কক্সবাজারের টেকনাফের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতে নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল দ্বীপটিতে ভ্রমণের শেষ দিন ছিল পর্যটকদের।

পর্যটন মৌসুমের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এমএ রহিম জিহাদী বলেন, ‘‘এভাবে আকস্মিকভাবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেলে দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বেন। অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত ছিল।’’

সি-ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘‘অন্তত আরো কিছুদিন সময় দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারতেন।’’

স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘‘শুধু দুই মাসের পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়ে পুরো বছর চলা সম্ভব নয়। আমরা সরকারের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি কোনো পরিবর্তন আসে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

ঢাকা/তারেকুর/রাজীব

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

সাতছড়ি উদ্যানে পর্যটকের ঢল 

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। তারা উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করে মুগ্ধ হচ্ছে। এভাবে পর্যটকের ঢল আরো কয়েকদিন থাকবে বলে মনে করছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ।

এ উদ্যানের ভেতরে রয়েছে অন্তত ২৪টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস।  রয়েছে বন বিভাগের লোকজন। পর্যটকদের জন্য চালু আছে প্রজাপতি বাগান, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার ট্রেইল, খাবার হোটেল, রেস্ট হাউস, মসজিদ, রাত যাপনে স্টুডেন্ট ডরমিটরি। উদ্যানে দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধা জারুল, আওয়াল, মালেকাস, আকাশমনি, বাঁশ, বেত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তুর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি। রয়েছে লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, উল্লুক, ভাল্লুক, চশমাপরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মেছো বাঘ, মায়া হরিণের বিচরণ। সরীসৃপের মধ্যে আছে নানা জাতের সাপ। কাও ধনেশ, বন মোরগ, লাল মাথা ট্রগন, কাঠঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাসস্থল এই উদ্যান।

সাতছড়ি উদ্যানের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ঈদে পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল সাতছড়ি উদ্যান। এ লক্ষ্যে কাজ করা হয়েছে। রয়েছে নিরাপত্তা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যটকরা এসে ঘুরাঘুরি করে মুগ্ধ হচ্ছেন।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মামুনুর রশিদ জানান, সাতছড়িতে প্রচুর বন্যপ্রাণী রয়েছে। রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। মনোরম প্রাকৃতি পরিবেশে ঘুরে পর্যটকরা আনন্দিত। ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হয়েছে বসার আসনগুলো। পর্যটকরা উদ্যানের এমন পরিবেশে মুগ্ধ হচ্ছেন।

তিনি জানান, ঈদের দিন প্রবেশ ফি বাবদ ১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ও পর দিন ৮৯ হাজার ৯৩০ টাকা রাজস্ব এসেছে। এভাবে আরো কয়েক দিন চলবে বলে মনে করছেন তিনি।

সাতছড়িতে প্রতিদিন ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার পর্যন্ত পর্যটক আসেন। উদ্যানে প্রবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট ১১৫ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৬০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১ হাজার ১৫০ টাকা। শুটিংয়ের জন্য ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। পিকনিক পার্টির জন্য জনপ্রতি ২৩ টাকা। পার্কিংয়ের জন্য ছোট গাড়ির ফি ১১৫ টাকা ও বড় গাড়ি ফি ২৩০ টাকা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, বর্তমানে পর্যটকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এ উদ্যানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যটকদের অবস্থান লেগে থাকে। কারণ এখানে সহজে আসা যায়। উদ্যানের গভীর অরণ্যে দেখা যাচ্ছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। আশপাশে রয়েছে চা বাগান। পাশে তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ। উদ্যানে রয়েছে থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা। রয়েছে নিরাপত্তা।

তিনি জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পর্যটক সমাগম বাড়ছে। ঈদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাজানো হয়েছে উদ্যানে অবস্থিত দোকানগুলো।

উদ্যানে আসা পর্যটক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামীম আহমেদ জানান, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের নিয়ে এসে ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। উদ্যানের পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করেছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পর্যটক শাহিন মিয়া, পারুল আক্তার, রুবেল মিয়া, বাবলি সরকার উদ্যান ঘুরে তাদের ভালো লাগার কথা জানান। দেশের নানা প্রাপ্ত থেকে শত শত পর্যটক এ উদ্যানে এসে মুগ্ধ হচ্ছে। পর্যটকের নিরাপত্তায় পুলিশের টহল রয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সাতছড়ি উদ্যান ছাড়াও জেলার বিভিন্ন চা ও রাবার বাগান এবং দর্শনীয় স্থানে পর্যটকরা পরিদর্শন করে মুগ্ধ হচ্ছে।  
 

ঢাকা/মামুন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • পর্যটন কেন্দ্র লোকে লোকারণ্য
  • ঈদের ছুটিতে সোনারগাঁয়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
  • বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ঢল 
  • কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই
  • পাহাড়-নদী-ঝরনার খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ভিড়, খালি নেই হোটেল-মোটেল
  • ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড়
  • সাতছড়ি উদ্যানে পর্যটকের ঢল 
  • ঈদের ছুটিতে মুখর কক্সবাজার সৈকত
  • ঈদ ভ্রমণে পর্যটকদের আকর্ষণ পাহাড় ও মেঘের স্বর্গরাজ্য বান্দরবান
  • খাগড়াছড়ির বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড়