবনমালিকের পাশাপাশি যাঁরা সেখানে যান, সবার দায় আছে।
কোনো ছাদ রেস্তোরাঁকে অগ্নিনিরাপত্তার সনদ দেয়নি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, কয়েক বছর আগে দু–তিনটি রেস্তোরাঁকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু ঝুঁকি বিবেচনায় সেগুলোরও নবায়ন আবেদন গ্রহণ করেনি ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে ছাদ রেস্তোরাঁর অগ্নিনিরাপত্তার সনদ দেওয়া বন্ধ আছে।বিধিমালায় নেই
বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় ভবনের ছাদে বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। বিধিমালায় ছাদে পতিত বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং তা ব্যবহারের উপযুক্ত ব্যবস্থা ইমারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মূল ভবন ৫০০ বর্গমিটারের বেশি হলে ছাদে সংগৃহীত বৃষ্টির পানি পুনর্ব্যবহার এবং পানি ভূগর্ভে পাঠানোর ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডেও (বিএনবিসি) বহুতল ভবনের ছাদে রেস্তোরাঁ নির্মাণের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে ভবন ব্যবহারের জন্য ব্যবহার বা বসবাসযোগ্যের সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
এদিকে উন্মুক্ত স্থানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভবনের ছাদকে ব্যবহারের ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সরাসরি ছাদে পড়ার ব্যবস্থা, গাছ লাগানো বা ছাদবাগান, বসার স্থান, দোলনা, খোলা ছাউনির ব্যবস্থা করা হলে ১০ শতাংশ গৃহকর মওকুফ করার ব্যবস্থা করেছে ডিএনসিসি।
বহুতল ভবনের ছাদে বানানো হয়েছে রেস্তোরাঁ। সাজানো হয়েছে বাঁশ, কাঠ ও প্লাস্টিকজাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে। এতে আগুন লাগার আশঙ্কা বাড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটে