অনেক দেশেই জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে যাওয়া-আসার জন্য পর্যটকদের কাছে ‘ট্যুরিস্ট ট্রেন’-এর কদর বরাবরই অন্য রকম। বাংলাদেশেও পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটক আকর্ষণে ট্যুরিস্ট ট্রেন চালুর কথা জানিয়েছিল সরকার। ট্রেন চালাতে ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৪টি বিলাসবহুল কোচ (বগি) আমদানির উদ্যোগও নেয় রেলওয়ে। কথা ছিল, ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন চালু হওয়ার পরপরই ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু হবে। ফলে ট্যুরিস্ট ট্রেন নিয়ে পর্যটক ও কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সে আগ্রহ এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া ওই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাই প্রশ্ন উঠেছে– ট্যুরিস্ট ট্রেন কি সত্যিই কখনও কক্সবাজারে আসবে, নাকি সবই রেলওয়ের ফাঁকা বুলি।  
জানা গেছে, ২০২০ সালে ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু করতে ৫৪টি কোচ আমদানির উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। তৎকালীন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কোচ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তিনি এ নিয়ে খুব তৎপরতাও দেখান। শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের সুবিধাসম্পন্ন বিলাসবহুল কোচ আমদানি করে ট্রেন চালু করতে পারেননি। অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে বন্ধ রাখা হয় আমদানি প্রক্রিয়া। এখন 
দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আদৌ এ ট্রেন চালু করা হবে কিনা, তা নিয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না রেল কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। স্বাভাবিকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে একটি ট্যুরিস্ট ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছিল রেলওয়ে। এ জন্য বিলাসবহুল কোচ আমদানির প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ সংকট, কোচ আমদানি, ইঞ্জিন ও লোকবল সংকটসহ নানা কারণে এটা পারা যায়নি। তবে রেলওয়ে ট্যুরিস্ট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে কিছুটা সময় লাগছে।’ তবে কবে এ ট্রেন চালু করা যাবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্যুরিস্ট ট্রেন চালুর অংশ হিসেবে ‘প্রকিউরমেন্ট অব ৫৪ ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ ফর অপারেটিং ট্যুরিস্ট ট্রেন ফর ট্যুরিস্ট অব কক্সবাজার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে কোচ আমদানির জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ২০২০ সালের মার্চে রেলওয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সে সময় রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক্যাল) মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি একই বছরের আগস্টে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পর ডিপিপি তৈরি করে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠায় রেলওয়ে। প্রস্তাবনায় ৫৪টি বিলাসবহুল কোচ আমদানির জন্য ব্যয় ধরা হয় ৩৫৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিটি কোচ আমদানিতে খরচ পড়ত ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কথা ছিল, ব্যয়ের ৭৮ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। অবশিষ্ট ২৭৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও প্রকল্পটি রাখা হয়।

প্রকল্প অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি প্রতিদিন দুই জোড়া ট্যুরিস্ট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এক জোড়া ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, এসব ট্রেনের সব ক’টি কোচ হবে বিলাসবহুল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। যাত্রীদের সুবিধার্থে এসব কোচে সুপরিসর বার্থ সার্ভিস ছাড়াও থাকবে রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস, সার্বক্ষণিক গার্ড, ওয়েটার সুবিধা ও যাত্রাপথে স্বচ্ছ আয়নার জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের ব্যবস্থাও। যেসব কোচ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে ছিল ছয়টি মিটারগেজ ট্যুরিস্ট কার, ১৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার, ২২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, সাতটি পাওয়ার কার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডাইনিং কার ও গার্ড ব্রেক।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু 
করা গেলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারের আকর্ষণ ও গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ ও নিরাপদ করবে ট্রেন যোগাযোগ।
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ক চ আমদ ন র প রকল প য় র লওয়

এছাড়াও পড়ুন:

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি ‘মুজিব বর্ষ ১০০’ পঞ্জিকার এখন অস্তিত্বই নেই

‘মুজিব বর্ষ ১০০’ নামে একটি বিশেষ পঞ্জিকা যৌথভাবে তৈরি করেছিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় তহবিল। এতে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় তিন লাখ টাকা। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বানানো এই পঞ্জিকার প্রথম মাসের নাম ছিল ‘স্বাধীনতা’। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন (১৭ মার্চ) ছিল এই মাসের প্রথম দিন। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মতো এটিরও গণনা করার কথা ছিল ৩৬৫ দিন ধরে। ২০২০ সালের ১৬ মার্চ পঞ্জিকাটির উদ্বোধন করেছিলেন তখনকার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পঞ্জিকাটি শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।

এই পঞ্জিকায় ১২টি মাস আছে। তবে কোনো অধিবর্ষ (ইংরেজি লিপইয়ার) নেই। ১২ মাসের নাম দেওয়া হয়েছিল—স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা ও ভাষা। ২০২০ সালের ১৬ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শ্রমসচিব কে এম আলী আজম পঞ্জিকাটির মোড়ক উন্মোচন করে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, পঞ্জিকায় বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। সব অংশীজনের মতামত নিয়ে ক্যালেন্ডারটি চূড়ান্ত করে এরপর সরকারি সব দপ্তরে রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বানানো পঞ্জিকা

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • চীনের বিবাহসংকট কেন সবার মাথাব্যথার কারণ
  • আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি ‘মুজিব বর্ষ ১০০’ পঞ্জিকার এখন অস্তিত্বই নেই