বন্দরের শীর্ষ মাদক কারবারি মো. আলী বাস ডাকাত দলের আঞ্চলিক কমান্ডার
Published: 1st, February 2025 GMT
বন্দরের উত্তরাঞ্চলের শীর্ষ মাদক কারবারি মোহাম্মদ আলী অন্তরালে গড়ে তুলেছে এক ভয়ঙ্কর সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। মোহাম্মদ আলী যাত্রীবাহী বাস ডাকাত দলের আঞ্চলিক কমান্ডার।
তার নিয়ন্ত্রণে চালিয়ে যাচ্ছে র্যাব পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি। ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় গত দেড় মাসে যাত্রীবাহী বাসে পৃথক তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে এ বাহিনী।
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও দুই প্রবাসী সহ তিন ব্যবসায়ীকে বাস থেকে টেনে হেঁচড়ে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা লুটে নেয়ার ঘটনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে মোহাম্মদ আলী।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ২১ লাখ টাকা সহ দুই প্রবাসীকে বাস থেকে টেনে হেঁচড়ে নামানোর ধারণকৃত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে পুলিশের।
ধারণকৃত ওই ভিডিওতে থাকা শহিদুল ইসলাম মাঝি (৫৪), নেসার উদ্দিন বাচ্চু (৫২) ও বাবুল (৪০) নামে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই জহিরুল ইসলাম।
জানাগেছে, আবু হানিফ (৩৫) ও রাজিব ভূঁইয়া (৩৫) দুই প্রবাসী গত ১৪ জানুয়ারি ডুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। বিমানবন্দর থেকে তারা একটি প্রাইভেটকার যোগে বাইতুল মোকাররম মার্কেটে এসে ডলার ভাঙ্গান। তার পর রাজধানী ফ্লাইওভার থেকে এশিয়া লাইন (১৪-৭৫৩৩) যাত্রীবাহী বাসে উঠে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা ।
দুপুর আড়াই টার দিকে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দর থানাধীন জাঙ্গাল এলাকায় আব্দুল মোনেম লিমিটিড গেইটের সামনে বাসটি পৌঁছালে একটি সাদা রংয়ের হাইয়েজ বাসটি গতিরোধ করে ৩/৪ জন লোক র্যাবের কটি পরিহিত অবস্থায় বাসের ভেতর প্রবেশ করে।
এরপর ডাকাতরা নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রবাসী রাজিব ভূইয়া ও আবু হানিফের বিরুদ্ধে মামলা আছে বলে বাস থেকে নামিয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত হাইয়েজ গাড়িতে তুলে।
এসময় প্রবাসীদের সঙ্গে থাকা কালো ও বুলু রংয়ের ব্যাগে থাকা নগদ ৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড, ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান পাউন্ড,২টি মোবাইল ফোন, ৩টি পাসপোর্ট সহ ২১ লাখ টাকার মালামাল জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে ডেমরা এলাকার একটি পরিত্যাক্ত রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এঘটনায় প্রবাসী আবু হানিফ বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ৪ জানুয়ারি কুমিল্লা দেবিদ্ধারের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম(৫০) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ৬৫ লাখ নিয়ে এশিয়া লাইন পরিবহনে ঢাকা আসার পথে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় পৌঁছালে র্যাব পরিচয়ে বাস নামিয়ে একই কায়দা সর্বস্ব লুটে নিয়ে ডাকাতদল।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাতে চট্রগ্রাম সদর থানার ২২ গোলাপ সিং লেন এলাকার মৃত সুকুমার রায়ের ছেলে চন্দন রায় (৫৩) ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম যাচ্ছিলেন। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের লাঙ্গলবন্দ পৌঁছালে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ হানিফ পরিবহন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে র্যাব পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাসে ৩ টি ডাকাতির ঘটনায় আঞ্চলিক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি প্রদান করে তারা। গ্রেপ্তারকৃত সকলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ ল ইসল ম
এছাড়াও পড়ুন:
শুক্রবার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্রে নদে মহা অষ্টমীর স্নানোৎসব শুরু
বন্দরের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে আগামীকাল শুক্রবার রাত ২ টা ৮ মিনিট থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমী স্নানোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপমোচনে স্নানোৎসব শেষ হবে আগামীকাল শনিবার রাত ১২ টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত।
স্নানোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূণার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ইতিমধ্যে স্নান এলাকায় ২০ টি স্নান ঘাটলায় কাপড় পাল্টানো, চিকিৎসা সেবায় ভ্রাম্যমান কেন্দ্র, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ, ও পূণার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় হাজার সদস্যরা। স্নান এলাকায় টহলে থাকবেন সেনাবাহিনী, র্যাব, ব্রহ্মপূত্র নদে টহলে থাকবে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড।
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আগত পূর্ণার্থীদের সুবিধার্থে ১৬০ টি শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। স্নান এলাকায় নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সিসিটিভির পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে ড্রোন। পূর্ণার্থীদের নিরাপত্তা জোর লাঙ্গলবন্দ জুড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
কথিত আছে, তৃতা যোগে অতীতে জমদগ্নি মহামুনির রেনুকা নামে এক রাজবংশীয় পরমাসুন্দরী স্ত্রী ছিল। তাদের ছিল পাঁচ পুত্র। সর্বকনিষ্ঠের নাম ছিল পরশুরাম। ঘটনাক্রমে মার্তিকাবর্ত দেশের রাজাকে সস্ত্রীক জলবিহার করতে দেখে আশ্রমবাসিনী রেণুকা কামস্পৃহ হয়ে পড়েন এবং নিজের পূর্ব-রাজকীয় জীবন সম্পর্কে স্মৃতিবিষ্ট হন।
মুনি স্ত্রীর এই আসক্তি দেখে ক্রোধান্বিত হয়ে পাঁচ পুত্রকে তাদের মাতাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু কোন পুত্রই মাতৃহত্যার মতো নিষ্ঠুর কাজ করতে রাজি হলো না। তখন মুনি তার প্রিয় পুত্র পরশুরামকে আদেশ দিলে পরশুরাম এক কুঠারের আঘাতে মাকে হত্যা করেন। মাকে হত্যা করে পরশুরাম পরম পাপী হিসেবে চিহ্নিত হন।
পাপের শাস্তি হিসেবে কুঠারটি তার হাতে আটকে থাকে। শত চেষ্টা করেও তা থেকে তিনি মুক্ত হতে পারলেন না। তখন পিতা তাকে বিভিন্ন তীর্থস্থানে গিয়ে পাপমুক্ত হতে বলেন। মাতৃহত্যার ভয়াবহ পাপের অনুশোচনা নিয়ে তিনি তীর্থ থেকে তীর্থে ঘুরে বেড়ান।
দেবতা ব্রহ্মপুত্র তখন হিমালয়ের বুকে হ্রদরূপে লুকিয়ে ছিলেন। দৈবক্রমে পরশুরাম ব্রহ্মপুত্রের মাহাত্ম্যের কথা জানতে পারেন। তিনি খুঁজে পেলেন হিমালয়ে লুক্কায়িত ব্রহ্মপুত্র হ্রদ এবং প্রার্থনা জানালেন যেন এর পবিত্র জলে তার পাপ মুক্ত হয়।
তিনি হ্রদের জলে ঝাঁপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতে আটকে থাকা কুঠারখানা খসে পড়ে। এভাবে তিনি মাতৃহত্যার প্রায়শ্চিত্ত থেকে মুক্ত হলেন। ব্রহ্মপুত্রের এই অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন পাপহরণকারী জল যাতে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এ উদ্দেশ্যে পরশুরাম সেই জলধারাকে সমতল ভূমিতে নিয়ে আসার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন।
তিনি কুঠারখানা লাঙলের ফলকে বেঁধে সেই ফলক দিয়ে নালা সৃষ্টি করে ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলধারাকে সমতল ভূমিতে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ সময় ও পথ পরিক্রমায় পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে তিনি ব্রহ্মপুত্রের জলধারাকে বিভিন্ন জনপদ ঘুরিয়ে অবশেষে বর্তমান লাঙ্গলবন্দে এসে ক্লান্ত হয়ে থেমে যান এবং লাঙল চষা বন্ধ করে দেন।
তার লাঙলের ফলকে তৈরি পথ ধরে ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত হতে থাকে। সেই থেকে এ স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ এবং তা হয়ে ওঠে হিন্দুধর্মের মানুষের জন্য পরম পুণ্যস্থান। এরপর থেকে পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় তীর্থস্থানে পাপ মোচনের ভাসনায় ভ্রমণে আসেন লাঙ্গলবন্দে।