সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা সেখানে অবস্থান নেন। এতে মহাখালী থেকে গুলশান-১ এ যাওয়ার বীর উত্তম এ কে খন্দকার সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই সড়কে চলাচলকারী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে টানা তৃতীয় দিনের মতো আজ সড়ক অবরোধের কারণে গুলশান, বাড্ডা, মহাখালী ও তেজগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ফলে এই সড়কে চলাচলকারী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে অফিসফেরত মানুষকে দীর্ঘসময় যানজটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এর আগে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর আবার কলেজের সামনে ফিরে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তারা গুলশান-১ নম্বর চত্বরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

আন্দোলনকারীদের একজন শিক্ষার্থী জাহিদ রানা বলেন, আমরা ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। আমার ভাইয়েরা এ নিয়ে অনশন করে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই আমরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এখানে সড়ক অবরোধ করেছি।

এখানে কতক্ষণ সড়ক অবরোধ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কেউ এসে বিষয়টি সুরাহা না করছেন, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। 

এসময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শোনা গেছে। তারা বলছেন, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘তিতুমীর আসছে, রাজপথ কাঁপছে’,  ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না’, ‘অধ্যক্ষের সিন্ডিকেট, মানি না মানবো না’, ‘আমাদের সংগ্রাম, চলছে চলবে’।

এসময় যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাখালী আমতলী এলাকায় জলকামানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ত ত ম র কল জ অবর ধ সড়ক অবর ধ

এছাড়াও পড়ুন:

অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগে কাশিয়ানী থানার ওসি ক্লোজড

অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউদ্দিন খানকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তাকে ক্লোজড করা হয়। গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরীহ মানুষকে মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে শফিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। এমনকি, এক ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার বিষয়ে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। তবে এর ৪৮ ঘণ্টা পার না হতে তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। 

আরো পড়ুন:

বাড়িতে প্রেমিকের রক্ত ছিটিয়ে নিখোঁজের নাটক

ডাবল মার্ডারে গ্রেপ্তার, তাহসিন হত্যাকাণ্ডে রিমান্ডে ছোট সাজ্জাদ

এ ব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক শফিউদ্দিন খান তার বিরুদ্ধে আনিত অনিময় ও ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, শফিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে। 
 

ঢাকা/বাদল/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ